পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ৮ জানুয়ারি : তাঁকে না বুঝতে পারলে ত্রিকোণ হেঁয়ালি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা থেকেই যাবে কারণ তাঁকে নিয়ে যে রহস্যের শেষ নেই। বিতর্কের শেষ নেই।আগ্রহের শেষ নেই। তবুও তাঁকে বোঝা খুবই কঠিন। তিনি আত্মগোপন করে রয়েছেন। ভেনেজুয়েলা সরকার তাঁকে “পলাতক” ঘোষণা করেছে এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসের অভিযোগ এনেছে । অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ও প্রশাসন পর্যন্ত তাঁর সম্পর্কে মনে করে যে তিনি তাঁদের রাজনৈতিক চালে কুপোকাত করতে চেয়েছিলেন ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার উৎসর্গ করে। এখন তিনি বলছেন, নোবেল পুরস্কার টা ভাগ করে নিলেই হয়। তিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো ।
৫৮ বছর বয়সী মারিয়া করিনা মাচাদোকে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিতর্কিত হয়ে উঠেছে। তাঁর বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ হলো মাচাদো ইসরায়েল এবং গাজায় বোমা হামলার প্রকাশ্য সমর্থক।তিনি ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখেন এবং এর আগে ভেনেজুয়েলার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুসালেমে স্থানান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হিসেবে দেখা হয়।বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপের সমর্থনে মাচাদো তার নিজের দেশের সরকারকে উৎখাত করার জন্য আগেও সচেষ্ট হয়েছিলেন (এবার খোলাখুলি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন। মাদুরোকে অপহরণ করার জন্য।) শান্তি পুরস্কারের জন্য এমন একজনকে বেছে নেওয়াকে অনেক মানবাধিকার কর্মী ও সংস্থা “অযৌক্তিক” বলে মনে করেন।
নোবেল পুরস্কার জেতার পর মাচাদো এটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন, যিনি নিজে এই পুরস্কার পাওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা রাখতেন, তাই মাচাদোকে এই সম্মান দেওয়াকে ট্রাম্প প্রশাসন ও তার সমর্থকরা একটি রাজনৈতিক চাল হিসেবে সমালোচনা করেছেন।ডোনাল্ড ট্রাম্পের অসন্তোষ থেকেই গেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প মাচাদোর এই অর্জনে খুশি হননি। বরং মাচাদোর নোবেল জয়কে তিনি তার নিজের প্রতি “চরম অবমাননা” হিসেবে দেখেছেন। ২০২৬ সালের শুরুতে ট্রাম্প সরাসরি জানান যে, মাচাদোকে তিনি ভেনেজুয়েলার নেতা হিসেবে সমর্থন করেন না, কারণ তার মতে মাচাদোর প্রতি দেশের জনগণের পর্যাপ্ত সম্মান ও সমর্থন নেই। তবে তিনি দেশে ফিরতে চাইছেন,দেশে ফেরার তোড়জোড় করছেন বলেই তিনি জানিয়েছেন। এখন মুশকিল হচ্ছে, সবকিছুই বোঝা খুবই জটিল। ট্রাম্প বলছেন, ভেনেজুয়েলার নিয়ন্ত্রণ তাঁর হাতে এবং তিনি বুঝেছেন তার পছন্দের নেত্রী মাদুরো অপহরণ পরবর্তী ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট দেলসি রোদ্রিগেজ। সমস্যা হল, রোদ্রিগেজ আবার জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্পের বক্তব্যের তিনি ঘোরতর বিরোধী এবং ভেনেজুয়েলা সরকার সার্বভৌম নীতিতে নিজেরা নিজের দেশ চালাবে এবং আমেরিকাকে খনিজ তেল দেওয়ার প্রশ্নই নেই। ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকা দ্বিতীয় আরেকটি অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকলেও আশা করি সেরকম পরিস্থিতির উদ্ভব হবে না।অন্যদিকে, নতুন করে আবার মাচাদো জানিয়েছেন- তিনি নোবেল প্রাইজটা ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে দিতে চান। ট্রাম্পের প্রশংসায় তিনি ডগমগ। ট্রাম্প-রদ্রিগেজ-মাচাদো হেঁয়ালির সমাধান হতে সময় লাগবে।


More Stories
পর্তুগালকে আটকে দেওয়া কঙ্গোতে নরমাংস ভক্ষণের প্রথা চালু ছিল!
উত্তর সিকিমের শিক্ষার্থীদের পাশে ভারতীয় সেনা
ছাত্র শাসন মামলায় শিক্ষকের জামিন, আদালতের যুগান্তকারী বার্তা