সানি রায়, ৮ অগাস্ট : ভারতবর্ষের স্বাধীনতার ৭৯ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। স্বাধীনতা দিবস সমাগত। ৭৯ বছরে যে আশীর্বাদ ধুপগুড়ির কিছু পরিবারের কাছে ছিল শুধুই স্বপ্ন তা পূরণ হতেই পরিবার গুলির মানুষের মুখে যেন হাজার ওয়াটের আলো।বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই ঘরে বিদ্যুতের আলো, ছয় পরিবারের কাছে যেন অকাল দীপাবলি,নেপথ্যে বিজেপির বুথ সভাপতি লিটন ঘোষ।
আধুনিকতার আলোয় দেশ এগিয়ে চলেছে, প্রযুক্তিও উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে জীবনযাত্রা। কিন্তু এখনও এমন বহু পরিবার রয়েছে, যাদের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছনোটাই ছিল দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্নই অবশেষে পূরণ হলো উত্তরের জনপথ জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়িতে। প্রথমবার ঘরে বিদ্যুতের আলো জ্বলতেই খুশিতে ভেসে উঠল ছয়টি পরিবার। জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের মাগুরমারি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝাড় মাগুরমারি এলাকায় ছয়টি পরিবারের ঘরে এদিন সন্ধ্যায় প্রথমবারের মতো জ্বলল বিদ্যুতের আলো। দীর্ঘদিন ধরে সন্ধ্যা নামলেই যে বাড়িগুলি ডুবে যেত অন্ধকারে, সেখানেই এদিন আলো জ্বলার সঙ্গে যেন নেমে এল অকাল দীপাবলির আবহ। আট থেকে আশি শিশু থেকে বৃদ্ধ পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন এই দিনটির জন্য। বিশেষ করে বয়স্ক সদস্যদের অনেকেই মনে করেছিলেন, হয়তো জীবদ্দশায় নিজেদের ঘরে বিদ্যুতের আলো দেখে যাওয়ার সুযোগ আর হবে না। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হওয়ায় তাঁদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দ ও স্বস্তির ছাপ।
পরিবারগুলির দাবি, বিভিন্ন কারণে এতদিন তাঁদের বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছয়নি। দীর্ঘদিনের সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে তাঁদের ঘরেও পৌঁছেছে বিদ্যুতের আলো।বিদ্যুৎ আসায় শুধু ঘর আলোকিত হয়নি, বদলে গেছে পড়ুয়াদের দৈনন্দিন জীবনও। এতদিন সন্ধ্যার পর অন্ধকারের কারণে পড়াশোনায় সমস্যায় পড়তে হতো ছাত্রছাত্রীদের। এখন থেকে বিদ্যুতের আলোয় নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারবে তারা। স্থানীয়দের দাবি, ছয়টি পরিবারের ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এলাকার বিজেপির বুথ সভাপতি লিটন ঘোষের। তাঁদের বক্তব্য, প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি এই পরিবারগুলির বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর অবশেষে সেই উদ্যোগ সফল হয়েছে।
তবে বিদ্যুৎ এলেও এখনও রয়ে গিয়েছে আরেক সমস্যা। ছয়টি পরিবারের সঙ্গে মূল এলাকার যোগাযোগের জন্য এখনও ভালো রাস্তা নেই। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের আশ্বাস, দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর যেভাবে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হয়েছে, আগামী দিনে সেভাবেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হবে। একদিকে ঘরে প্রথমবার বিদ্যুতের আলো, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অন্ধকার কাটার আনন্দ ছয়টি পরিবারের কাছে এদিনের সন্ধ্যা তাই নিছক একটি সন্ধ্যা নয়, বরং নতুন আশার সূচনা।


More Stories
মাটির বুকে স্বর্গ, সাজুর ‘হেভেন’ বাঁচিয়ে রাখার প্রতিশ্রুতি পুলিশ প্রশাসনের
মদের ঠেকে ভাঙচুর প্রমীলা বাহিনীর
ডুয়ার্সের সোনম ওয়াংচুক কৃপা হাঁসদা