Home » অয়নের মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা ডিলিট না করা ভিডিওতে কী ছিল?

অয়নের মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা ডিলিট না করা ভিডিওতে কী ছিল?

সময় কলকাতা ডেস্কঃ কামরিপু,অবৈধ সম্পর্ক, যৌনতা, প্রতিশোধস্পৃহা – সবকিছু মিলেমিশে বিভিন্ন রগরগে থ্রিলারকেও হার মানিয়েছে অয়ন মণ্ডল খুনের ঘটনা। অয়ন খুনে ক্রমশ জটিল হচ্ছে রহস্য। তার মধ্যেও উঠে আসছে নতুন নতুন সূত্র।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মা ও মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকাকালীনই বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে রেখেছিল অয়ন মণ্ডল। যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে তাঁর মোবাইলেই স্টোর করা ছিল। বহুবার প্রীতি ও তার মা রুমা সেগুলি ডিলিট করার কথা বললেও অয়ন ডিলিট করেনি। ফলে সেই আক্রোশ থেকেই হত্যা করা হয়েছে অয়ন মণ্ডলকে। ঘটনার তদন্ত উঠে আসছে একের পর এক একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অয়ন কথা দিয়েও কথা রাখেনি। মোবাইলের কোনও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও সে আদতে ডিলিটই করেনি। পুলিশি জেরায় এমনটাই জানিয়েছে প্রীতি জানা ও তার বাবা-মা। এদিকে, এখনও পর্যন্ত কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি অয়নের মোবাইল ফোনটির। ওই মোবাইল ফোনটিকে টার্গেট করেই অয়নের উপর হামলা চালায় বান্ধবী ও তার পরিবার। এমনটাই তথ্য পাওয়া গিয়েছে পুলিশ সূত্রে।

জানা গিয়েছে,বান্ধবী ও তার মায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মূহুর্তে ছবি অয়ন প্রায়ই তুলে রাখত বলে অভিযোগ। এমনকী প্রীতি ও তার মায়ের আপত্তিকর কিছু ভিডিও ছিল অয়নের কাছে। মাঝেমধ্যেই অয়ন সেই ভিডিও ও ছবি গুলি নিয়ে ব্ল্যাকমেইল করত মা ও মেয়েকে। সেই নিয়েই অয়নের উপর চরম ক্ষোভ জন্মেছিল প্রীতির পরিবারের। সেই কারণেই খুনের পর অয়নের মোবাইলটি অন্য জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে,অয়নের বন্ধু রাজু প্রামানিককে জিজ্ঞাসাবাদ করার পরই পাওয়া গিয়েছে বিস্ফোরক তথ্য। পুলিশি জেরায় রাজু জানিয়েছেন, তিনি অয়নকে দশমীর রাতে হরিদেবপুর নতুনপল্লিতে বান্ধবী প্রীতি জানার বাড়িতে ছেড়ে আসেন। সে সময় প্রীতি জানা, রুমা জানা, প্রীতির ভাই বাড়িতেই ছিল বলে দাবি রাজুর। অয়নের বন্ধু আরও জানান যে , প্রীতির বাবা বাড়ি আসছে কিনা,সেদিকেই রাজুকে নজর রাখতে বলে অয়ন।

রাজু জানায় ওইদিন রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বাড়িতে ঢোকে প্রীতির বাবা। রাজু ফোন করে এ কথা জানাতেই অয়ন প্রীতিদের বাড়ির ছাদে লুকিয়ে পড়েন। এরপর থেকে বেশ কয়েকবার কথা হয় অয়ন ও রাজুর। এরপর রাত ২টা নাগাদ রাজু ফোন করেন অয়নকে। সে সময় ফোন ধরে কাঁদতে কাঁদতে অয়ন জানিয়েছিল তাঁর বুকে ব্যাথা করছে। মাথা ঘুরছে। প্রীতির মা ঘুষি মেরেছে তাঁকে।

এরপর অয়নের সঙ্গে রাজুর শেষ কথা হয় ৩টে নাগাদ। এরপর আর ফোনে পাওয়া যায়নি অয়নকে। পুলিশের অনুমান, এরপরই খুন করা হয় অয়ন মণ্ডলকে। তারপর দেহ লোপাটের জন্য মগরাহাটে নিয়ে যাওয়া হয় মৃতদেহ।।

About Post Author