Home » এলিয়েন কি এসেছিল পৃথিবীতে? কিছু রহস্য জানলে অবাক হবেন

এলিয়েন কি এসেছিল পৃথিবীতে? কিছু রহস্য জানলে অবাক হবেন

বিশ্বজিৎ হীরা, সময় কলকাতা:      এই বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আজও লুকিয়ে আছে বহু রহস্য। ছোটবেলা থেকে শুনে আসা বহু গল্প গাঁথা, পৌরাণিক গল্পের ভিত্তিতে আজও বহু মানুষ রহস্য উদঘাটনের নেশায় ছুটে বেড়ায় বিশ্বের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত। রামায়ণ-মহাভারতের যুদ্ধ, রামের শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত সেতু, সিন্দাবাদ দ্যা সেলর, ইলিয়াস -ওডিসির গল্প, আমাজনের গহীন অন্ধকারে লুকিয়ে থাকা রহস্য কিংবা এল ডোরাডো আজও এই সব রহস্যের পিছনে ঘুরে বেড়ায় বহু মানুষ

বহু রহস্য আজও অধরা

চায়ের দোকানে আড্ডা অথবা অফিস ছুটির আড্ডায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয় বারমুডা ট্রাঙ্গেল রহস্য। কখনো বা আলোচনায় উঠে আসে এলিয়েন কি পৃথিবীতে কোন সময় ছিল? কিছু কিছু মানুষ মনে করে রামায়ণ-মহাভারতে যে যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার হয়েছিল তারই আধুনিক সংস্করণ ক্ষেপণাস্ত্র। রামায়ণ মহাভারতের যুগে ব্যবহৃত হয়েছে অগ্নিবান, ব্রহ্মাস্ত্র। যা বর্তমান যুগে ন্যাপাম বোম এবং হাইড্রোজেন বোম। এমনও যুক্তি বহু মানুষ দিয়েছে রামায়ণ-মহাভারতের যুগের ব্যবহৃত সেই সব অস্ত্রের পিছনে ছিল এলিয়েনদের হাত। কল্প বিজ্ঞান থেকেই জন্ম নেয় অনেক সময় আধুনিক বিজ্ঞান। স্পেসশিপের চিন্তা ভাবনা বহু যুগ আগেই লিখে গেছেন বহু কল্প বিজ্ঞানের লেখক। বিশ্বের মাঝে এই অপার বিস্ময় ,আর এই অপার রহস্যের কতটুকুই বা উদ্ধার করতে পেরেছে মানুষ।

প্রশান্ত মহাসাগরের নিচে মারিয়ানা ট্রেঞ্চের বহু রহস্যই আজও অধরা। অধরা রয়েছে পিরামিড রহস্য। অ্যালকেমি গবেষণা শুরু হয়েছিল বহু বছর আগের থেকেই। গ্যালিলিও বিশ্বাস করতেন অ্যালকেমি থিওরি। অ্যালকেমি থিওরিতে বিশ্বাসীরা মনে করতেন কোন বস্তুকে সোনায় রূপান্তরিত করা সম্ভব। মিশরীয়দের মধ্যে তৎকালীন সময়ে শল্য চিকিৎসায় পারদর্শিতা আজও অবাক করে দেয় আধুনিক বিজ্ঞানীদের। তাহলে কি সেই সময় মিশরীয়দের এলিয়েনদের থেকে লব্ধ জ্ঞানই কি সমৃদ্ধ করেছিল? প্রশ্নের উত্তর আজও অধরা। যেমন অধরা ইস্টার আইল্যান্ডের দ্বীপে বসানো বড় বড় পাথরের মূর্তি। কিভাবে ,কি পদ্ধতিতে তৈরি করেছিলেন আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগের সভ্যতার মানুষ। দুর্গম পাহাড় পেরুর মাচুপিচুর উপর কয়েক হাজার বছর আগে গড়ে ওঠা ইনকা সভ্যতা কিভাবে তৈরি হয়েছিল? এমন হাজার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলেছে আধুনিক সভ্যতার অ্যাডভেঞ্চার প্রিয় মানুষ এবং বিজ্ঞানীরা। তাহলে কি কয়েক হাজার বছর আগে এলিয়েনদের আগমন ঘটেছিল পৃথিবীতে?

বহু মানুষ এলিয়েনের অস্তিত্ব স্বীকার করেন না। আবার বহু মানুষ মনে করেন সুমেরীয় সভ্যতা, ইনকা সভ্যতার অগ্রগতির পিছনে অবদান ছিল এলিয়েনদের।

নাজকা লাইন কি?

