চুমকী সূত্রধর ও পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা ডেস্ক, ৩১ জানুয়ারি : অভিযোগের পাল্টা চার্জশিট। আনন্দপুরীতে অমিত পরাক্রমে শাহী আক্রমণ, অমিত শাহকে পাল্টা আক্রমণ ব্রাত্য বসু-পার্থ ভৌমিকের। শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরের মাঝেই বিজেপির নীতি ও নৈতিকতা নিয়ে তীব্র আক্রমণে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। একদিকে যখন দুর্নীত, অনুপ্রবেশ সহ একাধিক ইস্যুতে শাসকদলকে বিদ্ধ করেন, ঠিক সেসময়ই খেলার মাঠ দখল, সরস্বতী পুজো করতে না দেওয়া থেকে শুরু করে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে সরব হল শাসকদল। বিজেপির বিরুদ্ধে রীতিমতো চার্জশিট পেশ করল তৃণমূল।
শাহী অভিযোগ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেন যে, তৃণমূল সরকার নিজের ‘ভোট ব্যাংক’ অটুট রাখতে অনুপ্রবেশকারীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে। এমনকি আদালতের নির্দেশের পরেও সীমান্তে বিএসএফ-এর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্য জমি দিচ্ছে না বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর অভিযোগ, বাংলায় দুর্নীতি এখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। তিনি আনন্দপুরের একটি মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে নিছক দুর্ঘটনা নয়, বরং দুর্নীতির ফল বলে উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন কেন কারখানার মালিককে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি। অমিত শাহ দাবি করেন যে অনুপ্রবেশকারীদের খুশি করতে এবং ভোট ব্যাংকের রাজনীতি করতে সংসদ ভবনে তৃণমূল কংগ্রেস ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আলোচনার বিরোধিতা করেছে। অমিত শাহ অভিযোগ করেন যে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী বানানোর বিষয়ে যত বেশি মনোযোগী, জনগণের সুবিধা-অসুবিধা দেখার বিষয়ে ততটা নন। এছাড়া ‘মা, মাটি, মানুষ’—এই স্লোগান এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে এবং রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ চলছে বলেও তিনি আক্রমণ শানান।
ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীর মাঠে শাহী অভিযোগের পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের চার্জশিট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বঙ্গ সফরের আগেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়াল তৃণমূল। মাঠ, সংস্কৃতি, ক্ষতিপূরণ থেকে ভোটাধিকার—সব প্রশ্নেই বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করার বার্তা দিল শাসকদল। শনিবার তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে বিজেপির বিরুদ্ধে একের পর এক প্রশ্ন তোলেন ব্যারাকপুরের সাংগঠনিক সভাপতি তথা তৃণমূল সাংসদ পার্থ ভৌমিক এবং রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু। সেখানেই পার্থ ভৌমিক বলেন, ব্যারাকপুরের আনন্দপুরীর যে মাঠে শনিবার অমিত শাহ সভা করেন, সেখানে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মানুষের খেলাধুলো, সরস্বতী পুজো ও মেলা হত। কিন্তু ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ওই মাঠে সরস্বতী পুজো করতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ। অথচ এক সময় বাংলায় এসে অমিত শাহ অভিযোগ করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী নাকি সরস্বতী পুজো করতে দেন না।
পার্থর কটাক্ষ, বিজেপির সভার জন্য মাঠ পরিষ্কার করা হয়, কিন্তু সাধারণ মানুষের উৎসব, খেলা বা সংস্কৃতির জায়গা নেই।
বিজেপির জন্য মাঠ আছে, অথচ এলাকার মানুষের জন্য নয় কেন? এর প্রতিবাদে ওই আনন্দপুরী মাঠের সামনে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি আইএনটিটিইউসি ওই এলাকার মানুষকে নিয়ে গণ-অবস্থানে বসবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার ব্যারাকপুরে সভা থেকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই রাজ্যের অনুপ্রবেশ, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নিশানা করে যান অমিত শাহ।
শাহর বক্তব্য, যেভাবে অনুপ্রবেশ হচ্ছে, তাতে জাতীয় নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অনুপ্রবেশ রুখতে কেন্দ্রের উদ্যোগের পথে রাজ্য সরকারই বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পাল্টা জবাব দেয় শাসকদলও। রোহিঙ্গা ইস্যুতেও বিজেপিকে পাল্টা আক্রমণ করেন ব্রাত্য। বলেন, বিজেপি তৃণমূলকে রোহিঙ্গাদের দল বলে। অথচ মালদহে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে বিজেপিরই বুথ সভাপতি গ্রেফতার হন। তাহলে সীমান্ত সুরক্ষা, গরু পাচার রোধ — এসব কার দায়িত্ব?
ভোটাধিকার নিয়েও বিজেপির দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলে তৃণমূল। তাঁর প্রশ্ন, একদিকে নোটা রেখে ভোট না দেওয়ার অধিকার দেওয়া হচ্ছে, আবার বলা হচ্ছে ভোটার লিস্টে নাম না থাকলে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে। এক দেশে দুই নীতি কেন? কেউ যদি ভোটার তালিকায় নাম তুলতে না চান, তাহলে কি তাঁকে দেশছাড়া করা হবে?
অমিত শাহের সভা ঘিরে বিজেপির দুশো পার স্লোগান নিয়েও খোঁচা দিতে ছাড়েননি ব্রাত্য। কটাক্ষ করে ব্রাত্য বসুর মন্তব্য, বাংলায় এসে ছ্যাঁদা না খুঁজে নিজের ঘর সামলাক অমিত শাহ।
সব মিলিয়ে শাহের বঙ্গ সফরের আগেই বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের সুর আরও চড়ায় তৃণমূল। মাঠ, সংস্কৃতি, ক্ষতিপূরণ থেকে ভোটাধিকার—সব প্রশ্নেই বিজেপিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র করার বার্তা দেয় শাসকদল।
More Stories
ধর্নায় মুখ্যমন্ত্রী, বিরোধী দলনেত্রীর প্র্যাকটিস চলছে, বললেন সুকান্ত
কেন পদত্যাগ করলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস?
দোল উৎসব : রাঙিয়ে দিয়ে যাও