Home » হাসনে জিতবে কে?

হাসনে জিতবে কে?

Oplus_131072

সময় কলকাতা ডেস্ক, ২ এপ্রিল : একদা কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি ছিল হাসন। অসিত মাল এখান থেকে টানা চারবার জয়ী হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে দলবদল করে তৃণমূল কংগ্রেসে চলে যান অসিত মাল। সেবারই মিল্টন রশিদের আবির্ভাব ঘটে তারকার মতো। তিনি অসিত মালকে হারানোর পরে বিধায়ক হয়ে এলাকার একের পর এক উন্নয়নের কাজে হাত দেন এবং করোনা কালে বিধায়ক হয়েও মানুষের দরজায় দরজায় পৌঁছে যান। সম্ভবত রাজ্যে নজির বিহীন ভাবে দেখা যায় একজন বিধায়ক কোভিড পেসেন্ট কে নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে যাচ্ছেন। কার্যত হাতে পাঁজা খোলা করে কিংবা ভ্যানে রোগীকে নিয়ে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পরেও কি করে ২০২১ সালে তিনি বড় মার্জিন হেরে তৃতীয় স্থানে চলে যান তা এক আশ্চর্য রহস্য। মিল্টন রশিদ নিজে মনে করেন, এনআরসি নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের বাইনারি তাঁকে ও কংগ্রেস জোটকে হারিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের সমীকরণ। এবারের ভোটে ও কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে রয়েছেন মিল্টন রশিদ। বিজেপি প্রার্থী ও পরিবর্তিত হয়নি তবে ২০২১ সালে ৫১ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হওয়া অশোক চ্যাটার্জির বদলে এবারের তৃণমূল প্রার্থী বীরভূমের রাজনীতিতে হেভিওয়েট কাজল শেখ।

২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবল হাওয়ায় কংগ্রেস তৃতীয় স্থানে চলে গেলেও হাসনে উত্থান হয় বিজেপির এবং দ্বিতীয় স্থানে প্রথমবারের মতো উঠে আসতে দেখা যায় ভারতীয় জনতা পার্টিকে । এক ধাক্কায় ২২ শতাংশ ভোট বাড়িয়ে নেয় বিজেপি। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী নিখিল ব্যানার্জি এবারও প্রার্থী পদ পেয়েছেন। হাসন বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত তারাপীঠ মন্দির সহ রামপুরহাট এবং নলহাটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রশ্নে তৃণমূলের ব্যর্থতা নিয়ে নিখিল ব্যানার্জী সরব তিনি। তিনি মনে করেন নারী নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা তৃণমূলের শাসনকালে শাসক দল দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি এও মনে করেন – তৃণমূল আমলে যা উন্নয়ন হয়েছে সবই হয়েছে শাসক দলের নেতাদের এবং নেতাদের ছত্রছায়া থাকা একটি বিশেষ শ্রেণীর। সাধারণ মানুষ উন্নয়নের ছিটেফোঁটাও পায় নি। এবার প্রশ্ন, এসআইআর কতটা প্রভাব ফেলে এবারের ভোটে। বিজেপির সাফল্য নির্ভর করছে অনেকটাই সেই সমীকরণের উপরে তবে একে বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দিতে নারাজ কাজল শেখ। তিনি বলছেন, তিন দশক ধরে রাজনীতি করছেন এবং বিগত সময়ে একাধিক নেতার পায়ের তলায় মাটি তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। তিনি পরিষ্কার জানিয়েছেন অনেক বিধায়ক ও সাংসদদের জয়ের রাস্তা সুগম করেছেন তিনি তাই এই নির্বাচনে সাফল্য পাওয়া সময়ের অপেক্ষা। তিনি যেভাবে বুক ঠুকছেন তার কারণ কার্যত দুটি।একদিকে বিরোধীদের এক ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া এবং অন্যদিকে অনুব্রতর বিপরীতে বীরভূমের নেতৃত্বভার নিজের হাতে তুলে নিয়ে দলের মধ্যে তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা তাঁর লক্ষ্য তা তাঁর বক্তব্য শুনলেই পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি জানিয়েছেন, ২০২১ সালের বিজেপির বিরুদ্ধে ৫১হাজার ভোটে জয়ের মার্জিনকে তিনি দ্বিগুণ করবেন। বীরভূমের ১১ টি বিধানসভা আসনের মধ্যে সর্বাধিক তথা লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হবেন এটাই তাঁর চ্যালেঞ্জ । প্রচন্ড আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছে কাজল শেখকে। উন্নয়নের প্রশ্নে তিনি বলছেন উন্নয়ন হয়েছে, আরো হবে। অন্যদিকে, মিল্টন রশিদ বলছেন ২০২১ সালের বাইনারি আর ধোপে টিকবে না তৃণমূল বিজেপির। তাছাড়া নানুর থেকে আসা বহিরাগতর বিরুদ্ধে জয়ের বিষয়ে হেভি ওয়েট কাজল শেখের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, আগেও অসিত মালের মত হেভিওয়েট নেতাকে হারানোর রেকর্ড আমার রয়েছে। তবুও লোকবল, জন সমর্থন এবং সাম্প্রতিক অতীতে কাজল শেখের বীরভূমের রাজনীতিতে আধিপত্য কাজল শেখকে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে। তারাপীঠের ধর্মীয় সৌরভও যেমন নিখিলকে এগিয়ে দিতে পারছে না তেমনই মিল্টন রশিদের মত এলাকার মানুষের সর্বক্ষণের সঙ্গী সজ্জন,মানুষের বাজিমাত করা বড়ই অনিশ্চিত।অত্যাশ্চর্য কিছু না ঘটলে কাজল শেখকে হারানো কঠিন, খুব কঠিন।।

About Post Author