Home » রেশন দুর্নীতির অভিযোগ খোদ রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে, চাঞ্চল্য মালদহে 

রেশন দুর্নীতির অভিযোগ খোদ রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে, চাঞ্চল্য মালদহে 

সময় কলকাতা ডেস্কঃ রেশনে দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত নিম্নমানের চাল। এমনকী তার মধ্যে থাকছে প্লাস্টিকের চাল। যা খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকেই। ফিঙ্গার প্রিন্ট নিয়ে পরিমাণ মতো দেওয়া হচ্ছে না রেশন সামগ্রী। এবার রেশন ডিলারের বিরুদ্ধে এমনটাই দুর্নীতির অভিযোগ তুলে রাস্তায় চাল ফেলে বিক্ষোভ দেখালেন মালদহ জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করেছেন রেশন ডিলার। অন্যদিকে গোটা অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস তৃণমূল নেতৃত্বের। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের পাড়ো গ্রামের রেশন ডিলার ধনঞ্জয় সাহা দীর্ঘদিন ধরেই রেশন সামগ্রী নিয়ে দুর্নীতি চালাচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিম্নমানের চাল দেওয়া হচ্ছে রেশন থেকে। এমনকি তার মধ্যে থাকছে প্লাস্টিকের চাল। সেই চালের ভাত খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে। ভাত রান্নার সময় মনে হচ্ছে কৃত্রিম চাল। বারবার রেশন ডিলার কে এই বিষয়ে জানালেও কোনোরকম সুরাহা মেলেনি। এছাড়াও তাদের আরও অভিযোগ যে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিলেও পরিমাণ মতন রেশন দেওয়া হচ্ছে না। গ্রামবাসীদের দাবি তাদেরকে পরিমাণ মত ভাল মানের রেশন সামগ্রী দিতে হবে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক তদন্তের দাবিও জানিয়েছে এলাকাবাসী। রেশন দুর্নীতি নিয়ে বিজেপি আক্রমণ করেছে তৃণমূলকে। পাল্টা কেন্দ্র সরকারের রেশন নীতি কে দায়ী করেছে তৃণমূল। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

এ বিষয়ে বিক্ষোভকারী এলাকাবাসী মানসার আলম বলেন, ‘এই ধরনের নিম্নমানের চাল দিলে সেই ভাত মানুষকে কি ভাবে বেশি দিন বাঁচবে। রেশন ডিলার একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছে। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করব প্রশাসন যাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করে।’

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে রেশন ডিলার ধনঞ্জয় সাহার ছেলে মানস সাহা বলেন,‘এই ধরনের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের কাছে যে ধরনের চাল আসছে আমরা সেটাই দিচ্ছি। যার যতটা পরিমাণে পাওয়ার কথা ততটাই দিচ্ছে। এর মধ্যে দুর্নীতির কিছু নেই।’

হরিশ্চন্দ্রপুর ১(বি) ব্লক তৃণমূল সভাপতি মানিক দাস বলেন, ‘অভিযোগটি আমি শুনেছি। প্রশাসনিক কর্তাদের বলব খতিয়ে দেখতে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট এর ক্ষেত্রে হয়ত বায়োমেট্রিক ব্যবস্থার কোন সমস্যা হয়েছে।’

পাশাপাশি এ বিষয়ে উত্তর মালদহ জেলার বিজেপি সাংগঠনিক সম্পাদক রূপেশ আগরওয়াল বলেন, ‘কেন্দ্র সরকার যথেষ্ট ভালো মানের রেশন সামগ্রী দেয়। রেশনের চুরি বন্ধ করার জন্য বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করেছে। কিন্তু তারপরেও কিছু অসাধু রেশন ডিলার দুর্নীতি করছে। কেন্দ্রের পাঠানো রেশন সামগ্রী পরিবর্তন করে দিচ্ছে। এতে মদত দিচ্ছে এখানকার শাসক দল।

 

এই এলাকায় রেশন দুর্নীতি নতুন কোন ঘটনা নয়। এর আগেও সাধারণ মানুষ অভিযোগ তুলেছে সঠিক পরিমাণে রেশন সামগ্রী না পাওয়ার। সরকারের পক্ষ থেকে যেখানে রেশন সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে মানুষের জন্য। সেখানে কিছু অসাধু লোকজনের মুনাফার চাহিদা মেটানোর জন্য দুর্নীতি হচ্ছে। সরকারের দেওয়া রেশন সামগ্রী পাল্টে দেওয়া হচ্ছে নিম্নমানের সামগ্রী। প্রশাসনের উচিত সমগ্র ব্যাপার খতিয়ে দেখে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।’

About Post Author