সময় কলকাতা স্পোর্টস ডেস্ক : সালটা ২০১৫।ভারতীয় ফুটবলের চরম দুর্দিন। সেসময় ভারতের ফিফা ৱ্যাঙ্কিং ১৭৩।আগে একবার ভারতীয় দলের কোচিং করিয়ে যাওয়া স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনকে আবার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল । তাঁর কোচিংয়ে প্রথম ম্যাচে সুনীল ছেত্রীর জোড়া গোলে ভারত জিতল নেপালের বিরুদ্ধে। ফুটবলে ভারতের নতুন করে উত্থান শুরু হল কনস্ট্যানটাইনের হাত ধরে। তিন বছরের মধ্যে,২০১৮ সালে ভারতকে ফিফার তালিকায় ৭৬ ধাপ ওপরে অর্থাৎ ৯৭ নম্বরে তুলে আনার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ভারতে দ্বিতীয় দফায় এসে স্টিফেন কনস্ট্যানটাইন অনেক সোনালি মুহুর্ত উপহার দিয়েছেন। ২০১৯ সালে এ এফ সি এসিয়ান কাপে ফাইনাল রাউন্ডে উন্নীত হওয়ার আগে ১৩ টি ম্যাচে অপরাজিত ছিল ভারত যার মধ্যে ১১ টি জয়। কেনিয়াকে হারিয়ে ইন্টারন্যাশানাল কাপ জয় স্টিফেনের ভারতের কোচিং করানোর সময় খুবই তাৎপর্যপূর্ণ । ৬০ বছর বয়সী স্টিফেন আবার ফিরছেন ভারতে।তবে এবার ফিরছেন ক্লাব ফুটবলে,আই এস এলে ইস্টবেঙ্গলের হেড কোচ হয়ে।
বছর দুয়েক আগে ইস্টবেঙ্গল আই এস এল খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই স্পনসরের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ে। শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে বনিবনা হয় নি।আই এস এল খেলার আগে দুবারই শুরু হয় ডামাডোল। প্রথমবার শেষ মুহূর্তে দল গড়তে নেমে হিমশিম খায় ইস্টবেঙ্গল।পরিকল্পনাহীন দ্রুত ভাবনাচিন্তা করার ফলে মূলত দেশীয় বয়স্ক ও বাতিল ফুটবলার নিয়ে ভালো দল গড়তে পারে নি লাল হলুদ। লিভারপুলের প্রবাদপ্রতিম ফুটবল ব্যক্তিত্ব রবি ফাউলার ইস্টবেঙ্গল দলের কোচ হয়ে আসলেও তাঁর পছন্দের বিদেশী ফুটবলাররা ইস্টবেঙ্গলে এসে চরম ব্যর্থ হয় ।ফলশ্রুতি,প্রথম বছর মাট্টি স্টেনম্যান ও ব্রাইট এনবাখরে ছাড়া ভালো বিদেশী জোটে নি।তবুও সেবার ১১ দলের মধ্যে নবম স্থান জোটে। দ্বিতীয় বছরে অবস্থা আরও খারাপ হয়। আবার স্পনসরের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ঝামেলা বাঁধে ক্লাব কর্তৃপক্ষের।দল ঘোষণার তিনদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যস্থতায় জট কাটে। তথাপি অগোছালো দল গড়ার ফলে ভয়াবহ ফল করে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম বছরের চুক্তি ভেঙে ব্রাইট বা স্টেনম্যান বিদেশে ফিরে যান।দেশী বা বিদেশী কোনওদিকেই ভালো ফুটবলার জোটে নি।পেরেসোভিচ ছাড়া একজন ফুটবলারও আক্রমণে ধারালো হতে পারেন নি ।সামান্য হলেও রক্ষণভাগে আশার আলো ছিলেন নবীন হীরা মন্ডল। মানালো দিয়াজ বা মারিও রিভেরার কোচিংয়ে খুবই খারাপ ফল করে ইস্টবেঙ্গল।স্টপগ্যাপ কোচ রেনেডি সিংহ অবস্থার সামান্য উন্নতি করতে চেষ্টা করলেও দলে রক্ষণ বা আক্রমণ ছিল একেবারেই অগোছালো। বৃদ্ধ ও নাবালকদের নিয়ে গড়া লাল-হলুদ আই এস এলে শেষ স্থান পায়।

এবার স্পনসর পাল্টালেও ইমামির সঙ্গে চুক্তিজট কাটিয়ে কার্যত অন্য আইএসএল দলের চেয়ে দেরিতেই ফুটবলারদের দিকে হাত বাড়ায় ক্লাব ম্যানেজমেন্ট।তথাপি ইমামির স্পনসরশিপে পরিকল্পনার ছাপ রয়েছে যা প্রথম দুবছর দেশীয় ফুটবলার নির্বাচনে অদৃশ্য ছিল।বিনো জর্জ লীগ – ডুরান্ডে কোচিং করাবেন। ফলে তাঁর প্রচেষ্টায় সন্তোষজয়ী কেরালা দলের দুজন প্রতিভাবান ফুটবলার পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। সৌভিক চক্রবর্তী বা সৌভিক দাস এবং তিনকাঠির নিচে শুভাশীষকে রেখে দল গোছাচ্ছে লাল হলুদ । দুজন অনুর্দ্ধ ১৭ বিশ্বকাপ খেলা তরুণ সহ যে দল গড়ছে ইস্টবেঙ্গল সেখানে গত দুবছরের তুলনায় পরিকল্পনার ছাপ স্পষ্ট।আরও কিছু ভালো দেশীয় ফুটবলারের দিকে নজর আছে তাদের ।এখন দেখার বিষয়, বিদেশী ফুটবলার মনোনয়নের ক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল কতটা কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়।এখন পর্যন্ত ডিফেন্সে ইভান গঞ্জালেস ছাড়া কোনও বিদেশী চুক্তিবদ্ধ নন।স্টিফেন কনস্ট্যানটাইনকে এবার ভারতে সফল হতে হলে তাঁর হাতে কিছু ভালো তাস তুলে দিতেই হবে একথা বলাই-বাহুল্য।।


More Stories
হর্ষ – গুরনুরের দুরন্ত অভিষেক, জিতল ভারত
সুভদ্র কেন উইলিয়ামসনের আচমকা অবসর
FIFA Worldcup 2026 : কোরিয়ার চোরাগতিতে বিধ্বস্ত চেকিয়া