Home » নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে মধ্যপ্রদেশের অরণ্যে ছাড়া হবে চিতা

নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে মধ্যপ্রদেশের অরণ্যে ছাড়া হবে চিতা

সময় কলকাতা ডেস্কঃ ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিন উপলক্ষে মধ্যপ্রদেশের অরণ্যে ছাড়া হবে চিতা। ওইদিনই সেখানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। এবার নিজের জন্মদিনে মধ্যপ্রদেশের কুনোর পালপুর জাতীয় উদ্যানে উপস্থিত থেকে আফ্রিকা থেকে আসা ৫টি চিতা জঙ্গলে ছাড়বেন নরেন্দ্র মোদী। প্রধামন্ত্রীর জন্মদিনে তাঁর উপস্থিতিতে চিতা ছাড়ার ঘটনা যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই স্বাধীনতার পর আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, এই প্রথম দেশের কোনও অরণ্যে ছাড়া হবে চিতা।

জানা গিয়েছে, আফ্রিকা থেকে ৫টি চিতা আসছে। আগামী ১৭ তারিখ সেগুলিই কুনোর জাতীয় উদ্যানে ছাড়বেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মঙ্গলবার মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান একটি টুইট করে এমনটাই জানিয়েছেন। নামিবিয়ার রাজধানী উইন্ডহোক থেকে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি চিতা আনা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরও জানান যে, কুনোর জঙ্গলে চিতা ছাড়ার পাশাপাশি শেওপুরের কারাহালে মহিলাদের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির একটি অনুষ্ঠানেও নরেন্দ্র মোদী উপস্থিত থাকবেন।

১৯৪৭ সালে,স্বাধীনতার পরই দেশের শেষ চিতাটির মৃত্যু হয় ছত্তিশগড়ের কোরিয়া জেলায়। সেই সময় ওই অঞ্চলটি মধ্যপ্রদেশের অন্তর্গত ছিল। রামানুজ প্রসাদ সিংহদেওর গুলিতে মারা পড়েছিল ভারতের শেষ চিতাটি। তার পাঁচ বছর পর অর্থাৎ ১৯৫২ সালে ভারতে চিতা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে বলে ঘোষণা করে তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার। এরপর ২০০৯ সালে ভারতে এই পশুটিকে ফিরিয়ে আনার প্রকল্পটি শুরু হয়। গত বছরের নভেম্বর মাসেই আফ্রিকা থেকে চিতা নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউনের কারণেই তা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কুনোর পালপুর জাতীয় উদ্যানের আধিকারিকরা। এরপর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে চিতা আনার জন্য সবুজ সংকেত মেলে সুপ্রিমকোর্ট থেকে। এবছর জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র সিংহ ঘোষণা করেন যে, ভারতের অরণ্যে আবার ফিরতে চলেছে ৭০ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া চিতা। আর তা হতে চলেছে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্মদিনে।

মধ্যপ্রদেশের কুনোর জাতীয় উদ্যানটি ৭৫০ বর্গ কিলোমিটারের বেশি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এটি চিতাদের থাকার জন্য আদর্শ স্থান বলে মনে করছেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। পর্যাপ্ত জায়গার পাশাপাশি খাবারও পাওয়া যায় এখানে। তাই, আফ্রিকা থেকে নিয়ে আসা চিতাগুলিকে এখানেই ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে কুনোর জাতীয় উদ্যানটিকে চিতার উপযুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে বলে সরকারি তফরে জানানো হয়েছে। গোটা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে দক্ষিণ আফ্রিকার পরিবেশ মন্ত্রকের একটি দল ইতিমধ্যেই ওই জাতীয় উদ্যানে পৌঁছেছে। ধীরে-ধীরে ভারতের অন্যান্য অরণ্যগুলিতেও চিতা থাকার উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলা হবে এবং পর্যায়ক্রমে চিতা ছাড়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রক।

About Post Author