Home » অভিনেতাদের কাছে সেরা-টুকু নেওয়ার মাস্টার আর্ট ছিল সত্যজিৎ রায়ের জানা

অভিনেতাদের কাছে সেরা-টুকু নেওয়ার মাস্টার আর্ট ছিল সত্যজিৎ রায়ের জানা

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা : তিনি বিভিন্ন কারণেই সত্যজিৎ রায় অথবা এও বলা যায় তিনি সত্যজিৎ রায় তাই তিনি অনন্য।  অভিনেতাদের কীভাবে ও যথাযথভাবে ব্যবহার করতে হয় তা তিনি জানতেন কারণ তিনি সত্যজিৎ রায়। অপরাজিত’ তে যেভাবে তিনি কমিক অভিনেতা হিসেবে খ্যাত কালী বন্দ্যোপাধ্যায়কে পুরুতের চরিত্রে ব্যবহার করিয়েছিলেন তা থেকেই পরিষ্কার কাকে দিয়ে কী হয় সেই বোধ বোধহয় তাঁর চেয়ে ভালো কারও ছিল না। উল্লেখ করা যেতে পারে, তারাশঙ্কর রচিত জলসাঘরের সুদক্ষ চলচ্চিত্রায়নে যেভাবে ছবি বিশ্বাসকে ব্যবহার তিনি করেছিলেন তা তাঁর পক্ষেই সম্ভব । সত্যজিৎ নিজেই জানিয়েছিলেন, ” ছবি বাবুর মত অভিনেতা না থাকলে ” জলসাঘরের চিত্ররূপ দেওয়া সম্ভব হত কিনা তাঁর জানা নেই। দেবী ও কাঞ্চনজঙ্ঘার পাশাপাশি এই যে সঠিক মানুষকে সঠিক ভাবে ব্যবহার তা সত্যজিৎ রায়ের চেয়ে ভালো কে জানত!তিনি এজন্যই সফল হয়েছিলেন, কারণ তিনি জানতেন ও তিনি মানতেন, ” আমাদের দেশের একটা বিশেষ ট্রাজেডি হল এই যে, এখানে সৎ অভিনেতা – অভিনেত্রীর সংখ্যা সৎ পরিচালক বা চিত্রনাট্যকারদের চেয়ে অনেক বেশি, ফলে তাদের যোগান দেওয়ার লোকের অভাব “। তিনি এই বাধা অতিক্রমের চেষ্টা করেছেন, তাই তুলসী চক্রবর্তী “পরশ পাথর” হয়ে রয়ে গিয়েছেন। তুলসী চক্রবর্তীর প্রয়াণ প্রসঙ্গে সত্যজিৎ রায় লিখেছিলেন,”.. যারা হাস্যরস পরিবেশন করেন, তাঁদের মধ্যে দক্ষ অনেকেই আছেন, কিন্তু তুলসীবাবুর জায়গা নেওয়ার কেউ নেই, কেউ ছিল না , কেউ হয় নি, কেউ হবে না। ” তুলসী চক্রবর্তী সত্যজিৎ রায়ের কাছে ভালো কাজ পেয়েছিলেন। শুধু কালী বন্দ্যোপাধ্যায়,ছবি বিশ্বাস, তুলসী চক্রবর্তী নয়। ভালো অভিনেতাদের ভালো কাজ না পাওয়ার ট্র্যাজেডি দূর করাই যেন ছিল সত্যজিৎ রায়ের অন্যতম ব্রত। এ প্রসঙ্গে জটায়ু বা সন্তোষ দত্তের কথা মনে পড়তে বাধ্য। মনে পড়তে পারে কামু মুখার্জীর কথা।যাকে দিয়ে যা হয় না তা করানো এবং সততা না থাকাই ভালো কাজের অন্তরায় মনে করে এসেছেন সত্যজিৎ রায় , তাই ঠিক নিজের মত করে গতানুগতিক প্রথা ভেঙেছেন আপন ছন্দে। আর তাই সাফল্যের অন্য নাম সত্যজিৎ রায়। তাই তো তিনি আইকন।

(তাঁর জন্মদিনে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য।।)

About Post Author