Home » বসন্ত উৎসবে বসন্তকে বাঁচানোর অভিনব বার্তা এক শিক্ষকের

বসন্ত উৎসবে বসন্তকে বাঁচানোর অভিনব বার্তা এক শিক্ষকের

সময় কলকাতা ডেস্ক: আর একদিন পরেই বসন্ত উৎসব। রঙের উৎসবে মাধ্যমে গোটা দুনিয়া। আর বসন্ত মানে জীবন রঙ্গিন হবে না তা কি হয়! এই বসন্তকালে পরিবেশও সেজে ওঠে তার আপন রূপে। গাছেরাও পুরনো পাতা ঝরিয়ে অপূর্ব সৌন্দর্য ভরিয়ে তোলে পুরো জঙ্গলমহল এলাকায়। জানান দেয় ‘বসন্ত এসে গেছে’। আর জঙ্গলমহলের এই বসন্ত একদিকে যেমন আকৃষ্ট করে পরিবেশ প্রেমীদের, ঠিক তেমনই রুজি রোজগারের জোগান দেয় জঙ্গলমহল লাগোয়া বাসিন্দাদের।

জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করা কাঠ পাতা গাছের ছাল দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে বহু পরিবার। তবে মাঝে মধ্যেই দেখতে পাওয়া যায় কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয় জঙ্গলে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় জঙ্গলে থাকা বহু গাছ এবং বন্যপ্রাণীরা। পাশাপাশি, রুজি রোজগারে ব্যাঘাত ঘটে জঙ্গলমহল লাগোয়া বহু পরিবারের। জঙ্গলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ফলে নষ্ট হয় জঙ্গলে জন্মানো বহু ছাতুর ভ্রুন, ধোঁয়ার কারণে মৌমাছিরাও অন্যত্র চলে যায়। ফলে ছাতু ও মধু সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে জঙ্গলমহল লাগোয়া পরিবারগুলির।

তবে এই বসন্তে জঙ্গলমহলের বসন্তকে বাঁচানোর অভিনব প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন গুড়গুড়িপাল হাইস্কুলের শিক্ষক ব্রজদুলাল গিরি। গাছের মধ্যে বাঁধা রয়েছে জঙ্গল বাঁচানোর একাধিক বার্তা। যার মধ্যে অভিনব “এই বসন্তকে আগুনে পোড়াবেন না”। এইবার তাকে সামনে রেখেই এবারের বসন্ত উৎসবে শামিল হতে চান তিনি। হ্যাঁ, একজন শিক্ষক হিসেবে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের পরিবেশ নিয়ে সচেতন করতে তাদেরও এই কাজে নিযুক্ত করেছেন।আগামী দিনে জঙ্গলকে বাঁচাতে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে বিভিন্ন ফলের বীজ রোপণ করা হবে বলেও জানাচ্ছেন এই শিক্ষক। শিক্ষকের এই অভিনব প্রচেষ্টায় আগের থেকে অনেকটাই সচেতন হয়েছে সাধারণ মানুষ।

জঙ্গলে আগুন নিয়ন্ত্রণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বনদপ্তরের কর্মীরাও। গুড়গুড়িপাল বিট অফিসার সুশান্ত ঘোষের দাবি, ‘চলতি বছরে জঙ্গলে আগুন লাগানোর ঘটনা অনেকটাই কমেছে। যে কয়েকটি জায়গায় আগুন লেগেছিল তা তৎপরতার সাথে মোকাবিলা করা গেছে বলে দাবি এই বনকর্মীর।

শুধু জঙ্গল বাঁচানোই নয়, একজন শিক্ষক হিসেবে সমাজ সচেতনতার কাজও সমানে করে চলেছেন ব্রজদুলালবাবু। জঙ্গলমহল লাগোয়া বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে কন্যা সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করার বার্তাও দিচ্ছেন ওই শিক্ষক। শিক্ষকের এমন অভিনব প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন পরিবেশপ্রেমী থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

About Post Author