Home » মালদহের জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস

মালদহের জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাস

সময় কলকাতা ডেস্কঃ রাজাও নেই, রানিও নেই, নেই রাজ-আমলও। জমিদারির পাট চুকেছে বহুকাল। তবুও রয়ে গিয়েছে ঐতিহ্য। মালদহের চাঁচলের এমনই এক বিখ্যাত জমিদার বাড়ির পুজোকে ঘিরে রয়েছে নানান অলৌকিক ঘটনা। জমিদার বাড়ি আর দুর্গাপুজোর মধ্যে যে সুক্ষ সুতো,তা আজও রয়ে গিয়েছে। চাঁচল শহর থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে অবস্থিত কলিগ্রামের কাছারিপাড়া। আর সেখানেই বসত ছিল রায় চৌধুরী পরিবারের। জানা গিয়েছে, নবাব আলীবর্দী খাঁ-র আমল থেকে হয়ে আসছে এই জমিদার বাড়ির পুজো। বর্তমানে এই পুজো ৩৫০ বছরে পা দিতে চলেছে।

চৌধুরী পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,প্রায় কয়েকশো বছর আগে এই এলাকায় রাজত্ব করতেন নবাব আলীবর্দি খাঁ। বদলরাম রায়চৌধুরী নামে নবাবের এক বিশ্বস্ত নায়েব ছিলেন। একবার প্রচন্ড খড়ার সময় নবাবের কর আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন বদলরাম রায় চৌধুরী। আর সেই অপরাধে নবাব আলীবর্দি খাঁ সাজা দেন বদলরাম চৌধুরীকে। তার সমস্ত শরীরে সহস্র চাবুক মেরে বাক্সবন্দী করে ভাসিয়ে দেওয়া হয় মহানন্দার জলে। এরপর নদীর পারে থাকা এক সন্ন্যাসী সেই বাক্স দেখতে পেয়ে আধমরা অবস্থায় উদ্ধার করে বদলরাম রায় চৌধুরীকে। তিনি যথাসাধ্য সেবা করে সুস্থ করে তোলেন বদলরাম কে। সেই সন্ন্যাসীর আশ্রমে থাকাকালীনই একদিন দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান বদলরাম রায় চৌধুরী। দেবী তাকে আদেশ দেন নবাব আলীবর্দী খাঁর সম্মুখীন হতে এবং তাকে যে পরগনা দান করা হবে সেই পরগনায় দেবী কে প্রতিষ্ঠা করতে। এরপর বদলরাম রায়চৌধুরী সুস্থ হওয়ার পর একদিন হঠাৎ নবাব আলীবর্দী খাঁর সামনে গিয়ে হাজির হন। বদলরাম রায়চৌধুরীকে জীবিত অবস্থায় দেখে তো চক্ষু চড়ক গাছ হয়ে যায় নবাবের।

তবে গোটা ঘটনা জানার পরই নবাব আলীবর্দী খাঁ বদলরাম রায় চৌধুরীকে পাঁচটি পরগনা দান করেন। সেই পাঁচটি পরগনার মধ্যে একটি পরগনা ছিল কলিগ্রাম পরগনা। আর সেখানেই কাছারিপাড়ায় দেবী দুর্গাকে প্রতিষ্ঠা করেন বদলরাম রায় চৌধুরী। সেই পুরানো রীতি মেনে আজও বদলরাম রায়চৌধুরীর পুজো হয়ে আসছে। প্রতিপদের দিন থেকে শুরু হয়ে যায় দেবীর ঘট পুজো। দেবীকে এখানে এক চালায় ডাকের সাজে সাজিয়ে তোলা হয়। যদিও আগে এই পুজোয় পাঠাবলি প্রচলন থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রীতি আর নেই। তার পরিবর্তে চৌধুরী পরিবারের সদস্যরা মোহন ভোগের আয়োজন করেন। অষ্টমীর দিন কুমারী পুজোর রীতি থাকলেও এখানে নবমীর দিন কুমারী পুজো হয়। আর দশমীর দিন সকালে গোটা রায় চৌধুরী পরিবার সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। এরপর গোধূলি লগ্নে কলিগ্রামের রাণী দীঘিতে দেবীকে বিসর্জন দেওয়া হয়।

About Post Author