সময় কলকাতা ডেস্কঃ ডিসেম্বর তত্ত্ব নিয়ে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ডিসেম্বরের তিনটি তারিখ উল্লেখ করে তৃণমূলের একপ্রকার পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তারই মধ্যে ১২ এবং ১৪ ডিসেম্বর পেরিয়ে গেলেও কোনও পরিবর্তন আসেনি। এবার এই ডিসেম্বর তত্ত্ব নিয়ে মুখ খুললেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি জানান,’আমি কোনও তারিখের রাজনীতি করিনা। কারণ, আমার মতে শুধু ভোটটা তারিখ মিলিয়ে হয়। ‘

প্রসঙ্গত, নব্বইয়ের দশকে বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা সানি দেওয়লের ডামিনি সিনেমার একটি সংলাপ খুব হিট হয়েছিল। সংলাপটি ছিল কিছুটা এরকম ”লোগ ইনসাফকে লিয়ে আপনি জামিন-জায়দাদ বেচকে কেস লাডতে হে, অর লে যাতে হ্যা তো সির্ফ তারিখ পে তারিখ .. তারিখ পে তারিখ!” ছবিটি কতটা হিট হয়েছিল, তা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে, বাংলার রাজনীতিও যে ঠিক ‘তারিখ পে তারিখ’, এই সংলাপকেই জপের মালা হিসেবে সঙ্গী করে নিয়েছে, সে নিয়ে যে কোনও সন্দেহ নেই, তা আরও একবার প্রমাণ করল বাংলার জোড়াফুল-পদ্ম দুই শিবিরই। তবে, এই তারিখ কোনও আদালতের মামলা শুনানির তারিখ নয়। এটা হল বিজেপির ডিসেম্বর ধামাকার উত্তরসূরী।
উল্লেখ্য, ডিসম্বরে বাংলার সব থেকে বড় চোর ধরা পরবে বলে আগেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিছুদিন আগে তিনি সেই ধামাকায় তিনটি তারিখ যোগ করে বঙ্গ রাজনীতিতে আরও উত্তেজনা তৈরি করেন। এবার বিজেপির সেই ‘ডিসেম্বর বোমা’র পালটা দিলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। জানুয়ারি মাসের একটি তারিখ-সহ সময় জানিয়ে রাখলেন তিনি। শনিবার টুইটারে কুণাল ঘোষ লেখেন, “একজন নবীশ জ্যোতিষী অনেক তারিখ দিয়েছেন। এবার আমি একটা দিনক্ষণ জানাচ্ছি। এটা আমি এক অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর কাছ থেকে পেয়েছি। তিনি আমাকে বলেছেন, ডিসেম্বরে বিয়ের তারিখ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কোনও দিন নেই। কিন্তু ২০২৩ সালে ২ জানুয়ারির দুপুর ১২টা কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
শুভেন্দু অধিকারী যে তিনটি তারিখ দিয়েছিলেন, সেই তারিখ তিনটি হল ১২, ১৪ এবং ২১ ডিসেম্বর। এরমধ্যে, ১২ ডিসেম্বর হাজরা এবং ২১ ডিসেম্বর কাঁথিতে বিজেপির পক্ষ থেকে চোর ধরো অভিযান করা হবে বলেও হুঙ্কার দেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক।

প্রসঙ্গত, ৩ ডিসেম্বর কাঁথির জনসভা থেকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, জানুয়ারি মাসে তৃণমূলের দরজা তিনি খুলবেন। অর্থাৎ বিজেপি থেকে কোনও সাংসদ-বিধায়ক দলবদল করতে পারেন। এসবের মাঝেই এবার তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের এই ট্যুইট। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সেই দলবদলের দিনক্ষণ আগাম জানিয়ে দিলেন তৃণমূল মুখপাত্র? এদিন আরও একটি ট্যুইটে কুণাল ঘোষ জানান, “দরজা খোলার ব্যাপারে অনেক আবেদন আছে। সাংসদ, বিধায়ক ও সাংগঠনিক নেতাদের আবেদন আছে। তবে দরজা খোলা পুরোটাই অভিষেকের ব্যাপার।”


More Stories
মোথাবাড়ি কাণ্ডের অশান্তির নেপথ্য “খলনায়ক” মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার কিসের ইঙ্গিত?
আরেক অভিনেতা প্রণবের অকালপ্রয়াণ
মার্চেই বকেয়া ডিএ দেওয়ার উদ্যোগ : এসওপি জারি