Home » বালি পাচার কাণ্ডে রাজ্য জুড়ে তল্লাশি ইডির, চাপে তৃণমূল!

বালি পাচার কাণ্ডে রাজ্য জুড়ে তল্লাশি ইডির, চাপে তৃণমূল!

আরও এক মামলার তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট! বালি পাচারের তদন্তে প্রথমবার অভিযানে নামল ইডি। বেহালা, ঝাড়গ্রাম-সহ রাজ্যের ২২ জায়গায় দাপিয়ে বেরাল ইডি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে চলে তল্লাশি অভিযান।
হেডারঃ পাচারের তদন্তে প্রথমবার অভিযানে ইডি
বেহালা, ঝাড়গ্রাম-সহ রাজ্যের ২২ জায়গায় তল্লাশি

দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, অবৈধ বালি খনির কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। এবার অবশেষে বালি পাচার মামলায় সরাসরি নামল ইডি। সোমবার ভোর থেকে ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর-সহ নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালান তদন্তকারী আধিকারিকরা। একই সঙ্গে তল্লাশি চলে বেহালা, রিজেন্ট পার্ক, বিধাননগর-সহ আরও বেশ কয়েকটি জায়গাতেও। সব মিলিয়ে মোট ২২ টি জায়গায় ইডির এই অভিযান চলে। তদন্তকারীদের নজরে একাধিক বালিখাদানের মালিক এবং তাঁদের অফিসও রয়েছে। অভিযানে ইডির মোট চার থেকে পাঁচটি টিম অ্যাকশনে নামে। কেন্দ্রীয় বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে রাখে। সোমবার সাত সকালে ইডির টিম পৌঁছয় ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ব্লকের একাধিক জায়গায়। শুধু তাই নয়, গোপীবল্লভপুর -১ ব্লকের নয়াবসানে শেখ জাহিরুলের বাড়িতেও পৌঁছন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। সুবর্ণরেখা নদীর খুব কাছেই সুবিশাল এই বাড়ি। শেখ জাহিরুল বালি কারবারের সঙ্গে যুক্ত বলে অভিযোগ। এমনকী বেশ কয়েকটি বালি খাদান আছে বলেও অভিযোগ। জানা যায়, শেখ জাহিরুল এক সময় ভিলেজ পুলিশে কর্মরত ছিলেন। সেই কাজ ছেড়ে বালি ব্যবসায় নামেন। ইডি সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়েই তল্লাশি চালাতে পৌঁছয়। বিভিন্ন নথি খতিয়ে দেখে। শুধু বাড়িতেই নয়, তাঁর অফিসের পাশাপাশি গাড়িতেও পরীক্ষা চালানো হয়। খতিয়ে দেখা হয় সমস্ত নথি। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। ইডি জানতে পেরেছে, সুবর্ণরেখা নদী থেকেই বালি তুলে তা রাজ্যজুড়ে পাচার করা হত। সুবর্ণরেখার বালির গুণমান ভাল। এই বালিই কলকাতা সহ গোটা রাজ্য, প্রতিবেশী ঝাড়খণ্ডেও যায়। যে জায়গায় নদী থেকে বালি তুলে স্টক করা হয়, তার পাশে অস্থায়ী অফিস থাকে। সেখানেও তল্লাশি চলে। অর্থাৎ কীভাবে, কোন কোন জায়গায় দুর্নীতি হয়, কীভাবে সরকারি রেট বাড়িয়ে বালি বিক্রি করা হয়, তা তদন্ত করে দেখছে ইডি। শুধু শেখ জাহিরুলই নয়, বেলিয়াবেড়া, জামবনি ব্লকের একাধিক বালি খাদান মালিকদের বাড়ি এবং অফিসে একযোগে ইডি আধিকারিকরা তল্লাশি চালান। গোপীবল্লভপুর -১ ব্লকের নয়াবসানে শেখ জাহিরুলের বাড়িতেও পৌঁছে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় আধিকারিকরা। এদিকে, ইডির একটি টিম পৌঁছয় নদিয়ার কল্যাণীতেও। কল্যাণীর এ-৮/৪৬২ নামে এই ঠিকানাতেও তল্লাশি চালান আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, বাড়িটি এক মাইনিং সংস্থার কর্তার। তাঁর নাম ধীমান চক্রবর্তী। গোটা বাড়ি কেন্দ্রীয় বাহিনী ঘিরে ফেলে। তবে তল্লাশি চলাকালীন এক ইডি আধিকারিক হঠাৎ করেই অসুস্থ বোধ করেন। সঙ্গে সঙ্গে জহরলাল নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আধিকারিককে। একইভাবে অভিযান চলে পশ্চিম মেদিনীপুরেও। ইডি হানা দেয় দক্ষিণ কলকাতার বেহালাতেও। জেমস লং সরণীর একটি অফিসে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে জিডি মাইনিং নামে একটি সংস্থার কার্যালয় রয়েছে। সংস্থাটি বালির সঙ্গে জড়িত এবং এর আরও একটি শাখা বিধাননগর সেক্টর ফাইভে রয়েছে। এই সংস্থাটি বালির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। এই সংস্থার আরেকটি অফিস রয়েছে বিধাননগর, সেক্টর-ফাইভে। এদিকে, কলকাতারই রিজেন্ট পার্কেও হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। পৌঁছয় রিজেন্ট কলোনির রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার এজেন্ট সঞ্জীব বয়েডের বাড়িতে। কিন্তু বালি পাচার মামলার সঙ্গে কীভাবে জুড়ে গেল এই বিমা এজেন্ট? জানা গিয়েছে, সাধারণের কাছে তিনি বিমা সংস্থার সাধারণ এজেন্ট হলেও, বিশেষ একটা অংশের কাছে তার পরিচয় হাওয়ালাকারী হিসাবে। কালো টাকা সাদা করা, হাওয়ালার মাধ্যমে বিদেশে টাকা পাঠানোর মতো একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই সকল বেআইনি পথেই গত দশ বছরে নিজের সম্পত্তির পরিমাণ বিপুল হারে বৃদ্ধি করেছেন তিনি, এমনটাই অভিযোগ। ইডি অভিযানের সময় নিজের বাড়িতেই ছিলেন অভিযুক্ত সঞ্জীব বয়েড। ঘণ্টাখানেক তল্লাশির পর আপাতত ওই এজেন্টের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করেন তদন্তকারী। উদ্ধার হয় বেশ কিছু নথিপত্র। সূত্র বলছে, বালি পাচার ও কালো টাকা সাদা করার ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে, তিনি যে সব দাবি করেন, তার সঙ্গে ইডির কাছে থাকা নথিপ্রমাণের মিল নেই। তদন্তের অভিমুখ পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। তবে এই সঞ্জীব বয়েডের সঙ্গে ঝাড়গ্রামের বালি ‘ব্যবসায়ী’ শেখ জাহিরুলের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি। তবে অনুমান, জাহিরুলের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেই এই সঞ্জীবের হদিশ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সম্ভবত, জাহিরুলে কালো টাকা বিমাতেও বিনিয়োগ করতেন এই সঞ্জীব বয়েডই। সূত্র বলছে, বালি পাচার ও বেআইনি ব্যবসার অভিযোগ নিয়েই এই অভিযান। কীভাবে এবং কোন কোন জায়গায় অনিয়ম হয়েছে, কীভাবে সরকারি রেটের চেয়ে বেশি দামে বালি বিক্রি করা হয়েছে— সব কিছুই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, অবৈধ বালি খনির কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই ইডি সম্প্রতি মামলা দায়ের করে। আর তারপরই সোমবার ভোর থেকে একযোগে অভিযান শুরু হয়।
ব্যুরো রিপোর্ট, সময় কলকাতা

About Post Author