Home » জন্মদিনে বাড়ি নিয়ে নারাজ বাবা-মা, সহপাঠীর হাত ধরে হোস্টেল থেকে চম্পট নাবালক পড়ুয়ার!

জন্মদিনে বাড়ি নিয়ে নারাজ বাবা-মা, সহপাঠীর হাত ধরে হোস্টেল থেকে চম্পট নাবালক পড়ুয়ার!

Oplus_131072

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা , ১৯ জুন : প্রতিবছর বাড়িতে থেকেই জন্মদিন উদযাপন করা হত। এবারও জন্মদিন প্রায় চলে এসেছে অথচ বাড়ি নিয়ে যেতে নারাজ বাবা-মা। একটানা ছাত্রাবাসে থাকতে থাকতে হয়তো বাড়ির জন্য মনকেমন! বাবা-মার কাছে আবদার ধরেছিল বছর তেরোর পড়ুয়া, জন্মদিনে বাড়ি নিয়ে যেতে হবে। বাবা মা রাজি হয়নি। জন্মদিনে বাড়ি যেতে পারবে না জেনেই হয়তো নাবালক পড়ুয়া আরেক নবাগত সহপাঠির হাত ধরে উধাও হয়ে গেল স্কুল থেকে। নবাগত অপর সহপাঠী সবেমাত্র ছাত্রাবাসে আঁকতে শুরু করেছিল , প্রাথমিকভাবে হয়তো মানাতে সম্ভবত অসুবিধা হচ্ছিল। জন্মদিনে বাড়ি যেতে না পারাই, পালানোর কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন অস্বস্তিতে থাকা স্কুল কর্তৃপক্ষ, চিন্তিত বাড়ির অভিভাবকরা।

বারাসাতের একটি নামজাদা স্কুলের ছাত্রাবাস থেকে ভোজবাজির মত উবে গেল দুই নাবালক স্কুল পড়ুয়া । দুজনেই নদীয়ার বাসিন্দা , দুজনের বয়স ১৩।একজন বাদকুল্লার বাসিন্দা, অন্যজন কৃষ্ণনগরের। যার জন্মদিন এমাসেই, সে এক বছর ধরেই ধরেই ছাত্রাবাসে ছিল। বাবা -মা আসতেন দেখা করতে।একজন আবার সবেমাত্র ভর্তি হয়েছিল, তার মা কার্যত শয্যাশায়ী। তিনদিন হতে না হতেই সে সহপাঠির হাত ধরে ” স্কুলের ছাত্রাবাস কর্তৃপক্ষর অবহেলায় ” সকলের নজর এড়িয়ে স্কুল থেকে চলে যায়। ঘটনার প্রায় একদিন পরেও দুইছাত্রই নিখোঁজ। মধ্যমগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের। চরম উদ্বিগ্ন দুই নিখোঁজ স্কুলছাত্রের পরিবার।

স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা বলে, দেবাশীষ দে জানিয়েছেন যে তাঁরা অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং এরকম অনভিপ্রেত ঘটনা স্কুলের ইতিহাসে এই প্রথম। স্কুল কর্তৃপক্ষ গাফিলতির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তাঁরা বলেছেন, সিসিটিভি ফুটেজে অত্যন্ত পরিষ্কারভাবেই দেখা যাচ্ছে তারা পরিকল্পিতভাবেই গেটম্যানের নজর এড়িয়ে চম্পট দেয়। তবে কি জন্য এই ছাত্র দুটি পালিয়েছে তা তাঁদের জানা নেই। রাত সাড়ে আটটার সময় এই ঘটনা তারা জানতে পেরে নিজেরা খোঁজ নিতে চেষ্টা করেন এবং সকালে মধ্যমগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। মধ্যমগ্রাম থানা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে এবং ভুক্তভোগী দুই পরিবারকে দ্রুত পড়ুয়া দুজনকে উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে এই আশ্বাস বচনের পরেও ক্ষোভ রয়েছে বাড়ির অভিভাবকদের। সপ্তম শ্রেণীর পড়ুয়ার বাবা জানিয়েছেন, স্ত্রী অসুস্থ বলেই বাধ্য হয়ে ছেলেকে বোর্ডিং স্কুলে রাখতে হচ্ছে। যাদের হাতে ভরসা করে একমাত্র ছেলেকে তুলে দিয়ে গিয়েছিলাম , সেখান থেকে সে উধাও হয় কি করে! কায়মনোবাক্যে ঈশ্বরকে ডাকছেন দুই নিখোঁজ পড়ুয়ার পরিবার।।

About Post Author