পুরন্দর চক্রবর্তী ও জয়দীপ মৈত্র,সময় কলকাতা : পিঠে খেলে পেটে সয় – একটি জনপ্রিয় প্রবাদ। পিঠে বাংলার একটি এমন মিষ্টান্ন যা জড়িয়ে আছে ঐতিহ্য এবং লোক-সংস্কৃতির সঙ্গে। বহু শতাব্দী ধরেই বঙ্গে উৎসবের জনপ্রিয় খাদ্য পিঠে। নবান্ন থেকে পৌষ – পার্বন ও সংক্রান্তিতে পিঠে জড়িয়ে রয়েছে। বঙ্গের বিভিন্ন প্রত্যন্ত প্রান্তে পিঠে শীতের লেপ -কম্বলের মতোই শীতের মরশুমের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী পিঠে। বাঙালির কাছে পেটের সঙ্গে পিঠের নিবিড় সম্পর্ক থাকলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “পেটে ও পিঠে ” কাহিনীর মতোই এর নিবিড় অর্থ রয়েছে। এর গভীরতর অর্থ হল, ভালো কিছু পেতে হলে তার পিছনে পরিশ্রম ও ত্যাগস্বীকার প্রয়োজন। পিঠে যে কত বিপুল ব্যাপ্তির তা শীত পড়তেই দক্ষিণ দিনাজপুরের চিত্র পরিষ্কার করে দেবে। এই জেলায় শীতে ভাপা পিঠের জনপ্রিয়তা প্রবল। বাংলার ভাপা পিঠে ঐতিহ্য যেন অন্যমাত্রা-বাহী জেলায়। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে জয়দীপ মৈত্রর একটি প্রতিবেদন।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পিঠের সুনাম রয়েছে বরাবরই। জেলার জনপ্রিয় ও সুস্বাদু খাদ্য সম্ভারের মধ্যে ক্ষীরের দই, নলেন গুড় সহ রকমারি খাবার। পিঠে তথাপি অন্য মাত্রা বয়ে আনে শীতকালে। পিঠে খেলে পেটে সয় কথাটি দক্ষিণ দিনাজপুরে অনন্য মাত্রার।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাজুড়ে সকালের কুয়াশা কিংবা সন্ধ্যার হিমেল বাতাসে কদর ভাপা পিঠের। ‘শীতের ভাপা পিঠা’ বিক্রির ধুম পড়েছে মরশুমি রেওয়াজ হিসেবে ।শীত এলেই একশ্রেণির ব্যবসায়ীরা সকাল-বিকেল এমনকি গভীর রাত পর্যন্ত এ ব্যবসায় মগ্ন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার পৌর শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে রাস্তার মোড়ে সবখানেই চলছে ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠে। এই পিঠার স্বাদে ক্রেতারা মুগ্ধ। শীতের সময় এখানকার নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ভাপা পিঠের ব্যবসা। লক্ষীর মুখ দেখায় ভাপা পিঠে।
কুয়াশা ঢাকা সকাল ও সন্ধ্যাবেলায় গরম ভাপা পিঠের মজাই আলাদা। পর বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, অফিস, দোকান, ক্লাব, আড্ডায়ও এই পিঠে আয়োজন লক্ষ্য করা যায়। শীতকালে শ্রমজীবী, রিকশাচালক, ড্রাইভার, শ্রমিকসহ অভিজাত পরিবারের লোকজনের কাছে প্রিয় শীতের এই পিঠে। প্রসঙ্গত, চালের গুঁড়োর সাথে আটা বা ময়দা মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ভাপা পিঠার মতো দেশী জাতের পিঠে। মাটির চুলায় খড়ি অথবা জ্বালানি গ্যাস পুড়িয়ে সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পযর্ন্ত পিঠে তৈরি ও বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। জেলার বিভিন স্থানে ভাপা পিঠের দোকানে সকাল-সন্ধ্যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরের এক পিঠে ব্যবসায়ী হারান রায় জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এ ব্যবসা চালাচ্ছেন তিনি। গরমে তিনি বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করলেও শীতের মরসুমে তিনি ভাপা পিঠে তার আয়ের প্রধান উৎস। প্রতি পিঠের মূল্য নিচ্ছেন পাঁচ ও দশ টাকা করে। এরকমটাই দক্ষিণ দিনাজপুর জুড়ে মোটামুটি ভাপা পিঠের দাম। পিঠে বঙ্গ জীবনের অঙ্গ আর দক্ষিণ দিনাজপুরে বাংলার ভাপা পিঠে ঐতিহ্য কারও, কারও পেশা। পিঠে খেলে পেটে সয় – দক্ষিণ দিনাজপুরের ক্ষেত্রে সুপ্রযোজ্য প্রবাদ।


More Stories
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও
রং যেন মোর মর্মে লাগে – উৎসবে সমাজকর্মী কাউন্সিলরের আহ্বান
চলে গেলেন শংকর