দীপ সেন ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২৮ জানুয়ারি : শক্ত প্রতিপক্ষ নেই বারাসাতে ভেবেই আবেগে আক্ষরিক অর্থেই চোখে জল বারাসতের তৃণমূল বিধায়ক চিরঞ্জিতের। কথাটা শুনতে আশ্চর্য লাগলেও এটাই বাস্তব যে বিধায়কের মন খারাপ শক্ত প্রতিপক্ষ না থাকায়। একবাক্যে সাধারণ মানুষের কাছে কড়া প্রতিপক্ষর অভাবে চিরঞ্জিতের অশ্রু সজল হওয়ার কারণ বুঝতে অসুবিধা হতেই পারে। ব্যাপারটা আদতে কী? বিষয়টির গভীরে কী কোনো আরও গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে? কেন চিরঞ্জিত বলছেন স্ট্রং অপোজিশন নেই বা বারাসাতে বিপক্ষের কোনো হেভিওয়েট প্রার্থী দাঁড়াবেন না? ভোটের চার মাস আগে বিজেপির অন্দরমহলের খবর তৃণমূলের বিধায়ক জানলেন কী করে?
প্রচলিত কথা যে, প্রতিপক্ষ দুর্বল থাকলে লড়াই জমে না। তবে বারাসাতের বিধায়ক চিরঞ্জিতের বেলায় চিত্রনাট্য একটু অন্যরকম। দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও তিনি হাজার কাজ থাকলেও আবার ভোটে দাঁড়াবেন। অন্তত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেই তিনি ভোটে লড়তে রাজি। এখনও পর্যন্ত দল থেকে তাঁকে এটুকুই বলা হয়েছে যে স্ট্রং অপোজিশন থাকলে বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁকেই লড়তে হবে। আর এই কথা শুনে চিরঞ্জিত বুঝতে পারছেন যে, এবার টিকিট পাওয়ার আশা তাঁর নেই। কারণ তিনি এখানে দূরবীন দিয়েও নাকি শক্ত প্রতিপক্ষ কাউকে দেখতে পাচ্ছেন না।কেন দেখতে পাচ্ছেন না তা পরবর্তী প্রশ্ন তবে তিনি মনে করেন যে এক্ষেত্রে যা পরিস্থিতি পনেরো বছর বিধায়ক থাকার পরে তাঁকে বারাসাত ছেড়ে চলে যেতে হবে।
কেন চিরঞ্জিত মনে করেন শক্ত প্রতিপক্ষ নেই? বাম-কংগ্রেস সম্পর্কে এরকম মন্তব্যে কোনো অতি-ভাষণ হয়তো হত না। আদতে বামফ্রন্ট এখন বারাসাত বিধানসভা কেন্দ্রে অত্যন্ত ক্ষীণবল। কংগ্রেস সমর্থন নিয়ে বারাসাত সহ সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে গড়া বারাসাত লোকসভা কেন্দ্রে গত নির্বাচনে বাম প্রার্থী কোনোক্রমে একলক্ষ ভোট পেয়েছেন। রইল বাকি বিজেপি এবং নিঃসন্দেহে বারাসাতে বিজেপি অবশ্যই শক্ত প্রতিপক্ষ। এনিয়ে সন্দেহর অবকাশ নেই গ্রামের দিকের কথা বাদ দিলে বিজেপি বারাসাত শহর অঞ্চলে প্রবল শক্তি বৃদ্ধি করেছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বারাসাত কেন্দ্র থেকে বিগত লোকসভা ভোটে মাত্র ৩০০০ ভোটে লিড পেয়েছেন, তাঁর মুখরক্ষা করেছে ছোটো জাগুলিয়া ও গ্রামাঞ্চল। বারাসাত পুরসভা অঞ্চলে ৩৫টির মধ্যে ২৮ টি ওয়ার্ডে হারতে হয়েছে তৃণমূলকে। বলাই বাহুল্য, গাণিতিক হিসেবে বিজেপি হেভিওয়েট প্রার্থী দিলে তৃণমূলের বারাসাত কেন্দ্র খুব সেফ থাকার কথা নয়। তাহলে চিরঞ্জিতের কেন মনে হচ্ছে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ তিনি পাবেন না! হতে পারে বারাসাতে স্থানীয় প্রার্থী হিসেবে শংকর চ্যাটার্জী বা তাপস মিত্র ছাড়া বিজেপির পরিচিত ও পুরনো মুখ নেই।তাপস মিত্রকে আবার উত্তর কলকাতায় নির্বাচনে সাংগঠনিক ও প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রইলেন শংকর চ্যাটার্জী। বিগত বিধানসভা ভোটে বিজেপির পালে হাওয়া থাকলেও তিনি প্রার্থী হয়ে বড় মার্জিনে হেরেছেন। কিন্তু এবার বারাসাতের বাইরে থেকে হাই প্রোফাইল প্রার্থী করার কথা উঠেছিল। তাহলে কী চিরঞ্জিত ও জেনে গিয়েছেন সেরকম কাউকে বারাসাতে বিজেপি না আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে! বিজেপি সত্যি কি বারাসাতে হাইপ্রোফাইল বা বিজয়ী হতে পারেন এরকম কোনো প্রার্থী আনবে না বা দাঁড় করাতে চায় না? না আনলে কেন আনবে না তা নিয়ে গবেষণা বা তর্ক বিতর্ক চলতেই পারে তবে তৃণমূল বিধায়ক বলছেন বারাসাতে বিজেপির কোন হেভিওয়েট প্রার্থী দাঁড়াবেন না। চিরঞ্জিতের বক্তব্য একাধিক প্রশ্নর জন্ম দিচ্ছে ভোটের চারমাস আগেই।।
More Stories
অমিত পরাক্রমে শাহী অভিযোগের পাল্টা চার্জশিট তৃণমূলের
শুনানিতে হাজির বিজেপি নেতার উপর চড়াও তৃণমূল সমর্থকরা
বিজেপিকে একমাত্র রুখতে পারেন দিদি : অখিলেশ যাদব