Home » শো-কজ নোটিস পেয়েও দিব্যি তৃণমূলের মিছিলে হাজির দুই নেতা

শো-কজ নোটিস পেয়েও দিব্যি তৃণমূলের মিছিলে হাজির দুই নেতা

সানি রায়, সময় কলকাতা, ২৫ জানুয়ারি : বারবার প্রশ্ন ওঠে, আরও একবার উঠল। অভিযোগ, উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় তৃণমূল দল চলছে তুঘলকি রাজে। ফলশ্রুতি,  প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে  স্থানীয় বিধায়ককে অপদার্থ বলছেন বিরুদ্ধে থাকা গোষ্ঠীর নেতারা।  শো-কজ নোটিস পেয়েও তাঁরা হাজির হয়ে যাচ্ছেন দলীয় মিছিলে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিচিত্র চিত্র উত্তরবঙ্গের ধুপগুড়িতে, দলীয় স্তরে ব্যবস্থা নেওয়া দূরস্ত, অব্যবস্থাই এখন ধুপগুড়ির তৃণমূলের ছবি তুলে ধরছে। জলপাইগুড়িতে তৃণমূলের অভ্যন্তরে চলছে চাপানউতোর। প্রশ্ন শীর্ষ নেতৃত্বের তৃণমূলের দলীয় নেতাকর্মীদের উপরে নিয়ন্ত্রণ ঘিরে।

ধূপগুড়ির বিধায়ক ডঃ নির্মল চন্দ্র রায়কে ‘অপদার্থ’ বলে কটাক্ষ করার অভিযোগে সদ্য শোকজ হওয়া দুই তৃণমূল নেতা তাপস কর ও অরুপ দেকে রবিবার ধূপগুড়ির কদমতলা এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের এসসি-ওবিসি সেলের মহামিছিলে দেখা গেল। মিছিলটি অনুষ্ঠিত হয় এসসি-ওবিসি সেলের সভাপতি কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে। মিছিলে বিপুল সংখ্যক কৃষ্ণ দাসের সমর্থকের উপস্থিতি নজর কাড়ে। ধূপগুড়ি পঞ্চায়েত সমিতির একাধিক জনপ্রতিনিধি-সহ বহু তৃণমূল নেতা উপস্থিত ছিলেন। মিছিলের অগ্রভাগে কৃষ্ণ দাসের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে হাঁটতে দেখা যায় শোকজপ্রাপ্ত তাপস কর ও অরুপ দেকে।প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ধূপগুড়িতে তৃণমূল কংগ্রেসের এসসি ও ওবিসি সেলের এক সভায় কৃষ্ণ দাসের উপস্থিতিতেই বিধায়ক ডঃ নির্মল চন্দ্র রায়কে ‘অপদার্থ’ বলে মন্তব্য করেন তাপস কর ও অরুপ দে। তাপস কর আবার আজাদ হিন্দ বাহিনীর নেতা হিসেবে খ্যাত। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল সভাপতি মহুয়া গোপ ওই দুই নেতাকে শোকজ করেন। শোকজের পরও তাঁদের কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বাধীন মিছিলে উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণ দাস বলেন, কর্মিসভায় দলীয় স্তরে কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করতেই পারে। অন্যদিকে, শোকজপ্রাপ্ত অরুপ দে দাবি করেন, শোকজ লেটার ফেসবুক থেকে পেয়েছি। দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি বাইরে গেল কীভাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে বিধায়ক ডঃ নির্মল চন্দ্র রায়ের বক্তব্য, কে কোথায় ও কোন মিছিলে যাবে, সেটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। শোকজের উত্তর দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে নারাজ আপাতদৃষ্টিতে ক্ষুব্ধ বিধায়ক। বিভিন্ন মেরুর বিভিন্ন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। দলীয় চাপানউতোর অভ্যন্তরের দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসছে তা জলপাইগুড়ির তৃণমূলের শীর্ষনেতৃত্বকে বোঝাবে কে?।।

About Post Author