Home » কমনওয়েলথের তৃতীয় দিনেও সোনার জয়জয়কার

কমনওয়েলথের তৃতীয় দিনেও সোনার জয়জয়কার

সময় কলকাতা ডেস্কঃ সোনা জয়ই লক্ষ্য ভারতের। ভারোত্তোলনের বিভিন্ন বিভাগে একের পর এক সোনা এনে দিচ্ছেন কৃতি অ্যাথলিটরা। কিন্তু সোনা জয়ের চাপটা যেন চোট বাড়াচ্ছে অ্যাথলিটদের। বেশি ওজন তুলতে গেলেই আঘাত লাগছে অহরহ। কিন্তু তাতে হার মানতে নারাজ তাঁরা। যেমনটা হার মানেননি মিজোরামের ভারোত্তোলক জেরেমি লালরিনুঙ্গা। সোমবার পুরুষদের ৬৭ কেজি বিভাগে রেকর্ড গড়ে ভারতকে দ্বিতীয় সোনা এনে দিয়েছেন তিনি। যদিও খেলা শেষ হওয়ার পর জেরেমির বিশ্বাস করতে অনেকটা সময় লেগেছিল, যে তিনি দেশের হয়ে সোনা জিতেছেন। কারণ তিনি চোটের জেরে তখনও রীতিমত কাঁতরাচ্ছেন। জেরেমিকে চোখের জলে ভেসে আবেগতাড়িত হতে দেখল গোটা স্টেডিয়াম।

যাকে আইডল বলে পুজো করেন জেরেমি লালরিনুঙ্গা, সেই মীরাবাই চানুও ভারতকে দুর্দান্ত পারফর্ম করে সোনা এনে দিয়েছিলেন, তিনিও এদিন স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন। আর পাঁচজন সেরা অ্যাথলিটদের মত স্ন্যাচে নিজের সেরাটা দিয়েছিলেন জেরেমি। সেই ধাপে ১৪০ কেজি ওজন তুলেছিলেন এই ভারোত্তোলক। এরপরই ক্লিন অ্যান্ড জার্কে তিনি তুলে নেন ১৬০ কেজি। মোট ৩০০ কেজির ওজন তুলে কমনওয়েলথ গেমসে রেকর্ড গড়ে সোনা জিতেছেন মিজোরামে জেরেমি। যদিও এই ক্লিন অ্যান্ড জার্কে বেশি ওজন তুলতে গিয়ে পেশিতে টান ধরে তাঁর। তখন ভেবেই নিয়েছিলেন, এবারও হয়ত স্বপ্নের এত কাছ থেকে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু ভবিতব্য হয়ত আগেই লেখা ছিল। তাই দেশকে দ্বিতীয় সোনাটা তিনিই এনে দিলেন।

 

শুধু ভারোত্তোলনেই সেরা প্রদর্শন করছে না ভারত। দেশের অন্যতম চর্চিত খেলা হকিতেও দাপটের সঙ্গে খেলেছে ভারতীয় পুরুষ হকি দল। রবিবার মনপ্রীত সিংহরা বিপক্ষের খেলোয়াড়দের নিয়ে মাঠে রীতিমত ছিনিমিনি খেলেছে। প্রসঙ্গত এদিনই তাঁরা প্রথমবারের জন্য খেলতে নেমেছিলেন। সেই ম্যাচে ঘানাকে একের পর এক গোলের মালা পড়িয়েছেন মনপ্রীত, হরমনপ্রীতরা। স্বাভাবিকভাবেই খেলার মীমাংসা হয় ১১-০ গোলে।

এদিকে সেমিফাইনাল যাওয়ার পথ প্রশস্ত করলেন ভারতীয় শাটলাররা। রবিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মিক্সড দলের কোয়ার্টার ফাইনালে অশ্বিনী পোনাপ্পা ও সুমিত রেড্ডি বিপক্ষের জারেড এলিয়ট এবং ড্রাইড্রে জর্ডনকে ২১-৯, ২১-১১ সেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন। এরপর শাটলার তারকা লক্ষ্য সেন কোর্টে নেমেই স্ট্রেট গেমে মন দেন। গেমে তিনি ২১-৫, ২১-৬ ব্যবধানে কাডেন কাকোরাকে হারিয়ে দেন খুব সহজেই। তৃতীয় ম্যাচের শুরু থেকেই আকর্ষি কাশ্যপের দাপটের মুখে পড়তে হয় জোহানিতা সল্টসকে। ২১-১১ এবং ২১-১৬ র সেটে ভারতীয় শাটলার জয় লাভ করেন।

এইবছর থেকেই কমনওয়েলথ গেমসে শুরু হয়েছে ক্রিকেট ম্যাচও। আর সেই ম্যাচে মাঠে নেমেই দুর্দান্ত প্রদর্শন করল ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল। ক্রিজে নেমে প্রথমে ১৮ ওভারে ৯৯ রানে খেলা শেষ হয় পাকিস্তানের। এরপর ব্যাট করতে নেমে ২ উইকেটের বিনিময়ে মাত্র ১২ ওভারেই কাঙ্খিত রান তুলে ৮ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল।

About Post Author