Home » শক্তি চট্টোপাধ্যায় : সংসারে সন্ন্যাসী লোকটা

শক্তি চট্টোপাধ্যায় : সংসারে সন্ন্যাসী লোকটা

পুরন্দর চক্রবর্তী, সময় কলকাতা :”অসুখ এক উদাসীনতা, অথচ সামাজিক / লোকটা কিছু, রহস্যময়, লোকটা কিছু কালো,/ নিজের ভালো করেনি তাই, অন্যে করে ভালো / সংসারে সন্ন্যাসী লোকটা কিছুটা নির্ভীকই’

তিনি প্রেম লিখেছেন তিনি লিখেছেন বিরহ।নির্ভীকভাবে তিনি লিখে গেছেন, উদাসীন ভাবেও লিখেছেন, লিখেছেন বাস্তব ও স্বপ্নময় সত্যের কথা। এই সত্যই শক্তি দেয়। শক্তিকে অনন্য করে।শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের আজ জন্মদিন।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সীমা বা গন্ডিকে কেবলমাত্র বাংলা ভাষার একজন উল্লেখযোগ্য কবি হিসেবে বেঁধে রাখা যায় না। তিনি ছিলেন ঔপ্যনাসিক,লেখক এবং অনুবাদক । তথাপি জীবনানন্দ দাশ উত্তর বাংলা কবিতার অন্যতম শক্তিশালী কলমের অধিকারী শক্তিকে বাঙালি চেনে মুলত কবি হিসেবে। ষাটের দশকে হ্যাঙরি আন্দোলনের অন্যতম জনক কবি হিসাবে তার পরিচিতি। বিংশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে শেষ দিক পর্যন্ত কবি হিসাবে তিনি যে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন,তা আজও রয়ে গিয়েছে বলার চেয়ে বলা ভালো যে আজকের দিনেও তাঁর প্রভাব উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে। এর কারণ প্রধানত তার কবিতার বিষয় ও গ্রহণযোগ্যতা এবং  তাঁর শব্দচয়ন , কবিতা শৈলীর মিষ্টতা ও কবিতার বাঁধুনি । তার ছন্দময় কবিতা দিয়ে যায় মুগ্ধতা। যে শব্দবন্ধ ও বাক্য রাশির মুগ্ধতা কাটলেও থেকে যায় তার কবিতার রেশ। তাঁর কবিতা হয়ে ওঠে আমার কবিতা আমাদের কবিতা, সবার কবিতা।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় ২৫ নভেম্বর ১৯৩৩ সালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণা জেলার জয়নগরে এক ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।তার মায়ের নাম কমলা দেবী এবং বাবা বামানাথ চট্টোপাধ্যায়। চার বছর বয়সে শক্তির পিতার মৃত্যু হয় এবং পিতামহ তার দেখাশোনা শুরু করেন।

কবির প্রচুর বিখ্যাত বই রয়েছে এবং অগণিত এমন কবিতা রয়েছে যারকথা স্বল্প পরিসরে বলে শেষ করা সম্ভব নয়।তবুও প্রভু নষ্ট হয়ে যাই,অবনী বাড়ি আছো, মানুষ বড় কাঁদছে, হে প্রেম হে নৈঃশব্দ , যেতে পারি কিন্তু কেন যাব বিশেষ উল্লেখযোগ্য। তিনি আনন্দ পুরস্কার পেয়েছিলেন, যেতে পারি কিন্তু কেন যাব গ্রন্থের জন্য ১৯৮৩ সালে তিনি সাহিত্য একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন। কিন্তু চার দশক ও তার বেশি সময় ধরে তিনি যে যেভাবে মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন পাঠকদের তা দিয়ে তিনি অনন্ত নক্ষত্র বীথির মতই অন্ধকারে জেগে থাকেন। মৃত্যুর ২৭ বছর পরেও তিনি থেকে যান পাঠকের হৃদয়েও আর সেটাই তার শ্রেষ্ঠ পুরস্কার।

শক্তির অগণিত শব্দবন্ধ প্রবাদের মত ব্যবহৃত হয় যেমন মানুষ বড় কাঁদছে।কবির শৈশবের পরবর্তী সময় থেকেই তিনি কবিতার মধ্যেই ছিলেন । উল্লেখ্য,১৯৪৮ সালে শক্তি কলকাতার বাগবাজারে আসেন এবং মহারাজা কাশিম বাজার পলিটেকনিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি হন।১৯৪৯ সালে তিনি প্রগতি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন এবং “প্রগতি” নামে একটি হাতে-লেখা পত্রিকা প্রকাশ করতে শুরু করেন, যার নাম পরবর্তীতে “বহ্নিশিখা” রাখা হয়। এরপর তিনি অনেক লিখেছেন, প্রতিটি ঋতুতে ভালোবাসা ছড়িয়ে রেখেছেন আর কবিতার মাধ্যমে। তবু হেমন্ত অবসানে , শীতের শুরুতে হেমন্তের অরণ্যে পোস্টম্যানের কথা বারবার চলেই আসে। আজ যে তার জন্মদিন।উচ্চারণ করা যাক তাঁর লেখা কবিতার যেখানে তিনি বলেছেন “আজ সেই ঘরে এলায়ে পড়েছে ছবি/ এমন ছিলনা আষাড় শেষের বেলা/ উদ্যানে ছিল বরষা পীড়িত ফুল/ আনন্দ ভৈরবী”। আজ কবি নেই। বেঁচে থাকলে আজ ৯০ বছর পা দিতেন কবি।আজ কবির জন্মদিনে তাঁর ছবি আর ছোট্ট স্মৃতিচারণার মধ্যে দিয়ে সময় কলকাতার শ্রদ্ধার্ঘ্য কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জন্য।অস্ত্রের গৌরবহীন একা শক্তির শেষদিকের কবিতায় কবি বলেছিলেন সুখে আছি। সুখে থাকুন কবি।পাঠকরা আজও কান পেতে রয়েছে।।

About Post Author