সময় কলকাতা ডেস্কঃ মুখ্যমন্ত্রীর আলিপুরদুয়ার সফরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে কারণ ৪৮ ঘণ্টা আগে কামতাপুরীদের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও ভাইরাল করা হয় যেখানে কে এল ও প্রধান জীবন সিংহ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীকে। স্পষ্ট হুঁশিয়ারি ছিল, কামতাপুর পৃথক রাজ্য চাই। এই দাবিতে আন্দোলন জারি থাকবে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে কেএলও জঙ্গি হুমকি দেয়, কোচ-কামতাপুরে পা রাখলে শেষ করে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার আলিপুরদুয়ার প্যারেড গ্রাউন্ডের দলীয় কর্মিসভা থেকে তার সোজা সাপ্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ”বাংলা ভাগ না করলে আমায় মেরে ফেলবে বলছে, আমার বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে দেখাক। আমিও জানি কীভাবে বন্দুকের নল ভোঁতা করতে হয়।” এর নেপথ্যে তিনি বিজেপির ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন। ফের বুঝিয়ে দিলেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতাসীন থাকলে বঙ্গভাগের স্বপ্ন অধরাই থাকবে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের। সত্যিই ভোঁতা হবে বন্দুকের নল।
২ দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। রয়েছেন আলিপুরদুয়ারে। এদিন জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে কর্মিসভার পর বুধবার যোগ দেবেন গণবিবাহের অনুষ্ঠানে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের একাংশ বাংলা ভাগের দাবিতে অশান্তির আঁচ উসকে উঠছে। একাধিক বিজেপি (BJP) বিধায়ক, সাংসদরাই এ নিয়ে সরব হয়েছেন। তাঁদের ইন্ধনেই কেএলও-র মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলি পৃথক রাজ্যের দাবি তুলছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি উত্তরবঙ্গে তাদের ঘাঁটি শক্ত করেছে। এখনো সেখানে তৃণমূল কংগ্রেস যথেষ্ট দুর্বল। আবার আসতে চলেছে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন সেই নির্বাচনকে মাথায় রেখেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জলপাইগুড়িতে সভা করলেন আর সেই সভা থেকে বারবার কেন্দ্রকে নিশানা করেছে।
পাশাপাশি এদিন এই সভা থেকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে যে যে প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গবাসী কে দেওয়া হচ্ছে যেমন লক্ষীর ভান্ডার, স্বাস্থ্য সাথী, কৃষক বন্ধ্ দুয়ারে সরকার, এগুলি উল্লেখ করেছেন। বারবার ওখানকার মানুষ এগুলো পাচ্ছেন কিনা সে বিষয়েও খোঁজ-খবর নেন। পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং কেন্দ্র সরকার রাজ্যের সঙ্গে টাকা নিয়ে যে বঞ্চনা করছে অর্থাৎ রাজ্যের প্রাপ্য টাকা কেন্দ্র দিচ্ছে না সে বিষয়েও সোচ্চার হোন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের আগে এই জলপাইগুড়ি সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। কারণ বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকার ব্যতিব্যস্ত তার ওপর একগুচ্ছ সিবিআই তদন্ত চলছে। মুখ্যমন্ত্রী এ কথাও বলেছেন সমস্ত দোষ ওনার। পাশাপাশি সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তাঁর বিজেপি সিপিএম এবং কংগ্রেস এর কথায় বিশ্বাস না করার জন্য।
কামতাপুরীরা বারবার পৃথক রাজ্যের দাবি করলেও মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিয়েছেন আলাদা কোন রাজ্য হবে না। পাশাপাশি ২০২৪ এ নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস উত্তরবঙ্গে এবার কি নিজের জমি ফিরে পাবে? তা সময়ের কথা সময়ই কথা বলবে।


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
কেন ফুল বদলালেন লিয়েন্ডার পেজ?