Home » চা-বাগানে প্রকাশ্যে লেপার্ডের গরু শিকার

চা-বাগানে প্রকাশ্যে লেপার্ডের গরু শিকার

Oplus_131072

সানি রায়, সময় কলকাতা : বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ কেনেথ অ্যান্ডারসন বলেছিলেন জঙ্গল কখনো কাউকে ক্ষমা করে না। এখানে দুর্বল হওয়াই  মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ। তাঁর বিখ্যাত উক্তি ছিল “”পশুদের রাজত্বে কোনো দয়া নেই। শক্তিই আইন, আর দুর্বল হলো সেই আইনের শিকার।” অনেক সময় জঙ্গলের নির্মম বাস্তব চলে আসে প্রকাশ্যে। মানুষের চলার রাস্তায় চোখে পড়ে যায় জঙ্গলের আইন যেখানে দয়া বা ক্ষমা বলে কিছু নেই। এরকমই এক ঘটনায় ভরা দিনের আলোয় চা বাগানের রাস্তায় প্রকাশ্যেই এক প্রকাণ্ড গরুকে শিকার করল একটি পূর্ণবয়স্ক লেপার্ড।

জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটা ব্লকের অন্তর্গত নাগেশ্বরী চা বাগানে এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে। চা গাছের আড়াল থেকে আচমকা এক ঝটকায় লেপার্ডটির ঝাঁপিয়ে পড়ার এই দৃশ্যটি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নাগেশ্বরী চা বাগানের ভেতরের একটি নির্জন মাটির রাস্তা দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন যুবক। হঠাৎ করেই চলন্ত গাড়ির একদম সামনে চা গাছের ঘন ঝোপ থেকে একটি চিতাবাঘ রাস্তায় চলে আসে। মানুষ বা গাড়ির উপস্থিতিকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা না করে, চোখের নিমেষে সেটি একটি গরুর ঘাড় কামড়ে ধরে। এরপর মুহূর্তের মধ্যে শিকারটিকে কাবু করে টেনে নিয়ে যায় চা বাগানের আড়ালে।গাড়িতে থাকা চা বাগানের কর্মীরা চোখের সামনে এই ভয়ংকর দৃশ্য দেখে কিছুক্ষণের জন্য বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে নিজেদের সামলে নিয়ে দূর থেকেই মোবাইলের ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি বন্দি করেন তাঁরা। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি ফেসবুকে ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়।ডুয়ার্সের চা বাগানগুলিতে লেপার্ডের আনাগোনা বা আশ্রয় নেওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। বাগানের ঘন চা গাছের সারি দীর্ঘদিন ধরেই এদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে। তবে সাধারণত রাতের অন্ধকারে এদের দেখা মিললেও, দিনের আলোয় প্রকাশ্য রাস্তায় এমন হিংস্র রূপ দেখে থমথমে আতঙ্ক দানা বেঁধেছে গোটা এলাকায়। প্রতিদিন বাগানে কাজ করতে যাওয়া চা-শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংলগ্ন এলাকায় বনদফতরের টহলদারি ও কড়া নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।।

About Post Author