Home » ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক; লাফাচ্ছে বিজেপি, কী ভাবছে তৃণমূল?

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্ক; লাফাচ্ছে বিজেপি, কী ভাবছে তৃণমূল?

সময় কলকাতা ডেস্ক:- বিহারের পর বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করার কথা ভেবেছে নির্বাচন কমিশন। তবে এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই মূলত দুটি ছবি ধরা পড়ছে। একদিকে বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে এখনই লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে, বেশ আনন্দেই রয়েছে। কারও কারও অতি উৎসাহী ভাব এমনই যে ভোটার তালিকায় সংশোধন হলেই বিজেপি ভোটে জিতে যাবে। সেই তালিকায় জ্বলজ্বল করছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাম। তিনিই সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বসিত। আর উল্টোদিকে, এসআইআর নিয়ে উদ্বিগ্ন তৃণমূল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুথ লেভেল অফিসারদের উদ্দেশে পরিষ্কার ভাবে বলেছেন, একজন ভোটারের নামও যেন বাদ না যায়। শুধু তা নয়, জেলা শাসকদেরও তিনি সাফ জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা থেকে কারও নাম বাদ যাচ্ছে কিনা ৫-৬ বার যাচাই করে দেখতে হবে।

তাত্পর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তা নিয়ে কেন শাসক-বিরোধী তর্জা? আসলে বর্তমানে বুথ স্তরে সংগঠন দুর্বল বিজেপির। আসলে গত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটের নিরিখে বাংলায় বিজেপির ৩৮ শতাংশ ভোটার রয়েছে। অথচ অন্তত ৫০ শতাংশের বেশি তথা ৪০ হাজারেরও বেশি বুথে বিজেপির সংগঠন নেই বললেই চলে।

শুভেন্দু অধিকারী-শমীক ভট্টাচার্যরা মনে করেন, ভোটার লিস্টে মৃত বা ভুয়ো ভোটারদের যে নাম রয়েছে সেই ভোট দিনের শেষে তৃণমূলই ফেলে দেয়। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেও তা রোখা যায় না। সুতরাং ভোটার লিস্ট থেকে যদি মৃত ভোটার, ভুয়ো ভোটার, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী বা স্থায়ী পরিযায়ী শ্রমিকদের নাম যদি বাদ যায়, তবে ভোটে এই ভুয়ো ভোট ফেলার খেলা বন্ধ হয়ে যাবে।

লোকসভা ভোট অনুযায়ী তৃণমূল ও বিজেপির ভোটের ফারাক ছিল ৭.৩ শতাংশ। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে মোট ভোটার ৭ কোটি ৬৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ১৬৫। সেই হিসাবে দুই দলের মধ্যে ভোটের ফারাক রয়েছে মাত্র ৫৬ লক্ষ।

বিজেপি আশা করছে, ভুয়ো ভোটার বা মৃত ভোটারদের নাম বাদ গেলেই এই ফারাকটা কমে দাঁড়াবে ২০ লক্ষেরও কম। তা ছাড়া নতুন ভোটারদের নামও ঢুকবে। সব মিলিয়ে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বহু আসনে তৃণমূল ও বিজেপির লড়াইটা আরও টানটান হয়ে যাবে।

বিশেষ করে গত বিধানসভা ভোটে বা লোকসভা নির্বাচনে যে যে বিধানসভায় শাসক দলের থেকে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজার ভোটে পিছিয়ে ছিল বিজেপি, সেই সব আসন তাঁরা জেতার জায়গায় চলে যাবেন বলে আশা করছেন শুভেন্দু-শমীকরা।

বিহারে ভোটার লিস্টে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের পর ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। বিহারে বিধানসভার ২৪৪টি আসন রয়েছে। অর্থাৎ গড়ে প্রতিটা বিধানসভা পিছু প্রায় ২৭ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এই সংখ্যাটাই উৎসাহ জোগাচ্ছে বিজেপিকে। যদিও, ভোটার তালিকায় বিশেষ সংশোধন নিয়ে এরই মধ্যে আপত্তি তুলেছে তৃণমূল। কংগ্রেসের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সংসদ ভবনে এসআইআরের বিরুদ্ধে প্রতিবাদও করছে।

তৃণমূলের কথায়, প্রান্তিক, গরিব ও সংখ্যালঘুদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আর তার মাধ্যমেই বিপক্ষকে পরাজিত করার স্বপ্ন দেখছে বিজেপি।

তৃণমূলের উদ্বেগ, বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলার বহু মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। তা ছাড়া সরকারি হিসাবে বাংলার ২২ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক ভিন রাজ্যে কাজ করে। ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়ে তাঁদের পাওয়া না গেলে তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হতে পারে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে, ভোটার তালিকায় সংশোধনের কাজ কতটা সুষ্ঠু হবে। দুই রাজনৈতিক দলের চাপের মুখে পড়ে একদিকে বিএলওরা উদ্বেগে পড়েছেন। সেই সঙ্গে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্টরাই বিএলওদের উপর প্রভাব খাটাবেন না তো! কমিশনও হয়তো এসব বিষয় নজরে রাখছে। শুক্রবারও জাতীয় নির্বাচন কমিশনের তরফে নবান্নকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের জন্য আরও বড় দফতরের ব্যবস্থা করা হোক। এখন দেখার বাংলায় ঠিক কবে থেকে ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন শুরু হয় এবং তা শুরু হলে বাস্তবে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় বাংলায়।

About Post Author