Home » বিহারে কেন বাদ ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম? নির্বাচন কমিশনের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

বিহারে কেন বাদ ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম? নির্বাচন কমিশনের জবাব চাইল সুপ্রিম কোর্ট

সময় কলকাতা ডেস্ক:- চলতি বছরেই বিহারে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে সে রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। গত ১ অগস্ট একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে তারা। ওই খসড়া তালিকা থেকে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। এবার বিহারের ভোটার তালিকার সেই বিশেষ সংশোধন নিয়ে নতুন করে মামলা করেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস।

মামলাকারীদের দাবি, নির্বাচন কমিশন বলছে বিহারে ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, অথচ তাদের কোনও বিবরণ দেওয়া হয়নি। এমনকী রাজনৈতিক দলগুলিও ওই বাদ পড়া ভোটারের তালিকা পায়নি। মামলাকারীদের আইনজীবীর প্রশ্ন, বলা হচ্ছে, ৩২ লক্ষ ভোটার স্থায়ী ভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন।

এ বিষয়ে অন্য কোনও বিবরণ দেওয়া হয়নি। এই ৬৫ লক্ষ কারা?

কারা স্থায়ী ভাবে অন্যত্র চলে গিয়েছেন?

কারা মৃত?

এই সব তথ্য প্রকাশ করা উচিত। এ বিষয়ে বুধবার বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি উজ্জ্বল ভূইঞা এবং বিচারপতি এনকে সিংহের বেঞ্চ বলে, নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের এই সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা কমিশনের। জবাবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের যে সেই তথ্য দেওয়া হয়েছে। সেটা তারা আদালতে দেখাতেও পারবে।

এরপরই শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, এ নিয়ে কমিশনের ব্যাখ্যা আদালতে জমা দিতে হবে। কোন কোন রাজনৈতিক দলকে কী কী তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটা আদালতকে লিখিত আকারে জানাক কমিশন। ১২ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি। তার মধ্যেই কমিশনকে জবাব দিতে হবে।

বিরোধীদের অভিযোগ, নিবিড় সংশোধনের পর সংশোধিত যে তালিকা নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছে, সেটাও ত্রুটিপূর্ণ। তাড়াহুড়োর চক্করে বুথ লেভেল অফিসাররা বহু নিয়ম বহির্ভূত কাজ করছেন। ফলে সংশোধিত ভোটার তালিকাও ত্রুটিপূর্ণ। আরজেডির অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসাররা টার্গেট পূরণের জন্য ভোটারদের সঙ্গে কথা না বলেই ফর্ম পূরণ করে দিয়েছেন। অনেক ভোটারের নামে ফর্ম পূরণ হয়েছে, অথচ তিনি জানেন না। বহু মৃত ভোটারের নামেও এভাবেই ফর্ম ফিল আপ হয়েছে।

ফলে ভুয়ো ভোটার ধরার যে দাবি কমিশন করছে, সেটাও ভ্রান্ত। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে কোন কোন রাজনৈতিক দলকে এই তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা আদালতে জানানোর জন্য কমিশনকে নির্দেশ দেন বিচারপতি কান্ত। ১২ আগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। তার মধ্যে কমিশনকে জবাব দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।

About Post Author