Home » ভগ্নদশা বিভূতিভূষণের স্ত্রী গৌরী দেবীর বাড়ির! পুনরায় বাড়িটি সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর!

ভগ্নদশা বিভূতিভূষণের স্ত্রী গৌরী দেবীর বাড়ির! পুনরায় বাড়িটি সংস্কারের দাবি এলাকাবাসীর!

সময় কলকাতা ডেস্ক:- উত্তর ২৪ পরগনা বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট ১নং ব্লকের ইটিণ্ডা-পানিতর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম পানিতর। আর এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতি নদী। এই পানিতর গ্রামে বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম স্ত্রী গৌরী দেবীর বাড়ি। যে বাড়িতে বসেছিল সাহিত্যিকের বিয়ের আসর এবং বকুলবাসর।

সাহিত্যিক নিজের জীবনের বেশিরভাগ সময়টা কাটিয়েছেন ওই গ্রামে। আর সীমান্তের ওই পারে রয়েছে বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা। এই ইছামতি নদীর তীরে বসে লিখেছিলেন একাধিক উপন্যাস। বাড়ির ঠিক পাশে রয়েছে একটি বকুল গাছ।

সেই গাছের তলে বসে তিনি লিখেছিলেন বকুল বাসর থেকে শুরু করে ইছামতি ও আদর্শ হিন্দু হোটেল সহ একাধিক উপন্যাস। যা পড়ে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা ভারত তথা সারা বিশ্ব। আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেই বকুল গাছ। সাথে রয়েছে একাধিক নামকরণ ভবন।

লাইব্রেরী, স্কুল, ধুনির ঘর ও দূর্গা মন্ডপ সহ রয়েছে প্রচুর প্রাচীন ঐতিহ্য। যা আজও বইপ্রেমীদের মননে বহন করে চলেছে। সেই বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্বশুরবাড়ির উত্তরসূরিরা ভবনটি সংস্কার করার জন্য রাজ্য সরকারের হেরিটেজ বিভাগের দ্বারস্থ হন। সমস্ত দলিলপত্র তুলে দেন সরকারের হাতে।

তার স্মৃতি বাঁচিয়ে রাখতে ও এই প্রজন্মের কাছে তাকে তুলে ধরতে এবং পর্যটক কেন্দ্রের পাশাপাশি সীমান্ত গ্রামকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে অর্থ বরাদ্দ করা হয়। সেই অর্থের বেশ কিছুটা সংস্কার ও কয়েকটি বছর ধুমধাম করে তার জন্মদিন থেকে শুরু করে একাধিক অনুষ্ঠান পালন করা হতো ওই গ্রামে।

তারপর আস্তে আস্তে যে জায়গায় ছিল তার থেকেও ভয়ানক পরিস্থিতি বর্তমানে। ওই গ্রামের বাসিন্দারা চাইছেন ওই বাড়িটি যত দ্রুত সম্ভব সংস্কার করা হোক এবং গ্রামের ঐতিহ্যকে আবারও তুলে ধরা হোক। গ্রামের বৃদ্ধ বাসিন্দারা দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছেন বেশ কিছুদিন ওই বাড়িতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা আসতো।

তারপর আস্তে আস্তে সবটাই বন্ধ হয়ে গেল। তবে বর্তমানে বাড়িতে সন্ধ্যা নামলে কিছু অচেনা মানুষের জমায়েত হয় সেখানে।

বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয় বঙ্কিম মুখার্জি বলেন, “প্রথমদিকে বেশ কিছু অর্থ বরাদ্দ হওয়ার পর সংস্কারের কাজ হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ হয়নি। তবে অর্থ তছরুপ হয়েছে এটা তিনি বুঝতে পারছেন। তিনি চাইছেন বাড়িটি পুনরায় সংস্কার করা হোক।

ওই গ্রামে রয়েছে বিভূতিভূষণ গ্রামীণ পাঠাগার। বর্তমানে সাহিত্যিকের লেখা বই পায়ের নিচে জলে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে । সেই লাইব্রেরীতে গজিয়ে উঠেছে পোস্ট অফিস। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মুছে যেতে বসেছে সাহিত্যিকের সাহিত্যকলা। তাদের পূর্বপুরুষ ও গ্রামের মানুষ চাইছেন সরকার আবার উদ্যোগী হলে ভালো হয়। নতুন করে সংস্কার করা হোক এবং সাহিত্যিকের স্মৃতিটুকু বাঁচিয়ে রাখুক সরকার।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট ১নং ব্লকের সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক গোপাল ব্যানার্জিকে জানানো হলে তিনি বলেন, ২০২০-২১ আর্থিক বর্ষে ৩০, লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল তার মধ্যে ২৭ লক্ষ টাকার কাজ হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি জানানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলে ফের সংস্কারের কাজ শুরু হবে।

সাহিত্যিকের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ফের সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও তাঁর আত্মীয়রা। প্রশাসনের তরফেও ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার কত দ্রুত বাড়িটি নবরূপে সেজে ওঠে এবং পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যায়।

About Post Author