সময় কলকাতা ডেস্কঃ তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র সাকেত গোখলেকে গুজরাত পুলিশের গ্রেফতার নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার তৃণমূলের ৬ সাংসদের প্রতিনিধি দল যায় নির্বাচন কমিশনে। সেখানে কমিশনকে মূলত দুটি বিষয় নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছে বাংলার শাসকদল। একই এফআইআরে একবার জামিন পাওয়ার পর কীভাবে দ্বিতীয়বার পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করতে পারে? সেইসঙ্গে তৃণমূলের এও বক্তব্য, সাকেতকে গ্রেফতার করে জনপ্রতিনিধি আইন লঙ্ঘন করেছে গুজরাত পুলিশ।

উল্লেখ্য, সোমবার মধ্যরাতে রাজস্থানের বিমানবন্দর থেকে তৃণমূল মুখপাত্র সাকেত গোখলেকে গ্রেফতার করে গুজরাট পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিয়ে টুইট করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র তথা রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। টুইটে তিনি জানিয়েছেন, সোমবার রাতে দিল্লি থেকে বিমান ধরে জয়পুরে নামার পর বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে গ্রেফতার করে গুজরাটের পুলিশ। গোখলের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিনি শুধু নিজের মাকে ফোন করতে পেরেছিলেন। তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্রকে এভাবে গ্রেফতারির কারণ হিসেবে ডেরেক ও ব্রায়েন টুইটে জানান, অক্টোবরে গুজরাটের মোরবিতে সেতু বিপর্যয়ের জেরে সাকেত গোখলে একটি টুইট করে গুজরাট প্রশাসনের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তারপরেই গোখলের বিরুদ্ধে আহমেদাবাদ সাইবার সেলে অভিযোগ দায়ের হয়। পুলিশ সেই মামলায় সাকেত গোখলেকে গ্রেফতার করেছে। ডেরেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে অন্যমাত্রায় নিয়ে যাচ্ছে বিজেপি।
এরপর বৃহস্পতিবার জামিন পাওয়ার পরই নতুন করে তাঁকে ফের গ্রেফতার করা হয়েছিল। জানা গিয়েছে, মোরবি পুলিশের দায়ের হওয়া একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গোখলে কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের নেতা এবং রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন সাকেত গোখলের গ্রেফতারের প্রতিবাদ জানিয়ে একটি টুইট করে লিখেছিলেন.’জামিনের পরেও সাকেত গোখলেকে হয়রানি করছে গুজরাট পুলিশ। ৮ ডিসেম্বর রাত ৮.৪৫ মিনিটে ফের তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহমেদাবাদ সাইবার থানা থেকে বেরনোর সময় কোনও নোটিশ ছাড়াই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ ইতিমধ্যেই দুটি মামলাতেই জামিন পেয়েছেন গোখলে।

প্রসঙ্গত,গত ৩০ অক্টোবর,ছট পুজোরদিন সন্ধ্যাবেলায় প্রার্থনা চলাকালীন হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মোরবি জেলার মাচ্ছু নদীর উপরের শতাব্দী প্রাচীন ঝুলন্ত সেতু। মেরামতির কাজের জন্য গত সাত মাস বন্ধ ছিল সেতুটি। প্রায় ২ কোটি টাকা দিয়ে মেরামতির পর গুজরাটি নববর্ষে, অর্থাৎ গত ২৬ অক্টোবর খুলে দেওয়া হয় এই সেতু। এদিন ছট পুজো উপলক্ষে ব্রিজটির উপর প্রায় ৫০০ লোকের জমায়েত হয়েছিল। অত্যাধিক ভিড়ের চাপ সহ্য করতে না পেরেই ভেঙে পড়ে সেতুটি। ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জলে পড়ে যান সেতুর উপরে থাকা সমস্ত মানুষ। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় কমপক্ষে ১৪৫ জনের। এই দুর্ঘটনার সময় নির্বাচনী প্রচারের কারণে গুজরাটেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারই মাঝে ঘটে যায় এমন দুর্ঘটনা। এরপরই সেতু বিপর্যয়ের ঘটনায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় কেন্দ্রীয় সরকারকে।


More Stories
নীতিশ জমানা শেষ, বিহারের সম্রাট নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর বুলডোজার মডেল
আশা ভোঁসলের হার্ট অ্যাটাক
মোদি ও বিজেপিকে খোঁচা : আগাম জামিন পেলেন নিয়ে নেহা সিং রাঠোর