Home » উল্টোরথে দেবশিশুদের জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার অঙ্গীকার

উল্টোরথে দেবশিশুদের জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার অঙ্গীকার

সময় কলকাতা ডেস্ক :

“…রথের দিনে হাজার লোকের মেলা /দোকান পসার, ভোজবাজি আর ভানুমতীর খেলা ”
জসীমউদ্দীন

প্রাত্যহিক মলিনতা মুছে ফেলে জীবনের জয়গানই যেকোনও উৎসব উদযাপনের প্রধান শর্ত । ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে দেশবাসী যেকোনও উৎসবে আত্মিকভাবে মিশলে তখনই সার্বিক হয়ে ওঠে পুণ্য তিথি উদযাপন।শনিবার উল্টোরথের দিনটিকে উদযাপনের মধ্যেও সার্বিকভাবে জীবনের জয়গান গাইল বারাসাত স্টেশনের একঝাঁক নিষ্পাপ পথশিশু ও তথাকথিত ব্রাত্য মানুষজন। বর্ণময়, রঙিন হয়ে উঠল উৎসবের দিন।সৌজন্যে অর্ণব রায়চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে থাকা প্রজাপতির পাঠশালার দেবশিশুসম পথশিশুরা। এক অদৃশ্য ভোজবাজিতে জীবন হয়ে উঠল প্রকৃত অর্থে উৎসবমুখর।উল্টোরথের শুভ মুহূর্তে অভিনব এক নাটক মঞ্চস্থ করে পথবাসী মানুষেরা রাখল জীবন যন্ত্রনা থেকে উত্তরণের বার্তা।

উল্টোরথ একটি প্রতীকী উৎসব মাত্র। তার মধ্যেই যাদের পরনে প্রতিদিন থাকে মলিন পোশাক, যাদের অবয়বে কোথাও নেই বিন্দুমাত্র স্বচ্ছলতার লক্ষণ তারা নতুন পোশাকে উজ্জ্বল হয়ে উঠল।আশ্চর্য জাদুকাঠিতে হয়ে উঠল সম্পদশালীর উদাহরণ। নাচে, গানে, অভিনয়ে বারাসাত স্টেশনের ঝুমা, প্রীতি, পূজা, বা প্রতিবন্ধী গোবিন্দরা হয়ে উঠল জীবনের রঙ্গমঞ্চের সফল কুশিলব। জীবনের মূল স্রোতে ভেসে চলার অঙ্গীকার তাঁদের চোখে মুখে । উল্টোরথের দিন তাদের উৎসব উদযাপন ছাপিয়ে গেল তাদের দৈনন্দিন গ্লানিজয়ের উদ্যোগ। পুলিশ কর্মী অর্ণব রায়চৌধুরীর স্পর্শে তারা এক নতুন রূপকথার জন্ম দিল। ভগবান জগন্নাথ যেদিন ঘরে ফিরছেন সেদিন মাটির ঘরে মানব রুপী ভগবানরা যেন দেখাল ভানুমতির খেলা। অদৃশ্যলোক থেকে যেন আশীর্বাদ ঝরে পড়ল জীবনযুদ্ধে জয়ী হওয়ার সংগ্রামে ব্রতী নিঃস্ব মানুষদের ওপরে।।

About Post Author