সময় কলকাতা ডেস্ক, ২৭ মে : তাঁকে যখন বারাসাত আদালতে তোলা হচ্ছিল তখন জনরোষ ও চিৎকার ভেসে আসছিল। দত্তপুকুরের শাজাহান -চোর সহ একাধিক বিশেষণ বর্ষিত হচ্ছিল তাকে লক্ষ্য করে। যাকে লক্ষ্য করে মানুষের ক্ষোভ সেই তৃণমূল নেতা গোপাল কাঞ্জিলাল অবশ্য অটল, বললেন জ্ঞান তো কারও সঙ্গে অন্যায় করিনি ভগবান ও আইনের উপরে বিশ্বাস রয়েছে।
একাধারে তিনি তৃণমূল নেতা ও পুলিশ। তাঁর অঙ্গুলিহেলনে চলত দত্তপুকুর। প্রচলিত প্রবাদ তিনি দত্তপুকুরের অরণ্যদেব। তাঁর ঈশারা ছাড়া দত্তপুকুরে গাছ থেকে পাতা পড়ত না। ব্যবসা বা বাড়ি-জমি করতে হলে দরকার পড়ত তাঁর সবুজ সংকেত। দত্তপুকুরে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে জনসভা করতে দিতেন না এমনটাই অভিযোগ বারবার উঠেছে। তাঁর বাহিনীও ছিল বড়সড়। রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তি এবং পুলিশে তাঁর যোগসূত্র দিয়ে তিনি তার সাম্রাজ্য কায়েম করেছিলেন বলেই শোনা যায়।কলকাতা পুলিশের এএসআই গোপাল কাঞ্জিলালের সাম্রাজ্য বিস্তৃত ছিল দত্তপুকুরের সীমানা ছাড়িয়েও। তাঁর স্ত্রী ছিলেন উপপ্রধান। তৃণমূল আমলে রাজনৈতিক নেতারা তাকে যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন এই অভিযোগ ছিল। অভিযোগ ছিল, বুথ ক্যাপচার থেকে ভোট মেসিনারি নিয়ন্ত্রণ বিশারদ তিনি। দত্তপুকুরে অরন্যদেব হয়ে ওঠা সেই গোপাল কাঞ্জিলালও নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের আমলে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন । অভিযোগ ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস এবং তোলাবাজির। মঙ্গলবার রাতেই পুলিশ তাকে পাকড়াও করে এবং বুধবার তাকে বারাসাত আদালতে পেশ করে। গোপাল কাঞ্জিলাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বললেন তাকে ফাঁসানো হয়েছে এবং অভিযোগকারীকে কস্মিনকালেও তিনি চেনেন না। উল্লেখ্য, ২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী সন্ত্রাস সহ একাধিক অভিযোগে একাধিক তৃণমূল নেতা মন্ত্রী গ্রেফতার হচ্ছেন। বারাসাতের কাউন্সিলর অরুণ ভৌমিক গ্রেফতার হয়েছেন। অতঃপর বারাসাত লাগোয়া অঞ্চলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে চিহ্নিত গোপাল কাঞ্জিলাল ধরা পড়লেন পুলিশের জালে। এদিন আদালতে উপস্থিত মানুষদের সমবেত প্রতিক্রিয়া ছিল, অত্যাচারে শাজাহান কেও ছাড়িয়ে গিয়েছে গোপাল কাঞ্জিলাল।।


More Stories
দুশ্চিন্তার দিন শেষ! আয়ুষ্মান কার্ড এখন হাতের মুঠোয়
আমডাঙায় ফুড প্লাজা ভাঙচুর, অভিযোগের তির বিজেপির দিকে
চুরমার বারাসাতের তৃণমূল নেতা অরুণ ভৌমিকের বাড়ি ও পার্টি অফিস, মেরে ফেলা হতে পারে আশঙ্কা স্ত্রীর