পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা :
মেসের কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে জোর তর্ক। সবাই একদিকে নিজেদের যুক্তি পেশ করে সহমত আর একজন অন্যদিকে ভিন্নমত ও নিজের মন্তব্যে অনড়, অবিচল। সবাই যখন বলছেন অপরিচিত লেখক ছাড়া অন্য কোনও নতুন বা অপরিচিত লেখকের লেখা নামকরা পত্রিকার সম্পাদক ছাপান না তখন সেদিনের তরুণ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,অপরিচিত লেখকের ভাল লেখা না ছাপানো পত্রিকার পক্ষে আত্মহত্যার সামিল। ভালো লেখা হলে পরিচিত অপরিচিত -যারই হোক, ছাপতে বাধ্য পত্রিকা গোষ্ঠী। মানতে নারাজ বন্ধুরা। চ্যালেঞ্জ করলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । প্রমাণ চাই তাঁদের। পিছিয়ে পড়ার বান্দা নন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়।ধরা হল পাঁচ টাকার বাজি।আর এই চ্যালেঞ্জ জন্ম দিল বাংলার সর্বকালের অন্যতম সাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

এমিল জোলার সাহিত্যচক্রে মপাশাকে এরকমই এক ঘটনাচক্রে ‘বল দ্যা সুফ’ লিখতে হয়। আর তা থেকেই প্রতিষ্ঠা লাভ করেন তিনি। প্রায় একইভাবে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্য সৃষ্টি ও সাহিত্য জগতে প্রবেশ। তর্ক ও পাঁচ টাকার বাজির জেরে প্রমাণ দিতে লিখতে আরম্ভ করলেন একটি ছোট গল্প।
মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সাতদিনের মধ্যে তাঁর প্রথম ছোট গল্প ‘ অতসী মামী ‘ লিখে পাঠিয়ে দিলেন সেসময়ের অন্যতম সেরা পত্রিকা ‘ বিচিত্রা’য়। আর কয়েকদিনের মধ্যে হাতে নাতে ফললাভ । ঠিকানা জেনে খোঁজখবর নিয়ে তাঁর কাছে হাজির হলেন বিচিত্রার সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়। ১৫ টাকা পারিশ্রমিক তো দিলেন-ই আর বলে গেলেন আরও লেখা চাই। বাজি জয় আর আরও ১৫ টাকা আয়! সেদিনের বাজি কার্যত জন্ম দিল সাহিত্যিক মানিক বন্দোপাধ্যায়ের। সরীসৃপ, প্রাগৈতিহাসিক, পদ্মানদীর মাঝি সহ বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করা অসামান্য লেখার জনক তিনি। হয়তো আরও অনেক দিতে পারতেন তিনি।কিন্তু মাত্র ৪৮ বছরে প্রয়াণ হয় তাঁর। উল্লেখ্য, ১৯০৮ সালের ১৯ মে জন্মেছিলেন ক্ষণজন্মা সাহিত্যিক মানিক বন্দোপাধ্যায়।।
সৌজন্য : সাগরময় ঘোষ: ‘ সম্পাদকের বৈঠকে ‘


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
চলে গেলেন শংকর
প্রাণের অভাব নাকি বই বিক্রির রেকর্ড? বইমেলার প্রাপ্তি -অপ্রাপ্তি নিয়ে কী বলছেন লেখক-প্রকাশকরা?