সময় কলকাতা ডেস্কঃ কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি দেশজুড়ে দু দিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। দেশের শ্রম কোড বাতিল, অসংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিক যারা পিএফ সুবিধার আওতায় নেই তাঁদেরকে সেই তালিকাভুক্ত করা, করোনাকালে কাজ হারানো পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য আর্থিক সাহায্য প্রদান, দেশজুড়ে আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ সহ একাধিক ইস্যু সামনে রেখে সোমবার থেকে টানা ৪৮ ঘণ্টার জন্য দেশজুড়ে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি। সোমবার সকাল থেকে বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উঠে এসেছে বিক্ষিপ্ত অশান্তির ছবি।সকালে একাধিক রাস্তায় চলে বিক্ষোভ। কোথাও আবার জোরপূর্বক বন্ধ করা হয় দোকান। প্রবল সমস্যায় পড়ছেন নিত্য যাত্রীরা। জনজীবনে যাতে ধর্মঘটের প্রভাব না পড়ে সেদিকে নজর রেখেছে রাজ্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ স্বাভাবিক হয়েছে পরিস্থিতি।

নিউটাউন গৌরাঙ্গনগর ঢালাই ব্রিজ মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে সিপিআইএম কর্মী সমর্থকেরা। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করে তারা। নিউটাউন থানার পুলিশ গিয়ে অবরোধ তুলে দেয়। ধর্মঘটের সমর্থনে নিমতৌড়িতে জাতীয় সড়ক অবরোধ করে এসইউসিআই(কমিউনিস্ট)দলের। সল্টলেক ১০ নম্বর ট্যাংক থেকে মিছিল শুরু করে করুণাময়ী মোড়ে এসে রাস্তা অবরোধ করে। অন্যদিকে সিপিএমের পক্ষ থেকে বেলঘরিয়া স্টেশন অবরোধ করার উদ্দেশ্যে জমায়েত হলে বেলঘড়িয়া থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়।

সিআইটিইউ নেত্রী গার্গী চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শ্যামনগর স্টেশনে রেল অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। রেল পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি বেঁধে যায় বিক্ষোভকারীদের। শ্যামনগর চৌরঙ্গী মোড়ে পথ অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় সমর্থকরা। পাশাপাশি নিউটাউন বিশ্ববাংলা সরণিতে রাস্তায় শুয়ে অবরোধ করে কর্মীসমর্থকেরা। ইকোপার্ক থানার পুলিশ এসে অবরোধ তুলে দেয়।

জলপাইগুড়িতে সকাল থেকে রাস্তায় দেখা মেলেনি বেসরকারি গাড়ি, মিনিবাস, অটো, টোটোর। একইভাবে ধুপগুড়ি, ময়নাগুড়ি সহ বিভিন্ন ব্লকের চিত্রও একই। পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর শহরেও পড়েছে বনধের প্রভাব। দেশ বাঁচাও, দেশের মানুষকে বাঁচাও, কৃষি- শিক্ষা-স্বাস্থ্য প্রকল্পে বরাদ্দ সহ ১১ দফা দাবির ভিত্তিতে দেশব্যাপী সাধারণ ধর্মঘট সফল করতে খড়গপুর-কেশিয়াড়ী রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় সিআইটিইউ কর্মী-সমর্থকরা। বেলদা কাঁথি রাস্তায় এগরাতে গাড়ি আটকে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখায় সমর্থকেরা।

মালদহের চাঁচলে দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্মঘট সফল করার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পুলিশ বাধা দিতে গেলে ধস্তাধস্তি হয় সমর্থকদের সঙ্গে। এদিকে ঝাড়গ্রামে বনধ সফল করতে রাস্তায় নামে বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলির সদস্যরা। অপরদিকে এই ধর্মঘটকে ব্যর্থ করার জন্য রাস্তায় নামে তৃণমূল। রামপুরহাটে বনধের সমর্থনে ও বগটুই গণহত্যা কাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল করা হয় রামপুরহাট শহরে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষ। রামপুরহাট পাঁচ মাথা মোড় থেকে শুরু হয়ে গোটা শহর পরিক্রমা করে মিছিলটি।

তবে রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় স্বাভাবিক ছিল জনজীবন। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের কোন প্রভাব পড়েনি। সকাল থেকে স্বাভাবিক দিনের মতোই পথে নেমেছে সরকারি এবং বেসরকারি পরিবহণ। স্বাভাবিক ছন্দ মেনেই জুটমিলে প্রবেশ করেন শ্রমিকেরা। যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে রাস্তায় টহল দেয় পুলিশ বাহিনী।

ধর্মঘট মোকাবিলায় কড়া পদক্ষেপ করেছে নবান্ন। কড়া নির্দেশিকায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে সোমবার ও মঙ্গলবার খোলা থাকবে অফিস, আদালত, স্কুল, কলেজ। সব মিলিয়ে বামেদের বিক্ষোভের মিশ্র প্রতিক্রিয়া বাংলায়।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
বকেয়া ডিএ-র সুখবর : কবে টাকা পাবেন সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা?
এবারের ভোট বাংলার আত্মাকে রক্ষা করার লড়াই, ব্রিগেডে বললেন প্রধানমন্ত্রী