Home » পুলিশ-ডাকাতের রুদ্ধশ্বাস গুলির যুদ্ধ

পুলিশ-ডাকাতের রুদ্ধশ্বাস গুলির যুদ্ধ

সময় কলকাতা ডেস্কঃ এ যেন কোন সিনেমার দৃশ্য। ডাকাত পুলিশের গুলির লড়াই। “ফায়ার- পাল্টা ফায়ার” গুলির আওয়াজে ভীত সন্ত্রস্ত সাধারণ মানুষ ছুটে বেড়াচ্ছে এদিক-ওদিক। তবে সিনেমা নয় ,বাস্তবেই এ দৃশ্য দেখা গেল ঝাড়খণ্ডের ধানবাদের ব্যাঙ্ক মোড়ে। ব্যাঙ্ক মোড়ে অবস্থিত মুথুট ফিন্যান্সের অফিসে ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঢোকে কয়েকজন  ডাকাত। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসে বিশাল পুলিশ বাহিনী।

ধানবাদের ব্যাঙ্ক মোড় থেকে ১৫০ মিটার দূরে থানা। ফলে থানায় কর্তব্যরত সমস্ত পুলিশ কর্মী সার্ভিস রিভলবার এবং বন্দুক নিয়ে চলে আসেন ঘটনাস্থলে। প্রথমে পুলিশের পক্ষ থেকে ডাকাতদের আত্মসমর্পণ করার জন্য মাইকিং করে বলা হয়। কিন্তু ডাকাতরা আত্মসমর্পণ না করে পুলিশের উদ্দেশ্যে গুলি চালানো শুরু করে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালালে এক ডাকাতের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।

বাকি ডাকাতেরা দরজা খুলে রাস্তা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। যেহেতু ব্যাঙ্ক মোড় খুবই জনবহুল এলাকা সে কারণেই খবর পেয়ে প্রচুর মানুষ উপস্থিত ছিল ঘটনাস্থলে। কয়েকজন ডাকাতকে তাড়া করে ক্ষিপ্ত জনতা। ২ ডাকাতকে লক্ষ্য করে পুলিশ গুলি চালালে পায়ে গুলি লেগে পড়ে যায় ২ ডাকাত। পুলিশের অনুমান, মোট ১০ জন ডাকাত এসেছিল ডাকাতির উদ্দেশ্যে। যার মধ্যে ২জন এখনও এলাকাতেই লুকিয়ে রয়েছে বলে ধারনা। জনগণের ভিড়ে মিশে গিয়ে বাকি ৫ ডাকাত পালাতে সক্ষম হয়েছে।

ব্যাঙ্ক মোড় থানার পুলিশ কর্মী প্রমোদ কুমার সিংকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় ডাকাতরা। তা সত্ত্বেও ভয়ে পিছপা হননি এই পুলিশকর্মী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কর্তব্যে অবিচল ছিলেন তিনি। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ডাকাতির উদ্দেশ্য ব্যর্থ করায় পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

ডাকাতদের কাছে যে সমস্ত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সবই প্রায় দেশী সিঙ্গেল শাটার। অত্যাধুনিক অস্ত্র ডাকাতদের কাছে ছিল না। ফলে পুলিশের অনুমান আশেপাশের অঞ্চলের দুষ্কৃতীকারীরাই ডাকাতির ছক কষে ছিল। এর আগেও এই ধানবাদ শহরে বিগত ২ মাসে ২বার সোনার দোকানে ডাকাতির ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। বারবার দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ জনগণ প্রশাসনের ভূমিকায় যথেষ্টই খুশি।

About Post Author