Home » লাগাতার বিদ্রোহে বিপর্যস্ত কংগ্রেস

লাগাতার বিদ্রোহে বিপর্যস্ত কংগ্রেস

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ২০২৪ এ লোকসভা নির্বাচন নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। লোকসভা ভোটের আগে বেশ কয়েকটি রাজ্যে রয়েছে বিধানসভা ভোট। ছোট বড় বিভিন্ন আঞ্চলিক দল এবং জাতীয় দল তাদের প্রস্তুতি শুরু করে দিলেও, গোষ্ঠী কোন্দলে এক প্রকার বিপর্যস্ত কংগ্রেস। কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় ১০০০ কোটি টাকার সম্পত্তি সিল করার পরে কংগ্রেস অনেকটাই ব্যাক ফুটে। ইডি তলব নিয়ে সংসদের সামনে কংগ্রেস সাংসদদের বিক্ষোভ এবং দেশজুড়ে কংগ্রেসের বিক্ষোভ সেই অর্থে খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি জনমানসে।

এবার কাশ্মীরে বড়সড় ধাক্কা খেল কংগ্রেস। আর সেই ধাক্কার ফলে কংগ্রেসের দৈনদশা অনেকটাই প্রকট। জম্মু-কাশ্মীরে নির্বাচনী প্রচার কমিটির থেকে সরে দাঁড়ালেন কাশ্মীরের বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী গুলাম নবী আজাদ। আজাদের পদত্যাগে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, আবার কি তাহলে কংগ্রেসে বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলো? প্রসঙ্গত চলতি বছরের জুলাই মাসে কাশ্মীরের কংগ্রেসের সভাপতি পথ থেকে সরে দাঁড়ান গুলাম নবী আজাদ ঘনিষ্ঠ নেতা গুলাম আহমেদ মীর। মীরের পদত্যাগের পরেই, জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে কংগ্রেস শিবিরে অসন্তোষ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছিল। জম্মু ও কাশ্মীরের একাধিক কংগ্রেস নেতা প্রকাশ্যেই হাইকমান্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন। তাদের বক্তব্য ছিল জম্মু-কাশ্মীরের সভাপতি গুলাম আহমেদ মীরের পদত্যাগ বিনা আলোচনাতেই কেন গ্রহণ করেছিল হাইকমান্ড। সেই ঘটনার ফলশ্রুতি হিসেবেই গুলাম নবী আজাদের পদত্যাগ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিভিন্ন রাজ্যেই দলের বিরুদ্ধে কখনো সোচ্চার হয়েছেন সাংসদ ,বিধায়ক আবার কখনো সোচ্চার হয়েছেন সাধারণ কর্মীরা। চলতি বছরের জুলাই মাসেই গোয়াতে কার্যত দলের বিরুদ্ধে অবস্থান করেছিলেন মাইকেল লোগো ও দিগম্বর কামাথ। তখনকার মতন পরিস্থিতি সামাল দিলেও, বিদ্রোহের আঁচ যে ধিকি ধিক করে জ্বলছে সে কথাও মেনে নিয়েছেন কংগ্রেসের জাতীয় স্তরের একাধিক নেতা।দুঁদে আইনজীবী ও কংগ্রেস নেতা কপিল সিব্বাল প্রকাশ্যেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। পরবর্তী ক্ষেত্রে তিনি সমাজবাদী পার্টির সমর্থন নিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন। অন্যদিকে রাজস্থানের জালোর জেলার সুরানা গ্রামের ইন্দ্র মেঘওয়ালের জাতিগত হিংসার কারণে মৃত্যু নিয়ে রাজস্থান কংগ্রেসের ভিতর সৃষ্টি হয়েছে আড়াআড়ি বিভাজন। রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহেলটের সরকারের বিরুদ্ধেই প্রশাসনিক অপব্যবহার এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার অভিযোগ এনেছেন কংগ্রেসের আরেক নেতা শচীন পাইলট। দলিত ছাত্রের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়েছেন বাঁরোআটরু কেন্দ্রের কংগ্রেস বিধায়ক পানা চন্দ্র মেঘওয়াল।তার অভিযোগ পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণেই জাতিগত হিংসা বাড়ছে। সেক্ষেত্রে অশোক গেহলটকেই পরোক্ষভাবে দায়ী করেছেন মেঘওয়াল। সরকারিভাবে কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণে শচীন পাইলট সরাসরি দেখা করতে চলে যান মৃত দলিত ছাত্রের বাড়িতে। ফলে চরম অস্বস্তিতে পড়ে গেহলট সরকার।

সরকারের বিরুদ্ধে নিজের দলের নেতারা প্রশ্ন তোলায় অস্বস্তি এড়াতে গেহলট সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য তথা প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান গোবিন সিং দোতাসরাকে তড়িঘড়ি মৃত দলিত ছাত্রের বাড়ি পাঠায় অশোক গেহলট। জাতিগত হিংসার কারণে দলিত ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজস্থান কংগ্রেস শিবিরে যথেষ্ট ফাটল দেখা দিয়েছে ।যে ফাটলে অশনি সংকেত দেখছে হাইকমান্ড। রাজস্থানের উদয়পুরে চিন্তন শিবিরের আয়োজন করেছিল কংগ্রেস। যে শিবির থেকে নতুন করে দলকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা ছিল কংগ্রেস হাইকমান্ডের। দলিত ছাত্রের মৃত্যুতে দলে যে বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে, সেই বিভাজনের ফলে কংগ্রেস হাইকমান্ডের দল সাজানোর পরিকল্পনা কার্যত বিশ বাও জলে। বিগত দিনের বেশ কয়েকটি নির্বাচনে বিভিন্ন রাজ্যে হারের মুখ দেখতে হয়েছে কংগ্রেসকে। ফলে ২০২৪ এর লোকসভা নির্বাচন এবং তার আগে বিভিন্ন রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ,কতটা দলীয় নেতাদের বিদ্রোহ প্রশমিত করে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে কংগ্রেস ।সে সম্বন্ধে যথেষ্টই সন্ধিহান রাজনৈতিক মহল।

About Post Author