সময় কলকাতা ডেস্ক, ১০ এপ্রিল :মিম-হুমায়ুন ব্রেক আপ! লাভ কার, ক্ষতি কার!
পশ্চিমবঙ্গের ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম (AIMIM) এবং হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) জোট ভেঙে যাওয়ায় লাভ কার হল? প্রসঙ্গত,আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দল মিম (AIMIM) এবং হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র মধ্যে হওয়া জোটটি ভেঙে গিয়েছে কারণ সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের একটি কথিত ‘স্টিং ভিডিও’ প্রকাশ্যে আসে, যেখানে তাঁকে বিজেপির সাথে ১,০০০ কোটি টাকার লেনদেন এবং তৃণমূল সরকারকে ফেলার বিষয়ে আলোচনা করতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মিম-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা এমন কারোর সাথে যুক্ত থাকতে পারে না যাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শুক্রবার মিম ঘোষণা করেছে যে তারা আগামী পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কোনো জোট ছাড়াই একা লড়বে।হুমায়ুন কবীর ভিডিওটিকে ভুয়ো এবং ‘এআই-জেনারেটেড’ (AI-generated) বলে দাবি করেছিলেন, তিনি এখন বলছেন, আমজনতা উন্নয়ন পার্টি মিমের উপরে ভরসা করে বঙ্গের রাজনীতিতে অবতীর্ণ হয়নি, ভোটের আসরেও তারা মিমকে ভরসা করে এগোয়নি। অথচ ইতিপূর্বে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এবং হুমায়ুন কবীরকে মুর্শিদাবাদে একসাথে সভা করতে দেখা গিয়েছিল এবং ২০২৬-এর নির্বাচন পর্যন্ত এই জোট স্থায়ী হওয়ার কথা ছিল। তবে এই সাম্প্রতিক বিতর্কের জেরে দুই দলের পথ আলাদা হয়ে গেল। তবে সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হচ্ছে, নির্বাচনী সমঝোতা হওয়ার পরে মিমের অনেকেই আমজনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে মিশে গিয়ে তাদের হয়ে মনোনয়নপত্র জমা করেছিলেন। যেমন আমডাঙ্গা কেন্দ্রের আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হয়েছেন নিজামুদ্দিন কাসেমী অথচ এতদিন ধরে তিনি মিমের সঙ্গেই যুক্ত থেকেছেন এবং মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময়ও রাজনৈতিকভাবে মিম দলের একনিষ্ঠ কর্মী বলে নিজেকে ঘোষণা করেছিলেন। এরকম অবস্থায় দলের অভ্যন্তরে যে রকম টালমাটাল পরিস্থিতির সূচনা হবে, তেমনই তৃণমূলের কট্টরবিরোধিতা এবং মিম- আমজনতা উন্নয়ন পার্টির প্রতি মানুষের ভরসার জায়গাও কিছুটা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। সেক্ষেত্রে তৃণমূল ভোট ব্যাংক পুষ্ট হতে পারে এবং তৃণমূল রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে কারণ তৃণমূল-বিরোধী ভোট ভাগ হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দেখা দিতে পারে। বঙ্গের বিশেষ কিছু বলয়ে তৃণমূল বিরোধিতা একজোট হওয়ার ক্ষেত্র ছিল কিন্তু তা না হওয়ার কারণে তৃণমূলের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। দিলীপ ঘোষের মত রাজনৈতিক নেতাদের একাংশ আগেই দাবি করেছিলেন, মিম ও হুমায়ুন কবীরের দলের মধ্যে জোট হওয়ায় বিজেপি সুবিধা পেতে পারে। জোট ভেঙেছে, স্বাভাবিকভাবে হাওয়া উল্টো খাতে বইতে পারে।।


More Stories
চিকিৎসকের বঙ্গসংস্কৃতির উদযাপন নববর্ষে
রাহুল কি মমতাকে ভয় পাচ্ছেন?
মধ্যমগ্রামে রথীন ঘোষ ম্যাজিক কি অব্যাহত?