সানি রায়, সময় কলকাতা, ৬ অগাস্ট : কৃষি ক্ষেত্রকে সুরক্ষিত রাখতে কৃষকদের অতি সক্রিয়তায় এবং বেআইনিভাবে বিদ্যুৎবাহী তারের ফেন্সিং দেওয়ায় প্রাণ যাচ্ছে আরণ্যক প্রাণীদের। কৃষকদের বেআইনি তারজাল ও বিদ্যুৎবাহী তারের ব্যবহার নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। তবুও উত্তরবঙ্গে একাধিক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে যেখানে কৃষকদের অতি সক্রিয়তায় প্রাণ যাচ্ছে হাতির। দুমাসও হয়নি আলিপুরদুয়ারে বিদ্যুৎবাহী তারের সংস্পর্শে এসে মৃত্যু হয়েছিল হাতির। এবার আবার ধানখেতে মিলল বুনো হাতির দেহ, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর জল্পনা ফালাকাটায়, উঠেছে প্রশ্নচিহ্ন।
চাষের জমিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বুনো হাতির মৃত্যুর আশঙ্কা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটায়। বৃহস্পতিবার সকালে ফালাকাটা ব্লকের ময়রাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের হরিমন্দির এলাকায় এক পূর্ণবয়স্ক দাঁতাল হাতির দেহ উদ্ধার কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। বন দপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, খেতের ফেন্সিং তারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার ফলেই প্রাণ হারিয়েছে বন্যপ্রাণীটি।
বন দপ্তর ও স্থানীয় সূত্রের খবর, গত বুধবার রাতে মাদারিহাট রেঞ্জের দক্ষিণ খয়েরবাড়ি বিটের জঙ্গল থেকে একদল বুনো হাতি লোকালয়ে ঢোকে। ভোরের দিকে দলের অন্য হাতিগুলি জঙ্গলে ফিরে গেলেও একটি দাঁতাল হাতি ফিরতে পারেনি। বৃহস্পতিবার সকালে এলাকার ধান খেতের পাশে হাতিটিকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দক্ষিণ খয়েরবাড়ি বিট ও মাদারিহাট রেঞ্জের বনকর্মীরা।
ঘটনাস্থলে পরীক্ষা করে দেখা যায়, মৃত হাতির একদিকের কানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার স্পষ্ট দাগ রয়েছে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, হাতির তাণ্ডব থেকে ফসল বাঁচাতে বহু কৃষক বেআইনিভাবে খেতের চারপাশের ফেন্সিংয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন। সেই বিপজ্জনক ফেন্সিংয়ের সংস্পর্শেই অনাকাঙ্ক্ষিত এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে অনুমান। বনকর্মীরা তল্লাশি চালিয়ে দুর্ঘটনাস্থলের চারপাশ থেকে বেশ কিছু বাঁশের খুঁটি ও ফেন্সিংয়ের বিদ্যুতবাহী তার বাজেয়াপ্ত করেছেন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত খেতের মালিক পলাতক।
বন দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে বন দপ্তর।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন শালকুমারহাটের কলাবাড়িয়া গ্রামেও একইভাবে বিদ্যুতবাহী তারের সংস্পর্শে এসে একটি বুনো হাতির মৃত্যু হয়েছিল। পর পর এ ধরনের ঘটনায় উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা এবং কৃষকদের বেআইনি তার জালের ব্যবহার নিয়ে ফের বড় প্রশ্ন উঠে গেল।


More Stories
সর্প আতঙ্ক গ্রাস করছে ধূপগুড়িকে
আলোর উৎসব ও অস্তিত্বের যুদ্ধ- যে জনপদে ৩৬৫ দিনের দীপাবলি
গজরাজদের খিদে পায়, হাতি কাহা কাহা চলে !