পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা ডেস্ক, ১৯ জুন : লোকসভা ও রাজ্যসভায় ভাঙাগড়ার খেলা চলছে। মনে করা হচ্ছে, লক্ষ্য দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন আদায় করে নেওয়ার সমীকরণই যাবতীয় ভাঙ্গা গড়ার নেপথ্যে । ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ বিল কি আনতে পারবে বিজেপি? প্রাথমিকভাবে এই বিলের সমর্থনে বিজেপির দরকার লোকসভায় ৩৬২ জন সাংসদ।সফল কি হবে বিজেপি? কংগ্রেস যাবতীয় ভাঙ্গা করার জন্য বিজেপিকে দায়ী করলেও কর্ণাটক থেকে নির্বাচিত রাজ্যসভার কংগ্রেস সদস্য জয়রাম রমেশের দাবি, ‘আমি নিশ্চিত করছি যে, হাজার চেষ্টা করেও এই সংখ্যা অর্জন করতে পারবেন না অমিত শাহ। সরকার যদি আবার বিল আনে, আবার ব্যর্থ হবে।’ প্রশ্ন বিজেপির ব্যর্থ হওয়ার কতটা সম্ভাবনা রয়েছে?
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয় বিজেপি। ৫৪৩ জনের মধ্যে মাত্র ২৪০ টি আসন জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদেরকে। ইন্ডিয়া জোটের সদস্য সংখ্যা অবশ্য শেষ পর্যন্ত বাড়তে বাড়তে হয়েছিল ২৯৮। প্রধান বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের আসন সংখ্যা ছিল ২০৪। মহারাষ্ট্রর বিরোধী শক্তিকে ভেঙে ফেলেও সুবিধা হয়নি বিজেপির। ডিলিমিটেশন ও মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাশ করাতে গিয়ে সংসদে ব্যর্থ হয়েছেন অমিত শাহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই জ্বালা ভুলতে বর্ষাকালীন অধিবেশনের আগে আগ্রাসীভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাঁর দল। এখন একটাই লক্ষ্য, যেকোনো ভাবে দুই তৃতীয়াংশ সমর্থন দখল করা।
প্রসঙ্গত বিগত একমাসের মধ্যে রাজ্যসভা ও লোকসভায় ” সাঁড়াশি আক্রমণে” তৃণমূল ভেঙে খানখান হয়ে যায়। তৃণমূলের কীর্তি আজাদ প্রথম থেকেই ভাঙ্গনের জন্য অর্থনৈতিক উপঢৌকনের তত্ত্ব খাড়া করে আসছিলেন। মহুয়া মৈত্র সরাসরি অভিযোগ করেছেন, ৪০ কোটি টাকা দিয়ে কিনে নেওয়া হচ্ছে তৃণমূল সাংসদদের ।তিনি এও অভিযোগ করেছেন, তার কাছে খবর রয়েছে যে প্রথমে ৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং পরে ৩৬ মাস ধরে এক কোটি টাকা করে দেওয়া হবে। অপারেশন লোটাস শেষে এনডিএ শিবিরে বঙ্গের কুড়িজন সাংসদ যোগ দেওয়ায় এনডিএ-র সাংসদ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১৮।
লোকসভায় বিল পাস করাতে লাগবে ৩৬২ জন সাংসদের সই। অর্থাৎ এখনো ৪৪ জন সাংসদকে প্রয়োজন এনডিএর।মহারাষ্ট্রে শিবসেনার উদ্ধব ঠাকরে দাবি করেছেন, তাঁর দল ছেড়ে এনডিএ শিবিরে যোগদান করতে তার দলের সাংসদদের ৫০ কোটি টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। শিবসেনার সংসদে রয়েছে ৯ জন সদস্য। শিব সেনাতে ভাঙ্গন ধরানো যদিবা সম্ভবপর হয় , তারপরেও ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। সুতরাং অপারেশন উত্তর প্রদেশ। বিজেপির উত্তরপ্রদেশের পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রী ওমপ্রকাশ রাজভর বলেছেন, উত্তরপ্রদেশে বহু সমাজবাদী পার্টির নেতা বিজেপি শিবিরে যোগদানের জন্য তলায় তলায় যোগাযোগ করেছেন। সমাজবাদী পার্টি এই মুহূর্তে লোকসভায় তৃতীয় শক্তি। তাদের সাংসদ সংখ্যা ৩৭। শিবসেনা এবং সমাজবাদী দলে বঙ্গের মত ভাঙনে এনডিএ শিবিরে সাংসদরা যোগদান করলে এনডিএ-র সংখ্যা প্রায় ৩৬২-র কাছাকাছি হয়ে যাবে। অংক মানতে নারাজ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের চ্যালেঞ্জ, ‘বিজেপি সমস্ত বিরোধী দলে হানা দিয়ে দল ভাঙার খেলায় নেমেছে। কিন্তু মোদি সরকার যেটা চাইছে সেটা হবে না। ৩৬২ আসন দখল করার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাবে। ”

জয়রাম রমেশের দাবির বাস্তবতা কতটা? উল্লেখ্য ডিএমকে-র লোকসভায় সাংসদ সংখ্যা ২২। বঙ্গভঙ্গের পরে অন্য রাজ্যগুলিতে ভাঙন ধরিয়ে শেষে তামিলনাড়ুর ডিএমকে স্টালিন শিবিরেও যদি অপারেশন লোটাস সামান্য কার্যকরী হয়ে যায়, বা ইন্ডিয়া শিবিরে আরও ভাঙন ধরানো যায় তাহলে জয়রাম রমেশের তত্ত্ব টেকে না। তিনি যতই মোদি সরকারের স্বপ্ন অধরা থাকার চ্যালেঞ্জ করুন তা কতটা ধোপে টিকবে বলা বড়ই দায়! সদ্য রাজ্যসভায় ক্রস ভোটিংয়ে কংগ্রেসের পরাজয় সুনিশ্চিত ভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে বিজেপি যুদ্ধজয়ের জন্য মরিয়া এবং ২০২৯ সালে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি ডিলিমিটেশন বিল এনে পর্ব সেরে ফেলতে চায়।।


More Stories
অবিলম্বে অভিষেক গ্রেফতার হতে পারেন কোন মামলায় ? আর কী কী মামলা রয়েছে যেখানে জেলে যেতে পারেন তিনি?
বিজেপি বিপক্ষ দল ভাঙাতে কত কোটি টাকা দিচ্ছে বলে অভিযোগ?
এনসিপিআই-এ সই, মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ মানছেন না রচনা