সানি রায়, সময় কলকাতা : মাটির বুকে এক টুকরো স্বর্গের নাম হেভেন শেলটার হোম পরিবার। লর্ড বায়রণ বলেছিলেন, “একটি সুখী পরিবার যেন পৃথিবীর বুকেই এক টুকরো স্বর্গ।” নিরাশ্রয়দের আশ্রয় দিয়ে ও বাঁচার জিয়নকাঠি তাঁদের হাতে তুলে দিয়ে হেভেন সেল্টার হোম পরিবারকে প্রকৃত অর্থেই স্বর্গ বানিয়েছেন সাজু তালুকদার। মূলত মানসিকভাবে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা মানুষদের নিয়ে গড়ে তোলা পরিবারকে তিনি টেনে নিয়ে চলেছেন প্রবল আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়েও। সাজু তাঁর পরিবারের ৮০ জন সহায় সম্বলহীন মানুষকে নিয়ে পথ চলছেন আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে। প্রায় অসম্ভব এবং দুঃসাধ্য হলেও হার না মেনে এগিয়ে চলার শপথ তাঁর। তবুও আর যেন পারা দায়! পুলিশ – প্রশাসন এবং সরকারি সাহায্য পেলে হেভেন শেলটার হোমকে মর্তের স্বর্গ হিসেবে বাঁচিয়ে রাখার উদ্যোগ তাঁর সফল হয়। আলিপুরদুয়ার জেলা পুলিশ তাঁর পাশে এসে দাঁড়িয়েছে, মসৃণ হবে কি তার পথ চলা? হেভেন
কীভাবে হেভেন গড়ে উঠল শুনলে বিস্মিত হতেই হবে। একসময়ের পেশায় গাড়িচালক, ডুয়ার্সের ডিমডিমা চা বাগানের বাসিন্দা সাজু তালুকদারের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল এক মানবিক পথচলা। সমাজের অসহায় ও নিরাশ্রয় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকে প্রথমে বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরনো জামাকাপড় সংগ্রহ করতেন তিনি। আজ সেই ক্ষুদ্র প্রয়াসই রূপ নিয়েছে একটি বড় আশ্রমে।রাস্তাঘাটে পড়ে থাকা ভবঘুরে এবং নিরাশ্রয় মানুষদের উদ্ধার করে নিজের আশ্রমে ঠাঁই দেন সাজু। বর্তমানে তাঁর এই হোমে প্রায় ৮০ জন আবাসিক রয়েছেন, যাঁদের সিংহভাগই মানসিক ভারসাম্যহীন। পরিস্থিতি এমন যে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনও এখন এই আশ্রমের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন এলাকায় কোনও অসহায় বা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ঘুরে বেড়াতে দেখলেই পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে সাজুর এই ঠিকানায়।
স্বর্গে আন্তরিক সদিচ্ছা প্রচুর তবে সংকট ক্ষুদ্র নয়।বর্তমানে এই বিশাল সংখ্যক মানুষের প্রতিদিনের খাবার, ওষুধ ও আনুষঙ্গিক খরচ চালাতে গিয়ে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হয়েছেন সাজু তালুকদার। তাঁর দাবি, প্রতি মাসে এই আশ্রম চালাতে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ হয়। অথচ সরকারি স্তরে কোনও আর্থিক অনুদান মেলে না। ফলে আবাসিকদের দু’বেলার অন্নসংস্থান করতেই এখন কালঘাম ছুটছে তাঁর।এই চরম সঙ্কটের খবর পেয়ে বুধবার আলিপুরদুয়ারের বীরপাড়ার ওই শেল্টার হোমে সশরীরে হাজির হন আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতকুমার সাউ এবং এসডিপিও সোমনাথ ঝা। তাঁরা আবাসিকদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের জন্য খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন।
হেভেন শেল্টার হোম পরিবারে প্রশাসনের পরিদর্শনকালে সাজু তালুকদার পুলিশ সুপারের কাছে জানান যে, আইনি জটিলতার কারণে তাঁর এই শেল্টার হোমটির এখনও কোনও সরকারি রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশ সুপার। একই সঙ্গে সাজুর এই নিঃস্বার্থ মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। জেলাশাসকের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলার আশ্বাসও দিয়েছেন পুলিশ সুপার।এখন দেখার মাটির বুকে স্বর্গ -“হেভেনে “ঈশ্বরের আশীর্বাদ স্বরূপ সরকারি সাহায্য পাওয়া যায় কিনা! আশাবাদী সাজু তালুকদার।।


More Stories
মদের ঠেকে ভাঙচুর প্রমীলা বাহিনীর
ডুয়ার্সের সোনম ওয়াংচুক কৃপা হাঁসদা
পাহাড়ি নদী ও অভয়ারণ্যের পাশ দিয়ে সুন্দরী ডুয়ার্সের বুক চিরে ছুটবে ট্রেন