সময় কলকাতা ডেস্ক :
ভাগলপুরের দিনমজুর চন্দন কুমারকে রামায়ণের চরিত্র শ্রবণ কুমার বললে আপত্তি করার কোনও কারণ- ই থাকতে পারে না। শ্রবণ কুমার ছিলেন তপস্বী দম্পতি শান্তনু এবং মলয়ার পুত্র। শ্রবণের মা-বাবা উভয়রই দৃষ্টি শক্তি ক্ষীণ ছিল, পরে তারা একেবারে অন্ধ হয়ে যান৷কিংবদন্তি শ্রবণ কুমার পূর্বজন্মে রাজকুমার ছিলেন। অভিশাপের ফলে তিনি অন্ধমুনির পুত্র হয়ে জন্ম নেন। ভাগলপুরের চন্দন কুমার পূর্বজন্মের কে ছিলেন তা না জানলেও তাঁর কাজের সঙ্গে অদ্ভুত সাদৃশ্য শ্রবণ কুমারের। শ্রবণ কুমারের মতই মা বাবাকে নিয়ে তীর্থে বেরিয়েছেন চন্দন কুমার।

শ্রবণ কুমার তার পিতা-মাতার প্রতি অত্যন্ত অনুগত এবং কর্তব্যনিষ্ঠ ছিলেন। তিনি নিয়মিত নিষ্ঠার সঙ্গে অন্ধ মা-বাবার সেবা করতেন। শ্রবণ কুমার যখন কৈশোরে তার মা-বাবার তীর্থভ্রমণের ইচ্ছা জাগে। মা -বাবার তীর্থ ভ্রমণের ইচ্ছা পূরণের জন্য তিনি একটি ভারা বা ঝাঁকায় করে মা-বাবাকে তীর্থস্থানের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেন। যাত্রাকালে পিপাসার্ত শ্রবণকে হরিণ ভ্রমে বানে হত্যা করেন রাজা দশরথ।এযুগের শ্রবণকুমার রুপী চন্দনকুমার মা বাবাকে ঝাঁকায় নিয়ে ভাগলপুর থেকে দেওঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন।

সমাজের চিরাচরিত দৃশ্যের বাইরেও অনেক সময় ব্যতিক্রমী দৃশ্যও চোখে পড়ে। বর্তমান সমাজে মনুষ্যত্বের অবনমন ঘটার বহু দৃশ্যই আমরা প্রতিনিয়ত দেখতে পাই। যেমন বাবা- মার উপর অত্যাচার করছে ছেলে, ছেলের বউ। শাশুড়ি, শ্বশুরবাড়ির পরিবারের অত্যাচারে গৃহবধুর আত্মহত্যা,এমনকি খুন পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই। এইসবের মাঝেই দেশের বাইরে ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে পাওয়া গেল বিহারের ভাগলপুরে যেখানে এ যুগের মূল্যবোধের অবক্ষয় হওয়ার সব অপবাদ মুছে দিচ্ছে এক দরিদ্র দিনমজুর যে হৃদয়ের দিক থেকে রাজা।

ভাগলপুরের বাসিন্দা চন্দন কুমার পেশায় একজন দিনমজুর হতে পারেন, তাঁর তীর্থ ভ্রমণের উদ্যোগ বর্তমান সমাজের কাছে একটা দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ঝাঁকিতে দুই দিকে বাবা মাকে বসিয়ে সপরিবারে বিহারের ভাগলপুর থেকে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন চন্দন কুমার। কাঁধে বাবা-মাকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার ছেলে এবং তার স্ত্রী সহযোগিতা করছেন। জানা গিয়েছে,বাবা-মাকে কাঁধে নিয়ে চন্দন কুমার ১১৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে। বাবা মার প্রতি ছেলের এহেন কর্তব্যপরায়ণতা দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ বহু মানুষ।প্রতিবেশীরা চন্দনকে দুহাত ভ’রে আশীর্বাদ করছেন দুহাত তুলে। তিন তীর্থযাত্রীর প্রত্যাবর্তনের আশায় দিন গুনছেন ভাগলপুরবাসী।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক