Home » বাংলাদেশ : বিএনপি জিতলে ভারতের কী সুবিধা হবে?

বাংলাদেশ : বিএনপি জিতলে ভারতের কী সুবিধা হবে?

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণনা ও ফল প্রকাশের কাজ শেষপর্বে। বিএনপি  এগিয়ে এবং এখনও পর্যন্ত যা ইঙ্গিত জামায়েত কে পর্যুদস্ত করে বিএনপির ক্ষমতায় আসা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। সেক্ষেত্রে,দীর্ঘ দুই দশক পরে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিএনপি। বিএনপি ক্ষমতায় আসার আগেই পাকিস্তান থেকে অভিনন্দন আসতে শুরু করেছে। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট  আসিফ আলী জারদারি জানিয়েছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি পূর্ণ সমর্থন রয়েছে পাকিস্তানের। অন্যদিকে, ভারত কী বলছে?

 চূড়ান্ত ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের উপর নজর রাখছে ভারত। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা জানালেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। বাংলাদেশের ভোট সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘আমার মনে হয় ফলাফলের জন্য আমাদের প্রতীক্ষা করা উচিত। জনমতের প্রতিফলন দেখার পরেই বিষয়টি আমরা পর্যালোচনা করব।’’এখন প্রশ্ন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক  স্তরে ভারতের কি সুবিধা হবে?

  আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক স্তরে রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল যে ভারত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ” সব ডিম এক ঝুড়িতে’ (শুধু আওয়ামী লীগের ওপর ভরসা করা) রাখত । বিএনপির জয় ভারতের জন্য বাংলাদেশের অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের এবং একতরফা নির্ভরতা কমিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক পথ তৈরির সুযোগ করে দিতে পারে ।
বিএনপির বর্তমান নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা বললেও ভারতের সাথে অর্থনৈতিক বৈরিতা না রাখার এবং বন্ধুত্বের হাত বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন । তিনি জানিয়েছেন যে ভারতের সাথে বৈরিতা বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নয় । এটি গত কয়েক বছরের টানাপোড়েন কাটিয়ে একটি পরিপক্ক ও সমমর্যাদার অংশীদারিত্ব তৈরির সুযোগ দিতে পারে ।
অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যর ক্ষেত্রে, বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা ভারতের রপ্তানি বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ । বিএনপি স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ভারতের বিনিয়োগ ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে ।
নিরাপত্তা ও সীমান্ত সহযোগিতার প্রশ্নে বিএনপি তাদের ইশতেহারে ভারতের সাথে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সমতার ভিত্তিতে কাজ করার এবং কোনো প্রতিবেশী দেশের জন্য নিরাপত্তা হুমকি না হওয়ার অঙ্গীকার করেছে । এছাড়া সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং অনুপ্রবেশ রোধে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ভারতের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
সংখ্যালঘু সুরক্ষার ক্ষেত্রে ইতিবাচক সম্পর্ক নতুনভাবে সম্পর্ক ভালো করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।বিএনপি ধর্মীয় বিশ্বাস নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সমান অধিকার এবং হিন্দুসহ সকল সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে । এটি ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয় ছিল এবং এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অস্বস্তি দূর করতে পারে ।
তবে অতীতে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপির শাসনামলে ভারতের কিছু নিরাপত্তা উদ্বেগ ছিল, যা কাটিয়ে ওঠা এবং নতুন করে বিশ্বাস স্থাপন করা উভয় দেশের জন্যই একটি বড় চ্যালেঞ্জ  হবে।।

About Post Author