সানি রায়,সময় কলকাতা, ৪ নভেম্বর : কিছু কিছু ভাবনা, কিছু কিছু উদ্যোগ মন ছুঁয়ে যায়। কিছু প্রচেষ্টা হয়ে ওঠে দৃষ্টান্তমূলক। এমনই এক দৃষ্টান্ত হৃদয় স্পর্শ করে গেল যা এক রাজনৈতিক নেত্রীর। উদ্যোগটি রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে যেন মানুষকে মানবিক হওয়ার পথের দিশা দিল। উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ির জেলা পরিষদ সদস্যা ও তৃণমূল নেত্রী স্নোমিতা বেসরা কালান্দি রাজনীতির চেনা পরিচিত ঘেরাটোপ থেকে বেরিয়ে এলেন। তিনি ‘বাংলা আবাস যোজনা’-র তালিকা থেকে নিজের নাম বাদ দিয়ে প্রকৃত দাবিদারকে ঘর দেওয়ার আর্জি জানিয়ে বোঝালেন রাজনীতির মানুষদের মধ্যেও কিছু মানুষের মত মানুষ আজও রয়েছেন।
আরও পড়ুনযোগীরাজ্যে একের পর এক খুন হচ্ছেন সাংবাদিক, এবার খুন প্রয়াগরাজে
পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা প্রাপ্য না হলেও ফিরিয়ে দেয় না কেউ। প্রয়োজন যার নেই তাকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু দেওয়া হলে তিনি ফিরিয়ে দেন না। স্নোমিতা বেসরা দিলেন। ২০১৮ সালের সার্ভে অনুযায়ী, স্নোমিতা বেসরার নাম ঘর প্রাপকের তালিকায় ছিল। গত সাত বছরে তিনি পায়ের তলায় মাটি পেয়েছেন। তাঁর আজ ঘরের দরকার নেই। এবার তিনি মাটিয়ালি বিডিও অভিনন্দন ঘোষের কাছে লিখিতভাবে এই ঘর প্রত্যাখ্যান করে আবেদন জমা দেন ।
মাটিয়ালি ব্লকের জুরন্তি চা বাগানের বাসিন্দা স্নোমিতা দেবী জানান, তাঁর পরিবর্তে যেন অন্য কোনো প্রকৃত প্রাপক এই সরকারি ঘর পান। বিডিও অভিনন্দন ঘোষ তাঁর আবেদনপত্র গ্রহণ করেছেন।
এ বিষয়ে স্নোমিতা বেসরা কালান্দি বলেন, “আমি চাই যারা প্রকৃত ঘর প্রাপক তারাই ঘর পাক। সমাজের যারা বিত্তশালী মানুষ, যাদের নাম ঘর প্রাপকের তালিকায় রয়েছে তারাও যাতে সেই ঘর ফিরিয়ে দেয়।” জেলা পরিষদ সদস্যার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন বিডিও অভিনন্দন ঘোষ। একেকটি পথ প্রকৃত পথ হয়ে উঠে সবাইকে পথ দেখাতে পারে আর সেই পথের দিশা দেখালেন স্নোমিতা বেসরা।


More Stories
বউ বদল : ময়নাগুড়িতে স্বামী-স্ত্রীর বদলাবদলি নাকি বদলা ?
চলে গেলেন সারিন্দার পাখি মঙ্গলাকান্ত
আসাম মডেলের পদাঙ্ক অনুসরণ, উত্তরবঙ্গের চা বাগানে আশার আলো