মাত্র কয়েক দিনের অপেক্ষা, তারপরই শুরু দুর্গা পুজো। শুধু বায়োয়ারি পুজো নয় বাংলার সর্বত্র ইতিহাসের সাক্ষী বহন করছে বনেদি বাড়ির পুজোও।
পরিবারের পূর্বপুরুষ ছিলেন জমিদার উমেশচন্দ্র পাল। কথিত আছে, তিনি বাড়ির আমবাগানে সকালে হাঁটার সময় লাল পাড় শাড়ি পড়া একটি মেয়ের দর্শন পান। সেই মেয়েই রাতে স্বপ্নাদেশে জানিয়েছিলেন, আমিই মা দূর্গা, আমাকে প্রতিষ্ঠা কর তোরা। তারপরেই পাল ভবনের দূর্গাদালান তৈরী হয়। শুরু হয় মা দুর্গার পুজো। দেখতে দেখতে এই পুজো ৩০০ বছরের। জমিদারি প্রথা চলে গেলেও রীতি নীতি মেনে পুজো চালিয়ে আসছেন পরিবারের সদস্যরা।বারুইপুরের মদারাট পঞ্চায়েত এর পাল বাড়ির পুজো দেখতে ভিড় জমান দূর দুরান্তের মানুষজন। রীতি ইতিহ্য মেনে নবমীর দিন হয় কুমারী পুজো। নবমীর দিন পরিবারের সদস্য দের কাদা মাটি খেলা এখনো চলে। গোটা পাড়া ঘোরা হয় কাদা মাটি গায়ে মেখে।
দূর্গা দালানে প্রতিমা তৈরীর শেষ প্রস্তুতি চলছে জোরকদমে। রথের দিন হয় কাঠামো পুজো। পরিবারের সদস্যরা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছেন। সদস্য মিতুন পাল বলেন, যে যেখানেই থাকুক। পুজোর কয়েকদিন সবাই বাড়িতে চলে আসে। কয়েক দিন জমিয়ে একসঙ্গে চলে খাওয়া দাওয়া। বৈদিক মতে আমাদের পুজো হয়। অষ্টমী ও নবমী পুজোর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজোর পাশাপাশি রীতি মেনে মালসায় ধুনা পোড়ানো হয়। বাড়ির বয়স্ক মহিলা সদস্য এতে অংশ নেন। যা দেখার মত হয়।
পরিবারের আর এক সদস্য অলোক পাল বলেন, পঞ্চমী থেকেই আমাদের পুজো শুরু হয়ে যায়। আমাদের ছাগবলি হয় না। কিন্তু শস্য বলি হয়। মা দূর্গা কে ডাকের সাজে সাজানো হয়। লকার থেকে সোনার গয়না এনে তা পড়ানো হয় মাকে। আবার দশমীর দিন তা খুলে নেওয়া হয়।পুজোর কয়েকদিন সন্ধ্যায় মায়ের উদ্দেশ্য লুচি, আলুরদম, সুজি ভোগ দেওয়া হয়। সকালে চিঁড়ে বাতাসা ভোগ দেওয়া হয়। সদস্য মিতুনবাবু আরও বলেন, পরিবারের বিবাহিত মহিলারা নবরাত্রি পালন করে। এছাড়া নবমীর দিন আমাদের বাস্তুঠাকুরের উদ্দেশ্য এ বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন করা হয়। পাল পরিবারের সদস্যরা জমিদারি রীতি মেনে আজও পায়ে হেঁটে দশমীর দিন মাকে কাঁধে ছাপিয়ে বিসর্জনে নিয়ে যায় সদাব্রত ঘাটে।


More Stories
দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে বিপদ,সৌগত রায়কে লক্ষ্য করে উড়ে এল পচা ডিম
হর্ষ-বিষাদে পালিত ঈদ-উল-আযহা
রাজনৈতিক সংঘর্ষ,গুরুতর আহত বিজেপি জেলা সভাপতি, বারাসাত জ্বলছে