নাজকা লাইন, বিশ্বের আরেক বিস্ময় এই নাজকা লাইন। কয়েক দশক ধরে অধ্যায়ন করার পরেও নাজকা লাইন আজও রহস্যময়। পেরুর লিমা শহরের দক্ষিনে প্রায় আড়াইশো কিলোমিটার জুড়ে রয়েছে এই নাজকা লাইন। নাজকা লাইনের মধ্যে কিছু জ্যামিতিক আকার দেখতে পাওয়া যায়। বহু মানুষ আবার সেই জ্যামিতিক আকারের মধ্যে পশুপাখি প্রাণীর প্রতিচ্ছবি খুঁজে পান। বহু প্রত্নতাত্ত্বিকের মতে জলের প্রাপ্যতার সাথে মাটির উর্বরতার কারণে আর বায়ুর ঘর্ষণে এই লাইন তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের তত্ত্ব আর সাধারন মানুষের বিশ্বাস

বহু বিজ্ঞানী এই তত্ত্বকে সমর্থন জানিয়েছেন। নাজকা লাইনের একটা জ্যামিতিক আকার আছে, আবার কিছু কিছু জায়গায় সহজ সরলরেখায় তৈরি হয়েছে এই লাইন। কিছু আছে পাহাড়ে চূড়া থেকে শুরু হয়ে, আবার কিছু আছে সমতলের দিকে।

বহু মানুষ মনে করে এই নাজকা লাইনের রান ওয়ের সঙ্গে সাদৃশ্য রয়েছে। প্রাচীন কালে এটি বিমানবন্দর হিসেবে ব্যবহৃত হত। আবার বহু মানুষের মতে ,গ্লাইডার সেই সময় মানুষ ব্যবহার করত এবং তার জন্য এগুলো ছিল সিগন্যাল। আবার কিছু মানুষের বিশ্বাস নাজকার এই জিওগ্রাফিক্যাল লাইনগুলি বহির্জাগতিক মানুষদের পৃথিবীতে আগমনের সময়কার দিক নির্ণায়ক সিগন্যাল। পেরুর নাজকাতে আরও ২৪ টি প্রাচীন জিওগ্রাফিক্যাল লাইন আবিষ্কৃত হয়েছে।

এলিয়েনদের কোন প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে কি?

যদিও নাজকা মরুভূমিতে থাকা এই নাজকা লাইনের আশেপাশের চত্বরে বহির্বিশ্ব থেকে আগত এলিয়েনদের কোন প্রমাণস্বরূপ না কোন মহাকাশযানের ধ্বংসাবশেষ, অজানা ধাতু, বা বহির্জাগতিক বস্তুর অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।যার ভিত্তিতে বলা যায় এলিয়ানদের আগমন ঘটেছিল পৃথিবীতে। টবিরিও মেজিয়া জেম্পি নামের এক বিমান চালক১৯২৭ সালে এই অঞ্চলের উপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় এই লাইনের আবিষ্কার করেছিল। তারপর থেকে ১৩০০০ টি জিওগ্রাফিকাল লাইন, ৪০০ টি প্রাণীর সঙ্গে সাদৃশ্যকারী ছবি আবিষ্কৃত হয়েছে।, কিন্তু প্রশ্ন একটাই কারা তৈরি করল এই কয়েক কিলোমিটার জুড়ে এমন নিখুঁত লাইন। রহস্য আজও অধরা, অথচ বিতর্ক জারি রয়েছে বিশ্বময়। মিশরের গ্রেট পিরামিডের মাঝখানে একটি যাত্রীবাহী বিমানের আকারের জায়গা আবিষ্কৃত হয়েছে। যা প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর ধরে গোপন ছিল। কায়রোর উপকণ্ঠে গিজার কাছেই গ্রেড স্পিংস এর ছোট পিরামিডের পাশাপাশি এই বস্তুটি আবিষ্কৃত হয়েছে। যদিও বিজ্ঞানীদের বক্তব্য আসলে এটা কি তা গবেষণা করা হচ্ছে। আবারও সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে তাহলে এলিয়েনরা কি আগেই বিশ্বে এসেছিল। তাদের লব্ধ জ্ঞানেই কি সেই সময় উন্নতি শিখরে উঠেছিল প্রাচীন সভ্যতা। বহু মানুষ আজও বিশ্বাস করে আমেরিকার এরিয়া-৫১
এ এলিয়েনদের নিয়ে গবেষণা করা হয়। বিগত কয়েক বছর ধরেই এলিয়েনদের অস্তিত্ব পাওয়া যাচ্ছে বলে বহু মানুষ দাবি করেছে। কেউ কেউ বলছে, তারা স্পেসশিপ স্বচক্ষে দেখেছে, আবার অনেক বিজ্ঞানীদের মতে বহির্জাগতিক একাধিক সংকেত পাওয়া যাচ্ছে যা এলিয়েনদের অস্তিত্ব প্রমাণ করে। এলিয়েন কয়েক হাজার বছর আগে বিশ্বে এসেছিল এ প্রমাণ যেমন নেই, তেমনি কয়েক হাজার বছর আগে সভ্যতার বিকাশ, বিজ্ঞানের অগ্রগতি কিভাবে হয়েছিল তারও উত্তর অজানা।

About Post Author