Home » জাপানে আবার ক্ষমতায় প্রবল ডানপন্থী সানাই তাকাইচি, ভারত কি লাভবান হবে?

জাপানে আবার ক্ষমতায় প্রবল ডানপন্থী সানাই তাকাইচি, ভারত কি লাভবান হবে?

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা, ১০ ফেব্রুয়ারি : ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছিলেন। তিনি জাপানের ১০৪তম প্রধানমন্ত্রী।। প্রবল ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত সানাই তাকাইচি জাপানে আবার ক্ষমতায়। জাপানের সাধারণ নির্বাচনে জয়ী তাঁর দল  জয়ী। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনে জয়লাভের পরে সানাই তাকাইচিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়কে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সুসংবাদ বলেই মনে করছে সাউথ ব্লক? কিন্তু কেন? তাঁর রাজনৈতিক মতাদর্শ কী? তাঁর সম্পর্কে সাধারণভাবে কী জানা যায়?

Oplus_131072

তাকাইচি-র দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি গত জুলাই মাসে নির্বাচনে পরাজিত হলেও জোট বেঁধে অক্টোবরে ক্ষমতায় আসে। অক্টোবর মাসে  জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরে সেবারও তাঁকে অভিনন্দন জানান নরেন্দ্র মোদি। তাঁকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামনে আসে যা আন্তর্জাতিক পটভূমিকায় সাউথ ব্লককে উৎসাহিত করেছিল। সেই অবস্থান ও আস্থা ক্রমেই মজবুত হয়েছে।

৯ ফেব্রুয়ারি জাপানের নিম্ন কক্ষে ৪৬৫ টির মধ্যে ৩১৬ টি আসনে জয়ী হয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি  ক্ষমতায় আসতে চলেছে,  আবার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তাকাইচি। এমতাবস্থায় ভারত- জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক কোন দিকে মোড় নেবে? বিষয়টি বুঝতে হলে তাঁর মতাদর্শ জানতে হবে, জানতে তাঁকে এবং তাঁর মতাদর্শ জানতে হবে।

ভ্যান গগ ও ডোনাল্ড ট্রাম্প : কানকাটা রাজার আদিকথা

 প্রথম জীবনে টেলিভিশনে সংবাদ সঞ্চালক ছিলেন ৬৪ বছর বয়সী সানাই তাকাইচি। জাপানি বেসবল ও রক মিউসিকের প্রতি আগ্রহী  আদর্শ বরাবরই রক্ষণশীলতার মোড়কে ঢাকা। তিনি সমলিঙ্গে বিবাহের বিরোধী এবং তিনি স্বামী – স্ত্রীর উপাধি এক থাকার পক্ষপাতী। তিনি ব্যক্তিগত জীবনে তিনটি দত্তক সন্তান নিয়েছেন। রাজনৈতিক ভাবে,  তিনি মার্কিন – জাপান জোটের সমর্থক হলেও তিনি জাপানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও  বাজেট বৃদ্ধি ও কর ছাড়ের মত অর্থনৈতিক নীতির সমর্থক। এছাড়া, তিনি চীনের প্রতি কঠোর মনোভাব পোষণ করেন এবং নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের পক্ষে সওয়াল করে থাকলেও তাঁর রাজনৈতিক নীতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরে নির্ভরশীলতার কথা বলে না । ব্যক্তিগতভাবে, তিনি বৃটেনের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের আদর্শে অনুপ্রাণিত এবং তাঁর লড়াকু মনোভাবের জন্য তাঁকে আয়রণ লেডি বলে অভিহিত করা হয়। তিনি বরাবরই জাপানকে একটি অতন্ত্র অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন যেখানে ভারতের প্রশংসাও একাধিকবার তার মুখে শোনা গিয়েছে। কী বলেছেন তিনি? কেন তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সাউথ ব্লক তার সম্পর্কে উৎসাহিত হয়েছিল?

 গত এপ্রিলে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির  দলীয় নেত্রী হিসেবে তাইওয়ান সফরে গিয়েছিলেন তাকাইচি। সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে ভারতকে গণতান্ত্রিক জোটের শরিক রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি ভারত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের মধ্যে নিরাপত্তা জোটের সম্ভাবনার কথা জানান। কূটনৈতিক শিবিরের মতে, কূটনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে  তাকাইচি কোয়াডধর্মী চিন-বিরোধী জোটের চিন্তাভাবনা করছেন, যেখানে নয়া দিল্লিকে মাথায় রাখলেও বাদ দেওয়া হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে। সব দিক থেকেই এই মুহূর্তে যা ভারতের কাছে যা আদর্শ। তিনি অতীতে ভারতকে গণতান্ত্রিক, প্রযুক্তিগত এবং উৎপাদন অংশীদার হিসেবে প্রশংসা করেছেন। সবমিলিয়ে, কূটনৈতিক তাঁর এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে তাঁর দলের ক্ষমতায় আসা তাঁর উদারনীতির পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে মজবুত সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়ে উঠতে পারে যা চিনের কাছে মাপসই অক্ষ নাও হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।।

#সানাইতাকাইচি #জাপান #sanaetakaichi

About Post Author