সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৩ জানুয়ারি : আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড নীতি সম্পর্কে জানতে হলে অতীতে ফিরে যেতে হবে। ইতিহাসের গভীরে ঢুকে ইনুইটদের সম্পর্কে জানতে হবে। আপনি ইন্টারনেট খুঁজে পরিষ্কার করে এঁদের সম্পকে বিস্তারিতভাবে জানতে পারবেন। ইনুইটরা মেরু অঞ্চলের বাসিন্দা। এরা মূলত কানাডা, আলাস্কা, গ্রিনল্যান্ড এবং রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলে বসবাস করে; কঠোর লড়াই পরিবেশের সঙ্গে, অভিযোজন করে এদের জীবনযাপনের অঙ্গ সিল, তিমি, বলগা হরিণ শিকার।ইনুইটরা গ্রিনল্যান্ডের প্রাণ। এরা আজও আছে, গ্রিনল্যান্ডের ৯০ শতাংশ মানুষ যারা নিজেদের কালালিত বলে পরিচয় দেয়।বারবার গ্রিনল্যান্ড দখল হয়েছে।২০০৯ সাল থেকে ‘সেল্ফ-গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট’-এর অধীনে স্বায়ত্তশাসন ভোগ করছে, যার ফলে তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ আইন ও নীতি নির্ধারণ করতে পারে, ডেনমার্কের অংশ হলেও গ্রিনল্যান্ড স্বায়ত্তশাসিত।প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র নীতির মতো বিষয়গুলি ডেনমার্ক নিয়ন্ত্রণ করে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইছেন খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ বিশ্বের বৃহত্তম দেশটিকে নিজেদের অধীনে আনতে। ইনুইটদের বাসযোগ্য ভূমিতে অধিকারের ইতিহাস নতুন নয়, মার্কিন লোলুপ দৃষ্টিও নতুন নয়। গ্রিনল্যাণ্ড,ডেনমার্ক ও আমেরিকা – সমীকরণ আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে জটিল থেকে জটিলতর রূপ নিতে চলেছে।
ইনুইটরা গ্রীনল্যান্ডে হাজার হাজার বছর ধরে বসবাস করেছে, ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের উপরে প্রায়শ কব্জা করেছে কিন্তু ১৭২৯ সালে ডেনমার্ক দ্বীপটি আরও একবার জয় করে নেয়, এসময় তাদের কোনো রাষ্ট্রীয় কাঠামো ছিল না। নর্ডিক বসতি স্থাপনকারীরা মধ্যযুগের শেষের দিকে অদৃশ্য হওয়ার আগে প্রায় অর্ধেক সহস্রাব্দ ধরে গ্রীনল্যান্ডে বসবাস করেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল করে এবং তারপর থেকে দ্বীপে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে।
ডেনমার্ক এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১৯৫১ সালে সমাপ্ত একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি আমেরিকানদের দ্বীপটিতে ব্যাপক সামরিক প্রবেশাধিকার দেয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডে পঞ্চাশটি ঘাঁটি এবং রাডার স্টেশন পরিচালনা করেছিল। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র একটি এরকম কেন্দ্র অবশিষ্ট আছে, পিটুফিক স্পেস বেস, যেখানে প্রায় দেড়শো আমেরিকান সামরিক কর্মী রয়েছে।
রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র পথের উপর অবস্থিত এই সুবিধাটি আমেরিকান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ লিঙ্ক। ১৯৭৯ সালে, গ্রিনল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে ডেনমার্ক রাজ্যের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হয়ে ওঠে, যেখানে অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা (শিক্ষা, পুলিশ, ন্যায়বিচার, কর) কিন্তু প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি এবং মুদ্রার জন্য ডেনিশ সার্বভৌমত্বের অধীনে, গণভোটের পরে এবং স্বাধীনতার প্রত্যাশিত বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের দিকে অগ্রসর হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব মার্কিন প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের