Home » উন্নত প্রযুক্তির জমানায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির কলসির কুঁজো, মৃৎশিল্পীদের অনেকেই করেছেন পেশা বদল

উন্নত প্রযুক্তির জমানায় হারিয়ে যাচ্ছে মাটির কলসির কুঁজো, মৃৎশিল্পীদের অনেকেই করেছেন পেশা বদল

সময় কলকাতা ডেস্কঃ একটা সময় গরম পড়লেই খোঁজ পড়ত মাটির কুঁজো-কলসির। রোদে তেতে পুড়ে ঘরে ফিরে এক গ্লাস মাটির কলসি কিংবা কুঁজোর জল সারা শরীর জুড়িয়ে দিত। তবে দিন পালটেছে। এখন ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। চলছে বাতানুকুল যন্ত্র, জলের বোতলের গায়ে ঠাণ্ডার পরত। কারণ, বেশিরভাগ ঘরেই এখন ফ্রিজ ঢুকে পড়েছে। তাই আগের মতো মাটির কুঁজো-কলসির ব্যবহার নেই বললেই চলে। তবে এখনও গরম পড়লে অনেক  বাড়িতে সেসব জিনিসের খোঁজ পড়ে। কিন্তু খানিকটা কম চাহিদা, খানিকটা উপযুক্ত মাটির অভাবে এখন কুম্ভকাররা বড় মাটির কলসি কিংবা কুঁজো তৈরি করেন না। তাঁরা শুধুই ছোট কলসি গড়েন। কারণ, ছোট কলসির চাহিদা গোটা বছরই অল্পবিস্তর থাকে। পুজো হোক কিংবা বিয়ে, ছোট মাটির কলসি লাগবেই।এ বিষয়ে মৃৎশিল্পীর স্ত্রী জয়ন্তী পাল জানান, একসময় কলসির চাহিদা থাকলেও এখন বর্তমানে সেই কলসির চাহিদা নেই। মানুষজন আর কলসি কিনেন না। এখন প্রত্যেকের বাড়িতে ফ্রিজ হয়েছে, হয়েছে অত্যাধুনিক জল ধারণ করার ঠান্ডা পাত্র। যার কারনে আস্তে আস্তে চাহিদা কমেছে মাটির কলসির। আমাদের এই পেশার উপরেই নির্ভর করে সংসার  চলে। কিন্তু মাটির কুঁজো বা বড় হাঁড়ির চাহিদা আর নাই। আমাদের তৈরি মাটির কলসি হাঁড়ি কুঁজো মালদার গ্রামে সেই রকম চাহিদা নাই বললেই চলে।মাটির জিনিস তৈরি করে সংসার চালানো যায় না। তাই ছেলেরা একটা দোকান দিয়েছে। জানালেন গ্রামেরই আর এক মৃৎ শিল্পী সুমতী পাল।একসময় প্রচুর  মাটির কলসি, হাঁড়ি অন্যান্য মাটির  জিনিস এখানকার কুম্ভকাররা তৈরি করতেন। গ্রীষ্মকালে মাটির কলসির চাহিদা ছিল।  তাদের তৈরি মাটির কলসি চাঁচোল   হরিশ্চন্দ্রপুর এমনকি বিহার সংলগ্ন এলাকায় পাড়ি দিত। বর্তমানে উন্নত প্রযুক্তির জামানায় সেই মাটির কলসি আস্তে আস্তে হারিয়ে যেতে বসেছে । মানুষজন মাটির জিনিস আর কিনতে চান না।উপযুক্ত মাটির অভাবে  এখন কুম্ভকাররা বড় মাটির কলসি কিংবা কুঁজো তৈরি করেন না। নেটের যুগে মানুষ এখন যন্ত্র নির্ভর হয়ে পড়েছেন। এখন ঘরে ঘরে ঢুকে পড়েছে  ঘর ঠান্ডা করা , খাবার জল ঠান্ডা করার বৈদ্যুতিক যন্ত্র ফ্রিজ, এসি। কিন্তু মানুষ যত যন্ত্র নির্ভর হয়েছে তত বেড়েছে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা, বলছেন বিজ্ঞানীরা। তবেকি মানুষ আবার ফিরে যাবে সাবেকি প্রকৃতি নির্ভর নিয়মের মধ্যে? সময়ই তার উত্তর দেবে।

 

 

 

About Post Author