সময় কলকাতা ডেস্ক : ” ঝড় যেমন করে জানে অরণ্যকে / তেমনি করে তোমায় আমি জানি। ”
কবি হিসেবে তাঁর যখন আবির্ভাব তখন বাংলা কাব্য আকাশ ছেয়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ ও সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত।১৯৩২ সালে তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ “প্রথমা” প্রকাশের পরে বুদ্ধদেব বসু বলেছিলেন ” আকাশে এক নতুন তারার উদয় হ’লো।মুগ্ধ হয়ে গেলাম। ” তিনি আরও অনেক কাব্যগ্রন্থ লিখেছেন সম্রাট, ফেরারি ফৌজ, সাগর থেকে ফেরা, অথবা কিন্নর প্রভৃতি। তিনি প্রেমেন্দ্র মিত্র।কল্লোল যুগের বিখ্যাত কবি প্রেমেন্দ্র মিত্রকে খালি কবিতার গন্ডিতে বেঁধে রাখা যায় না। বস্তুতপক্ষে, এরকম বহুমুখী প্রতিভার লেখক বাংলা সাহিত্যে বিরল। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন অবাধ বিচরণ আর কোনও লেখকের ছিল কিনা বলা খুব কঠিন । কবিতা, উপন্যাস,ছোটগল্প,কল্পবিজ্ঞান, ভৌতিক গল্প, ডিটেকটিভ বা এডভেঞ্চার গল্প, কিশোর রচনা প্রতিটি শাখায় তিনি ছিলেন সমান স্বচ্ছন্দ ও সাবলীল। তবে তিনি সাহিত্যপ্রেমী আবালবৃদ্ধবনিতার অধিক জনপ্রিয় ঘনাদা চরিত্রের স্রষ্টা হিসেবে।
১১৮ বছর আগে, ১৯০৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৪ তারিখ বেনারসে জন্মেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। তাঁদের পরিবার কোন্নগরের বাসিন্দা হলেও, প্রেমেন্দ্র মিত্র ছিলেন রাজপুরের বাসিন্দা। লেখক প্রেমেন্দ্র চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে খ্যাতনামা হলেও তাঁর লেখক হিসেবে মুন্সিয়ানা নিয়েই এই আলোচনা।
“শুধু কেরানী ” গল্পের মাধ্যমে তাঁর ১৯২৪ সালের প্রবাসীতে গল্পকার হিসেবে হিসেবে আত্মপ্রকাশ। ১৯২৬ তাঁর উপন্যাস “পাঁক ” প্রকাশিত হয়। ‘ঘনাদা: অনেক পরিণত বয়সের ফসল। ঘনাদার প্রথম প্রকাশ ১৯৪৫ সালে। ইতিমধ্যে বিজ্ঞানভিত্তিক আরও বেশ কিছু লেখা লিখেছিলেন। চল্লিশের দশক থেকে ঘনাদা ও মামা বাবুকে নিয়ে একের পর এক বিজ্ঞান আশ্রয়ী বা এডভেঞ্চার লেখা উপহার দিতে থাকেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। ঘনাদাকে নিয়ে রচনা গুলগল্পের আঙ্গিকে হলেও ভূগোল ও বিজ্ঞানের তথ্যে সমৃদ্ধ, অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসকেও ছুঁয়ে গিয়েছেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। ৭২নং বনমালী নস্কর লেনে ঘনাদার ডেরা থেকে মিলত দেদার খাওয়া দাওয়া এবং উইট- হিউমার দিয়ে শুরু হওয়া একেকটি আশ্চর্য তথ্যসমৃদ্ধ অভিযানের ইতিহাস যা শেষ হত অসামান্য মোচড় দিয়ে। মামা বাবুকে নিয়ে লেখা কাহিনীগুলিও একেকটি মুক্তো।
প্রেমেন্দ্র মিত্র সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্র পরাশর বর্মা চরিত্রও একদমই স্বতন্ত্র। বেশ কয়েকটি উঁচুমানের ডিটেকটিভ উপন্যাসের উপহার দিয়েছেন প্রেমেন্দ্র মিত্র। দুটি প্রকাশনা সংস্থার আইনি লড়াইয়ের জেরে বর্তমানে পরাশরের বেশ কিছু কাহিনী এখন পাওয়া যায় না। এছাড়াও ভূত শিকারী মেজকর্তা নামে আরেকটি অত্যাশ্চর্য চরিত্র সৃষ্টি করেছিলেন প্রেমেন্দ্র মিত্র।।


More Stories
বাংলা নববর্ষের ইতিহাস
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
বেজি কি সাপের বিষে কাবু হয় না?