সময় থেকে এবং উনবিংশ শতকে রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা অধিগ্রহণের সময় থেকে স্বীকৃত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম সিওয়ার্ড ১৮৬৭ সালে গ্রিনল্যান্ড কিনে নিতে চেয়েছিলেন, পাশাপাশি রাশিয়ার কাছ থেকে আলাস্কা কিনতে চেয়েছিলেন। ১৯১৭ সালের আগেও দেখা গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ডেনিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ কেনার চুক্তির অংশ হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের উপর ডেনমার্কের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেয় না। ১৯৪৫ সালে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য ডেনমার্ককে $100 মিলিয়ন ( এ মুহূর্তে প্রায় $1.8 বিলিয়ন) প্রস্তাব এক প্রস্তাব দেয় যা ডেনিশ সরকার প্রত্যাখ্যান করেছিল।
২০২৬ সালে ট্রাম্প বলছেন গ্রিনল্যান্ডের পছন্দ হোক বা না হোক, সহজ বা কঠোর যেকোনো ভাবে গ্রীনল্যান্ডের অধিকার নেবেন ২০১৯ সালে তার প্রথম মেয়াদের সময়, রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ‘গ্রিনল্যান্ড কেনার’ আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। এই ধারণাটি ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড দ্বারা অবিলম্বে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, যারা পুনর্ব্যক্ত করেছিল যে অঞ্চলটি বিক্রির জন্য নয়। অন্যদিকে রাষ্ট্রসংঘ জানিয়েছে তারা সার্বভৌমত্বের পবিত্র ভাবনাকে সম্মান করে। এখানে সমীক্ষাও বলছে খুবই নগণ্য মাত্রায় গ্রিনল্যান্ডবাসীরা আমেরিকার সঙ্গে নিজেদের জুড়তে চায়। কিন্তু মার্কিন রক্তে আবহমান কাল ধরে রয়েছে গ্রীনল্যান্ড অধিকার করার বাসনা। ইনুইটদের কথায় কর্ণপাত করতে কোনকালেই রাজি ছিল না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প বলছেন, নিজেদের সুরক্ষা ও প্রতিরক্ষার জন্য গ্রিনল্যান্ড দরকার যদিও গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের মায়া মোহ ত্যাগ করা বেজায় কঠিন আমেরিকার, তা বলাই বাহুল্য।
গ্রিনল্যাণ্ড,ডেনমার্ক ও আমেরিকা এখন তাই প্রবল ভাবে চর্চায়।গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নিলসেন ইতিমধ্যেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক আলোচনা শেষে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে এক বাক্য জানিয়েছেন যে তারা মোটেই আমেরিকার অধীনে যেতে চান না। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প তা শুনলে তো! তিনি গ্রিনল্যান্ড চান। এরকম পরিস্থিতিতে, গ্রিনল্যান্ডের বৈদেশিক নীতি নির্বাহী ডেনমার্ক কি ভাবছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো দেশকে অ্যানেক্স বা দখল করার অধিকার নেই। তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে “অযৌক্তিক” বলে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে “সামরিক শক্তি” ব্যবহারের যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার প্রতিক্রিয়ায় ডেনমার্ক সতর্ক করেছে যে গ্রিনল্যান্ডে কোনো মার্কিন হামলা হলে তারা প্রথমে গুলি চালাবে এবং পরে আলোচনা করবে। সবমিলিয়ে, গ্রিনল্যান্ড যে আগামী দিনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে উত্তাপ বাড়াতে চলেছে তা নিয়ে সংশয় নেই।।
গ্রিনল্যাণ্ড,ডেনমার্ক ও আমেরিকা #গ্রিনল্যান্ড #আমেরিকা


More Stories
জার্সিতে যৌন অপরাধে প্রাক্তন শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি
বিপত্তারিণী রক্ষাকবচ, অবশেষে হরমুজ প্রণালী ভারতের জন্য খুলে গেল, রান্নার গ্যাস আসছে
ইরানের নয়া শীর্ষ নেতা মোজতাবা খামেনি কেন বিতর্কিত?