Home » পবিত্র মহরম মাসের আশুরা কোন ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলছে?

পবিত্র মহরম মাসের আশুরা কোন ইতিহাস বয়ে নিয়ে চলছে?

সময় কলকাতা ডেস্ক : ইসলাম ধর্মের চার পবিত্র মাসের অন্যতম হল মহরম যা কিনা হিজরী সনের প্রথম মাস।মহরমের অর্থই পবিত্র।মহরমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক যুগান্তকারী ইতিহাস, যে ইতিহাস রক্তাক্ত, যে ইতিহাস বেদনা আর শোকের। মহরমের পৃথক সম্মান পাওয়ার পেছনে রয়েছে আশুরা যার অর্থ দশম। কী ইতিহাস জড়িয়ে আছে মহরমের দশম দিনের সঙ্গে তা  জেনে নেওয়া যাক।

বলা হয় আশুরার দিনে আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু যেজন্য আশুরার দিনটি এত শোকের তার পেছনে রয়েছেন এক মহাপুরুষ যার নাম হজরত ইমাম হোসেন (হোসাইন)। তিনি ছিলেন পয়গম্বর হজরত মুহাম্মদের দৌহিত্র (নাতি ) এবং হজরত আলির তিন পুত্রের অন্যতম।সে সময় এজিদ (ইয়াজিদ ) নিজেকে খলিফা মনে করে বর্তমান ইরাক -ইরানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের শাসনভার হাতে নেন ও নিজেকে খলিফা মনে করতে শুরু করেন । এজিদ ছিলেন নিষ্ঠুর, নির্মম – যার না ছিল মনুষ্যত্ব, না ছিল পাপ-পুণ্য বোধ তথা ধর্মবোধ। এজিদ ছিলেন ইমাম হোসেনের শত্রুভাবাপন্ন  এবং ইমাম তাঁর বশ্যতা স্বীকারে রাজি ছিলেন না।বর্তমান বাগদাদ থেকে ১৭০ কিলোমিটার দূরের কুফায় তাঁকে প্রাদেশিক শাসনকর্তার মাধ্যমে অনুরোধ পূর্বক পরিবার পরিজন ও সঙ্গীসাথী সহ পাঠানো হয়, এবং এর ফলে তিনি সুরক্ষিত থাকবেন বলে আশ্বস্ত করা হয়। এজিদ পরিকল্পনা করে দ্রুত প্রাদেশিক শাসনকর্তার পরিবর্তন ঘটান এবং তাঁকে আক্রমণের হাতিয়ার করেন।বাগদাদ থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরের কারবালা প্রান্তরে  ছাউনি ফেলেন ইমাম হোসেন। মহান ইমামের পরিজন যারা সংখ্যায় ছিলেন বড়জোড় মাত্র দেড়শো জন, তাঁদের প্রায় চার সহস্র সৈন্য ঘিরে ফেলে এবং নিরাপদ থাকতে ইমাম হোসেনকে সদলবলে আত্মসমর্পন করতে বলা হয়। অসম্মান, অধৰ্ম ও অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করার নীতি যুদ্ধকে শ্রেয় মনে করেন ইমাম হোসেন।আশুরায় ৭২ জন পবিত্র মাসের যোদ্ধা শুরু করেন অসম যুদ্ধ যাদের রক্তে রাঙা হয়ে ওঠে কারবালা প্রান্তর। কথিত আছে, যুদ্ধ শেষে ৭১ জন সঙ্গীর মৃতদেহ নিজের কাঁধে বয়ে আনেন ইমাম হোসেন। অবশিষ্ট ছিল নারী ও শিশুরা। পরিত্রান পান নি কেউ। এজিদের বাহিনী মহান ইমাম হোসেনের শিরচ্ছেদ করে, শিশু ও নারীদের যুদ্ধবন্দী করা হয়।ইমাম হোসেনকে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মুসলিম শিয়া ও সুন্নীরা।ইমাম হোসেনের পরিবার ও সঙ্গীদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পবিত্র মাসের দশম দিনে শোক পালনের মধ্যে পালিত হয় মহরম।।

 

About Post Author