পুরন্দর চক্রবর্তী,সময় কলকাতা , ২৬ জানুয়ারি : প্রতিবছরের মতো প্রজাতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে ঘোষিত হল পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, পদ্মবিভূষণ পুরস্কার। ১৩১ জনের নাম এই তিনটি সম্মানে ঘোষিত হয়েছে। তবে ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ভারতরত্ন পুরস্কার এবছর ঘোষিত হয়নি। উল্লেখ্য ভারতরত্ন সম্মান ইতিহাস ও বিতর্ক এবং ইতিহ্যকে একসাথে বারবার তুলে ধরেছে।
ভারতরত্ন ভারতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা পুরস্কার যা ১৯৫৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই পুরস্কারটি সেই ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেয় যারা জনসেবা বা সাহিত্য, বিজ্ঞান, শিল্প বা অন্যান্য ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী কৃতিত্বের মাধ্যমে জাতির জন্য অসাধারণ অবদান রেখেছেন। এটি দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান হলেও এখানে নগদ অর্থমূল্য নেই। গত ৭২ বছরে ৪৮ জন ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত হয়েছেন যাদের ১৪ জন মরণোত্তর এই সম্মান পেয়েছেন। ১৯৫৪ সালে প্রথম বছর সি রাজাগোপালাচারি, সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণন এবং সিভি রামন এই পুরস্কার পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালে প্রথম সর্বোচ্চ তিনজনের জায়গায় পাঁচজনকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।এঁরা হলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী পিভি নরসিমহা রাও, অপর এক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিং, বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানী, বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কুরপুরি ঠাকুর এবং এম এস স্বামীনাথন। ভারতরত্ন পুরস্কার একবার সরকারের নির্দেশ, অন্যবার আইনি কারণে বন্ধ রাখা হয়। দুবার তিন বছর করে এই পুরস্কার প্রদান বন্ধ ছিল। বিতর্ক বারবার উঠেছে এই পুরস্কার প্রদানে। ১৯৯২ সালে ভারত সরকার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বোসকে এই পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলে আর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক থাকায় তার পরিবার এই সম্মান নিতে অস্বীকার করে এবং এই পুরস্কার প্রত্যাহার করতে হয়। ভারতের সাতজন রাষ্ট্রপতি এখনও পর্যন্ত এই পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। সর্বশেষ নামটি প্রণব মুখার্জীর। তবে কংগ্রেস সরকারের আমলে কংগ্রেস নেতৃত্ব থেকে একাধিক রাষ্ট্রনায়ক দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন, সমালোচনা হয়েছে। একই ভাবে বিজেপি আমলে আদবানি ছাড়াও হিন্দু মহাসভা বা জনসংঘের সঙ্গে যুক্ত একাধিক ব্যক্তিত্বকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে, যেমন নানাজি দেশমুখ বা মদন মোহন মালব্য। গত ১২ বছরে মোদি সরকারের আমলে বিজ্ঞানী স্বামীনাথন ও গায়ক ভীমসেন যোশি ছাড়া সকলেই রাজনীতিবিদ। বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে, তবে রাজনীতিবিদ না হলেও সি এন আর রাওয়ের পুরস্কার ঘিরে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়ে যায়, প্রশ্ন ওঠে হোমি ভাবার চেয়েও বিজ্ঞানে তার অবদান বেশি কিনা! শচীন তেন্ডুলকারের ক্ষেত্রেও ধ্যানচাঁদের তুলনা উঠে আসে।আবার, কেউ বিশ্বের সর্বোচ্চ পুরস্কার বা নোবেল পুরস্কার পেলে তার পরে তাদের ভারতরত্ন সম্মান দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই তালিকায় রয়েছেন মাদার টেরেজা বা সত্যজিৎ রায়। সম্মান পাওয়ার জন্য তাঁদের গুরুত্ব যদিও অস্বীকার বা সমালোচনা করা হয়নি। অন্যদিকে সমালোচিত হয়েছে এমন কিছু রাজনৈতিক নেতাকে ভারতরত্ন পুরস্কার প্রদান যা নির্বাচনে প্রভাব ফেলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে বলেই অভিযোগ। রাজীব গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে এম জি রামচন্দ্রনকে মরণোত্তর ভারতরত্ন সম্মান পুরস্কার হিসেবে দেওয়ার মধ্যে রাজনৈতিক অভিসন্ধি লুকিয়ে ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বরং যে দুজন বিদেশি রাষ্ট্রনায়ককে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে তাদের নিয়ে সে অর্থে বিতর্ক দেখা দেয়নি। তাঁরা হলেন পাকিস্তানের খান আব্দুল গাফফার খান, স্বাধীনতা আন্দোলনে তার অবদান অনস্বীকার্য। অপরজন নেলসন ম্যান্ডেলা, বিশ্ব রাজনীতি ও শান্তির ক্ষেত্রে যার অবদান রয়েছে।।
ভারতরত্ন সম্মান : ইতিহাস ও বিতর্ক


More Stories
ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল ককরোচ জনতা পার্টির উদ্ভব
চিকেন নেকের নিরাপত্তায় মক ড্রিল
কাদের সমর্থনে থালাপতি বিজয় সরকার গঠন করতে চলেছেন?