Home » প্রয়াত হিন্দি সিনেমার কিংবদন্তি গায়ক

প্রয়াত হিন্দি সিনেমার কিংবদন্তি গায়ক

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা ডেস্ক :

করোগে ইয়াদ তো হরবাত ইয়াদ ইয়াদ আয়েগী/ গুজরতে ওয়াক্ত কি হর মউজ ঠহর যায়েগী

মনে পড়ে যাবেই। এই গানে বা এরকম অজস্র গানে ভুপিন্দর সিংকে মনে পড়ে যাবেই। তাঁর মায়াবী গলা মনকেমনের দেশে নিয়ে যাবেই। তিনি এবার চলে গেলেন না ফেরার দেশে। হিন্দি গান, গীত, গজলের দুনিয়াকে শূন্যতায় রেখে সোমবার তিনি পাড়ি দিলেন অমৃতলোকে।

দিল ঢুন্ধতা হ্যায় ওহি ফুরসৎ কে রাত দিন

হিন্দি সিনেমার গানে জনপ্রিয়তা পেলেও তাঁর প্রাণ ছিল গিটার আর গজল। গিটারে বলিউডে ছাপ ফেললেও  তিনি গায়ক হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে ওঠেন।গজলধর্মী গান, মরমিয়া প্রেমের গান,বিরহের গান যা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বলিউডে যা সেমিক্লাসিকাল মিউজিকের তকমা পেয়েছে সেরকম গানেই তাঁকে বেশি চিনেছে শ্রোতা। অদ্ভুদ কাকতালীয় ভাবে গজল সম্রাট মেহেদী হাসানের জন্মদিনেই চিরবিদায় নিলেন ভারতের খ্যাতনামা গায়ক ভুপিন্দার সিং।

নাম গুম যায়েগা /চেহেরা ইয়ে বদল যায়েগা / মেরি আওয়াজ হি পহচান হ্যায়

কোলন ক্যান্সারে ভুগছিলেন।মূত্রনালীতে সংক্রমণও হয়েছিল তাঁর। সম্প্রতি করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। গত কয়েকদিন মুম্বাইয়ের হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন।সোমবার সন্ধ্যেবেলায় দশদিনের লড়াই শেষ হয়ে যায় ।তাঁর স্ত্রী গায়িকা মিতালি সিং সোমবার রাতেই  প্রয়াত শিল্পীর মৃত্যু সংবাদ দেন।

এক অকেলা ইস শহর মে

১৯৪০ সালে পাঞ্জাবে  ভুপিন্দার সিং জন্মান। দিল্লির প্যাটেল নগরে বেড়ে ওঠা ভুপিন্দারকে গানে নিয়ে এসেছিলেন তাঁর বাবা। গিটারে ভালো তালিম নেওয়ার পরে প্রথম জীবনে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে কাজ পান।সতীশ ভাটিয়ার নজরে পড়েন তাঁর ভারী অথচ নরম কণ্ঠস্বরে। বাহাদুর শা জাফরের শায়েরিকে অন্য মাত্রা দিয়েছিলেন ভুপিন্দার সিং।১৯৬৪ সালে বলিউডে ‘হকিকতে’ ব্রেক পেলে কি হবে, তাঁর পক্ষে রাস্তা খুব সহজ ছিল না। সে সময় মহম্মদ রফি, মুকেশ মধ্যগগনে, রয়েছেন মান্না -হেমন্ত, উঠে আসছেন কিশোর। তবুও তারমধ্যে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ছিল যে ভুপিন্দার তাঁর স্বকীয়তার কারণে হারিয়ে যান নি। সত্তর ও আশির দশকে অসামান্য কিছু মেলোডি উপহার দেন শ্রোতাদের। গায়ক হিসেবে স্বতন্ত্র এক স্থান করে নেওয়ায় বিশেষ ধরণের রাগ নির্ভর গানে অথবা ‘সফট’ গানে তাঁকে বেছে নেওয়া হত।লতার সঙ্গে পরিচয় সিনেমার ডুয়েট ‘বিতি না বিতায়ি রয়না ” তাঁর ঘরানার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

থোড়ি সি জমিন থোড়া আসমান

গিটার ছিল তাঁর প্রাণ। তাঁর হাতে গিটারও পেত প্রাণ। বহু এমন গান রয়েছে যেখানে ভুপিন্দার সিংহের নেপথ্য গিটারের ছোঁয়া আকুল করেছে শ্রোতাকে। ক’জন জানে ‘শোলে’র উদ্দাম ‘মেহেবুবা মেহেবুবা’ বা ইয়াদো কি বারাতে ” চুরা লিয়া ” অথবা ‘হরে কৃষ্ণা হরে রামে’র ‘দম মারো দমে ‘ গিটারের যে ছোঁয়ায় আসমুদ্র হিমাচল মেতে উঠেছিল সেখানেও আছেন ভুপিন্দার সিং!গিটারে তাঁর দক্ষতা ছিল তুলনাতীত।১৯৭৬ সালের কাদম্বরী সিনেমায় অমৃতা সিংহের কবিতার সঙ্গে যেখানে উস্তাদ বিলায়েত খানের একমাত্র সিনেমার জগতে সুরারোপন সেখানেও ভুপিন্দার সিংহের গিটারের জাদু যার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন স্বয়ং নৌশাদ।

কভি কিসিকো মুকাম্মল যাহা নেহি মিলতা

বাংলা গান ও গেয়েছেন তিনি। তাঁর গাওয়া “কবে যে কোথায় কি যে হল ভুল ” গানটি চিরস্মরণীয়। প্রচুর গজল গেয়েছেন, মন ভরিয়ে দিয়েছেন । অসামান্য সব হিন্দি  গানে কণ্ঠ দিয়ে তাঁর  বিশেষ ঘরানার গুনমুগ্ধ শ্রোতা তিনি তৈরি করে ফেলেছিলেন। তবুও হয়তো আরও বেশি পাওনা ছিল তাঁর যা তিনি পান নি।গানের এক সম্রাট বড় চুপচাপ শেষঘুমে ঘুমিয়ে পড়লেন।খুব নিঃশব্দে চলে গেলেন ভুপিন্দার সিং। বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন, তবুও প্রবাদপ্রতিম শিল্পী বেঁচেছিলেন সোমবার সন্ধ্যে পর্যন্ত।গানের ভুবনে “বাজার” সিনেমায় তাঁর গানের কথার মত শূন্যতা তাঁর প্রস্থানে…..

About Post Author