সময় কলকাতা ডেস্ক:- গণধর্ষণের ঘটনার পরে ৩০ জুন থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দক্ষিণ কলকাতার ল’কলেজের ক্যাম্পাস। দীর্ঘ টালবাহানার পরে আজ, সোমবার থেকে খুলে গেল কলেজ গেট। তার আগে রবিবার দুপুরে মাত্র ১৫ মিনিটের জন্য অনলাইনে একটি মিটিং করা হয়।
সেখানে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে তেমন কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারল না কর্তৃপক্ষ। মিটিংয়ের আয়োজক ছিলেন কলেজের বিতর্কিত ভাইস প্রিন্সিপাল নয়না চট্টোপাধ্যায়। যাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত মনোজিতের সুসম্পর্ক এবং তাকে ‘আশ্রয়’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কলকাতা পুলিশের তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, কলেজে পঠনপাঠন চালানোর ব্যাপারে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তবে, ঘটনাস্থল, অর্থাৎ যেখানে নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, সেই গার্ডরুম এবং ইউনিয়ন রুম কোনওভাবেই খোলা বা ব্যবহার করা যাবে না। তদন্তকারী আধিকারিকদের অনুমতি ছাড়া কোনও অফিসিয়াল নথিপত্র নষ্ট করাও যাবে না।
আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হবে প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা। ফলে, কলেজ বন্ধ থাকায় একদিকে যেমন পঠনপাঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল, তেমনই থমকে ছিল প্রশাসনিক কাজকর্ম। ঘটনাস্থল সিল করে রাখার পরেও কেন গোটা কলেজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রশ্ন তুলে বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
সোমবার থেকে কলেজ শুরু হয়েছে সকাল ৮টা থেকে, চলবে দুপুর ২টো পর্যন্ত। এরপর শিক্ষক, অশিক্ষক, ছাত্রছাত্রী সকলকে কলেজ ছাড়তে হবে। প্রথম সেমেস্টারের ফর্ম ফিলাপ করা যাবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত।
আপাতত এলএলএম কোর্সে থাকা ছাত্রছাত্রীদেরই ক্লাস শুরু হবে। বিএ-এলএলবি কোর্সের ক্লাস আপাতত শুরু হচ্ছে না। তবে ওই কোর্সের চতুর্থ, ষষ্ঠ ও অষ্টম সেমেস্টারের ছাত্রছাত্রীরা তাঁদের প্রজেক্ট পেপার জমা দিতে কলেজে আসবেন।
মঙ্গলবার চতুর্থ সেমেস্টারের পড়ুয়ারা আসবেন। বুধবার আসবেন ষষ্ঠ সেমিস্টারের পড়ুয়ারা। আর বৃহস্পতিবার আসবেন অষ্টম সেমেস্টারের পড়ুয়া। এ ভাবে ভাগাভাগি করেই কলেজ চলবে। প্রত্যেককে নিজের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ঢুকতে হবে।
বহিরাগতদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে কেউ এলে কলেজে কেন এসেছেন তার কারণ নিরাপত্তারক্ষীকে জানাতে হবে। কলেজের গেটে নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব থাকবে স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষীদের।
যেহেতু পুলিশের তরফে কলেজের অ্যাটেন্ডেন্স খাতা, লগবুক চাওয়া হয়েছে, তাই আপাতত একটি রাফ খাতায় সই করে শিক্ষক-কর্মীদের উপস্থিতি নথিভুক্ত করতে হবে। তাছাড়া কলেজের বিভিন্ন ফাইল বা জরুরি কাগজপত্র কাদের কাছে কী আছে তাও জানাতে হবে কর্তৃপক্ষকে।
কলেজে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পরেই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। জানা গিয়েছে, কলেজের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরার অ্যাকসেস রয়েছে মনোজিৎ এবং তার ঘনিষ্ঠ দুই শিক্ষাকর্মীর কাছে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?