পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ২১ ফেব্রুয়ারি :২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। আরেকটি ভোর এসেছে । বাংলাদেশে অস্থির সময়ের প্রেক্ষাপটে পালাবদলের পরে এসেছে ২১ ফেব্রুয়ারি। এসেছে আবেগের পাশাপাশি কিছু বিতর্ক নিয়ে।”আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটি গেয়ে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ যেমন উদযাপিত পরম্পরা মেনে তেমনই ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে (২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি বড় পরিবর্তন সাপেক্ষে নতুন বিতর্ক দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশে পালাবদল ও বিতর্ক কী নিয়ে?
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসে বাংলাদেশে ঘড়ি ধরেই উদযাপিত হয়েছে দিনটি। পরম্পরা মেনে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি একুশের চেতনা ধারণ করে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ভাষাবৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা একটি নতুন আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছে ।জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ২১ ফেব্রুয়ারি ভোরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। অতীতে ছাত্রশিবির বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও, জামায়াত আমিরের সরাসরি শহীদ মিনারে যাওয়া এটিই প্রথম। দিবসটি উপলক্ষে জামায়াত আমির ১৯ ফেব্রুয়ারি একটি বিশেষ বিবৃতি দেন, যেখানে তিনি ২১ ফেব্রুয়ারিকে “গৌরবময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস” হিসেবে অভিহিত করেন এবং দেশবাসীকে যথাযথ মর্যাদায় এটি পালনের আহ্বান জানান। জামায়াতের এই অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেন যে, মাতৃভাষা দিবসে সবাই শ্রদ্ধা জানাচ্ছে, তাই এটি নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্ক না করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। ২০২৬ সালের এই সময়ে বাংলাদেশে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, যা দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

সার্বিকভাবে, জামায়াতে ইসলামীর এই পদক্ষেপকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য নয়া মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ভাষা দিবসের উদযাপনে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলে ঘোষণা করেছিল। এই মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার পেছনে রযেছে আব্দুল জব্বার , আবদুল বরকত ,আবদুস সালাম ,রফিকউদ্দিন প্রমুখের বলিদানের ইতিহাস।১৯৫২সালে ঢাকায় বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতির জন্য আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশের দমন নীতি শুরু হয়। ২১ ফেব্রুয়ারী হরতাল দিবসে গুলি চলে ও প্রাণ হারান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। ১৯৪৮ সালে উর্দু কে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে উর্দু আর ইংরেজিকে সরকারি ভাষা হিসেবে গৃহীত হওয়ার প্রস্তাব আসতেই শুরু হয় সে সময় পাকিস্তানে গরিষ্ঠ অংশের ভাষা বাঙ্গলায় কথা বলা মানুষ দের বিক্ষোভ। আর এই দিন আবেগে, হৃদয়ের টানে মিশে যায় বিশ্বের বাঙালি।।
#বাংলাদেশ #bangladesh # বাংলাদেশে পালাবদল ও বিতর্ক


More Stories
নেপালে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে
ভারতীয় সিমে পাকিস্তানি হানিট্র্যাপ! স্বাধীনতা দিবসে ৩ পাক-চর গ্রেফতার কোচবিহারে
ডিমথেরাপি এবার বিদেশে! কসোভো সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে ডিম নিক্ষেপ কোন ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি?