Home » পরকীয়ার শাস্তি, মধ্যযুগীয় বর্বরতা, নীতি পুলিশের মাতব্বরা চুল কেটে নিল যুগলের

পরকীয়ার শাস্তি, মধ্যযুগীয় বর্বরতা, নীতি পুলিশের মাতব্বরা চুল কেটে নিল যুগলের

সময় কলকাতা ডেস্কঃ  ফের মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনা দত্তপুকুরে।পরকীয়ার সাজা দিতে প্রেমিক ও প্রেমিকার চুল কেটে নিল পাড়ার নীতি পুলিশের (Moral police ) মাতব্বরা।
মঙ্গলবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর শহরের লাগোয়া বামনগাছিতে এক মহিলার চুল কাটার ভিডিও প্রকাশ্যে আসে।সম্পর্কে জামাইবাবুর সঙ্গে পরকীয়ার ঘটনা হাতেনাতে ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা।তাদের অভিযোগ পাড়া সম্পর্কে ঐ জামাই সংসারে টাকা পয়সা না দিয়ে উপার্জনের সব অর্থ এই মহিলাকে দিয়ে দিত।স্থানীয়দের দাবি ওই পাড়ার জামাই ও ঐ মহিলার মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল,তা তারা হাতে নাতে ধরেও ফেলেন মঙ্গলবার রাতে।তার পরেই পাড়ার নীতি পুলিশ (Moral police ) সক্রিয় হয়।শুরু হয় পরকীয়ার সাজা দেওয়ার বিচার। পরকীয়া প্রেম

প্রকাশিত ভিডিও তে দেখে যাচ্ছে এক গৃহবধুকে থানের উপর বসিয়ে আর এক মহিলা কাঁচি দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দিচ্ছে।বাধা দিলে চুলের মুঠি ধরে তাকে মারধোরও করা হচ্ছে। আর ঘটনাটি ঘটেছে উপস্থিত কচিকাঁচাদের সামনেই।এই দানবীয় দৃশ্য দেখে উপস্থিত মানুষও উচ্ছসিত হচ্ছে।তা পরিস্কার হয় ঐ ভিডিওটিতে। ঘটনাস্থল হল দত্তপুকুর  থানার বামনগাছি স্টেশন পাড়া।অভিযোগ ওই পাড়ার জামাইকে নিজের শ‍্যালিকার সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে হাতেনাতে ধরার পর বেধড়ক মারধোরও করে এলাকাবাসীরা। মেয়েটির মাথার চুল কেটে নেওয়া পর দুজনকেই প্রায় দু ঘণ্টা ধরে মারধোর করা হয় বলে অভিযোগ।এলাকার এক  যুবক সুব্রত রায় পুলিশকে খবর দেয়। ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। দত্তপুকুর থানার পুলিশ প্রেমিকা ও পাড়ার জামাইকে উদ্ধার করে। বামনগাছি বৈশালী গ্রামে রেক কোয়ার্টার এলাকায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়।

স্থানীয় পঞ্চায়েতের সদস্য বটুক দত্ত এই ঘটনার নিন্দা করেছেন ।তাঁর দাবি যে বা যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের শাস্তি হওয়া উচিৎ। এই ধরনের ঘটনা বর্তমান সমাজে কাম্য নয় ও নিন্দনীয় বলে মত পঞ্চায়েত সদস্য বটুক দত্তের।স্থানীয়দের দাবি ছেলেটি ও মেয়েটি দুজনেই খারাপ। হাতেনাতে ধরা পরে যাওয়ার পর মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল।তাই দুজনকে মারধর করে এবং দুজনেরই চুল কাটা হয়।তবে কারা এই কাজ করলো তাদের নাম বলতে নারাজ স্থানীয়রা।রাতেই দত্তপুকুর থানার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

 

তৃণমূল কংগ্রেসের বারাসত সংসদীয় জেলার সভাপতি ও বারাসত পুরসভার পুরপ্রধান অশনি মুখার্জি ঘটনার নিন্দা করে জানান,ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক,যারা এই অপরাধ করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন দাবি তাঁর। পুলিশকে এই মধ্যযুগীয় বর্বরতা খবর দিয়ে ছিলেন স্থানীয় যুবক সুব্রত রায়।তাঁর অভিযোগ মধ্যযুগীয় বর্বরতা ও অত্যাচারের দেখে তিনি প্রথমে প্রতিবাদ করেছিলেন।পরে পুলিশকে খবরও দেন।সুব্রত রায়ের দাবি এরপরই স্থানীয় নীতি পুলিশের মাতব্বরা তাঁর বাড়িতে এসে হুমকিও দিয়ে গিয়েছে।

About Post Author